লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিলেন কৃষকেরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের তীব্র সংকটের জেরে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা এক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ৫০ কেজি ওজনের এসব সারের বস্তা কৃষকেরা নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে পুলিশের অনুরোধে এ পর্যন্ত ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছিলেন না। অথচ খোলাবাজারে চড়া দামে ঠিকই সার পাওয়া যাচ্ছে। এই বৈষম্য ও সংকটের কারণে স্থানীয় চাষিদের মনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমছিল। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে রোববার সকালে, যখন কৃষকেরা দলবদ্ধ হয়ে ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সরবরাহের জন্য তিলাই ইউনিয়নের ডিলার ‘शाह আমানত ট্রেডার্স’-এর নামে ১ হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমের জন্য ডিলার ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করে গুদামে রেখেছিলেন। কিন্তু কৃষকেরা গুদামে গিয়ে বারবার খালি হাতে ফিরে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে আজ সকালে তারা জোটবদ্ধ হয়ে গুদামের তালা ভেঙে সার নিয়ে যান।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, উপজেলায় সারের মোট চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা হলেও বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে ডিলারের সার উত্তোলনের পরিমাণও ছিল বেশ কম। সার না পাওয়ার চরম আশঙ্কা থেকেই কৃষকেরা গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। কৃষকদের বুঝিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৩ বস্তা সার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকিগুলো উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার জানান, ওই ডিলারের উত্তোলিত ৩৪০ বস্তা সারের মধ্যে প্রায় ২০০ বস্তা কৃষকেরা নিয়ে গেছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বেশ কিছু সারের বস্তা ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি পরিস্থিতি পরিদর্শনে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। এদিকে অভিযুক্ত ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির দাবি হ্যাকারদের

কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিলেন কৃষকেরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৩:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের তীব্র সংকটের জেরে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা এক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ৫০ কেজি ওজনের এসব সারের বস্তা কৃষকেরা নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে পুলিশের অনুরোধে এ পর্যন্ত ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছিলেন না। অথচ খোলাবাজারে চড়া দামে ঠিকই সার পাওয়া যাচ্ছে। এই বৈষম্য ও সংকটের কারণে স্থানীয় চাষিদের মনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমছিল। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে রোববার সকালে, যখন কৃষকেরা দলবদ্ধ হয়ে ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সরবরাহের জন্য তিলাই ইউনিয়নের ডিলার ‘शाह আমানত ট্রেডার্স’-এর নামে ১ হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমের জন্য ডিলার ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করে গুদামে রেখেছিলেন। কিন্তু কৃষকেরা গুদামে গিয়ে বারবার খালি হাতে ফিরে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে আজ সকালে তারা জোটবদ্ধ হয়ে গুদামের তালা ভেঙে সার নিয়ে যান।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, উপজেলায় সারের মোট চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা হলেও বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে ডিলারের সার উত্তোলনের পরিমাণও ছিল বেশ কম। সার না পাওয়ার চরম আশঙ্কা থেকেই কৃষকেরা গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। কৃষকদের বুঝিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৩ বস্তা সার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকিগুলো উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার জানান, ওই ডিলারের উত্তোলিত ৩৪০ বস্তা সারের মধ্যে প্রায় ২০০ বস্তা কৃষকেরা নিয়ে গেছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বেশ কিছু সারের বস্তা ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি পরিস্থিতি পরিদর্শনে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। এদিকে অভিযুক্ত ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।