লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই দিনে ‘ঘুষ.সাইট’-এ ৮০৪ অভিযোগ, ১৩ কোটি ৬৫ লাখের দাবি

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোথায় এবং কত টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে তৈরি করা হয়েছে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site)। ২১ আগস্ট চালু হওয়া এই ওয়েবসাইটে ভুক্তভোগীরা নাম-পরিচয় গোপন রেখেই তাদের ঘুষ চাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারছেন। ওয়েবসাইটটি চালুর প্রথম দুই দিনেই ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

দুই বন্ধু সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ এই ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা। বিদেশের একটি ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা এটি তৈরি করেছেন। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য হলো, বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা ঘুষের অভিজ্ঞতাগুলোকে এক জায়গায় এনে কোন সরকারি দপ্তর বা সেবা ঘিরে ঘুষের অভিযোগ বেশি, তার একটি সামগ্রিক চিত্র তৈরি করা। তবে ওয়েবসাইটটি কোনো তদন্ত সংস্থা নয় এবং এটি দুর্নীতি দমন কমিশনের বিকল্প হিসেবেও কাজ করছে না। এছাড়া সাইটে জমা হওয়া কোনো অভিযোগই সত্য ঘটনা বা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে দাবি করছে না কর্তৃপক্ষ।

ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানাতে ব্যবহারকারীকে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের পরিমাণ এবং ঘটনার ফলাফল—এই পাঁচটি তথ্য দিতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি দুই মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব এবং এর জন্য কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন পড়ে না। নিরাপত্তার খাতিরে কোনো ব্যক্তি, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করার সুযোগ নেই। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর মডারেশনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা হয় এবং আক্রমণাত্মক বা অস্পষ্ট অভিযোগগুলো বাদ দিয়ে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৪৩০টি অভিযোগ এসেছে ঢাকা থেকে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬৭, রাজশাহীতে ৪৪, খুলনায় ৪৩, সিলেটে ৩৮, রংপুরে ৩৭, ময়মনসিংহে ৩০ এবং বরিশালে ১৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ঘুষ দিতে অস্বীকার করেছেন।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ওয়েবসাইটটি বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো এনজিও বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই। সাইফ কবির জানান, সাইটটি কত মানুষ ভিজিট করল তার চেয়ে বড় সাফল্য হলো, নাগরিকরা সেবা নিতে গিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা দেখে সচেতন হতে পারছেন এবং অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারছেন। সাইটে প্রকাশিত প্রতিটি রিপোর্টের সঙ্গে ‘আনভেরিফায়েড’ শব্দটি যুক্ত থাকে, কারণ প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে যাচাই করার সুযোগ ওয়েবসাইটটির নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হলেন মো. ইউনুস আলী

দুই দিনে ‘ঘুষ.সাইট’-এ ৮০৪ অভিযোগ, ১৩ কোটি ৬৫ লাখের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৪:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোথায় এবং কত টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে তৈরি করা হয়েছে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site)। ২১ আগস্ট চালু হওয়া এই ওয়েবসাইটে ভুক্তভোগীরা নাম-পরিচয় গোপন রেখেই তাদের ঘুষ চাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারছেন। ওয়েবসাইটটি চালুর প্রথম দুই দিনেই ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

দুই বন্ধু সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ এই ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা। বিদেশের একটি ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা এটি তৈরি করেছেন। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য হলো, বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা ঘুষের অভিজ্ঞতাগুলোকে এক জায়গায় এনে কোন সরকারি দপ্তর বা সেবা ঘিরে ঘুষের অভিযোগ বেশি, তার একটি সামগ্রিক চিত্র তৈরি করা। তবে ওয়েবসাইটটি কোনো তদন্ত সংস্থা নয় এবং এটি দুর্নীতি দমন কমিশনের বিকল্প হিসেবেও কাজ করছে না। এছাড়া সাইটে জমা হওয়া কোনো অভিযোগই সত্য ঘটনা বা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে দাবি করছে না কর্তৃপক্ষ।

ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানাতে ব্যবহারকারীকে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের পরিমাণ এবং ঘটনার ফলাফল—এই পাঁচটি তথ্য দিতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি দুই মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব এবং এর জন্য কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন পড়ে না। নিরাপত্তার খাতিরে কোনো ব্যক্তি, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করার সুযোগ নেই। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর মডারেশনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা হয় এবং আক্রমণাত্মক বা অস্পষ্ট অভিযোগগুলো বাদ দিয়ে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৪৩০টি অভিযোগ এসেছে ঢাকা থেকে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬৭, রাজশাহীতে ৪৪, খুলনায় ৪৩, সিলেটে ৩৮, রংপুরে ৩৭, ময়মনসিংহে ৩০ এবং বরিশালে ১৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ঘুষ দিতে অস্বীকার করেছেন।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ওয়েবসাইটটি বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো এনজিও বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই। সাইফ কবির জানান, সাইটটি কত মানুষ ভিজিট করল তার চেয়ে বড় সাফল্য হলো, নাগরিকরা সেবা নিতে গিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা দেখে সচেতন হতে পারছেন এবং অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারছেন। সাইটে প্রকাশিত প্রতিটি রিপোর্টের সঙ্গে ‘আনভেরিফায়েড’ শব্দটি যুক্ত থাকে, কারণ প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে যাচাই করার সুযোগ ওয়েবসাইটটির নেই।