লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলকে রক্ষা ও মার্কিন আধিপত্য টিকিয়ে রাখতেই মক্কা চুক্তি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্বার্থে দায়িত্ব পালনের জন্য একটি ‘মধ্যপ্রাচ্য’, ‘আরব’ বা ‘মুসলিম ন্যাটো’ গঠনের প্রয়াস। এই চুক্তিকে অনেকেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে জোট হিসেবে দেখলেও, বাস্তবে এটি শীতল যুদ্ধের সময়কার মার্কিন নীতিরই একটি আধুনিক সংস্করণ। সেই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমাপন্থী শাসনব্যবস্থা এবং তাদের নীরব মিত্র ইসরাইলকে সুরক্ষিত রাখা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তিন দেশ চুক্তিতে সই করায় তিনি খুবই খুশি। নতুন এই চুক্তিটি ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত ‘সেন্ট্রাল ট্রিটি অর্গানাইজেশন’ বা ‘বাগদাদ প্যাক্ট’-এর আদলে তৈরি। মক্কা চুক্তি ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ৩০ জুলাই সৌদি আরব আরও ১৩টি দেশকে নিয়ে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ (এমএমডিএ) গঠন করে। এই জোটটি মূলত ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’-এর উত্তরসূরি।

মক্কা চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র মিসর ও জর্ডানের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরাইলি আগ্রাসনের শিকার হলে সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় তারা এতে যোগ দেয়নি। এছাড়া ইসরাইলপন্থী কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, নতুন এই চুক্তি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশীদারদের দুর্বল করতে পারে। তবে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ফেলো স্টিভেন এ কুকের মতে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে নতুন বিকল্প খুঁজছে। কিন্তু তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং সৌদি ও পাকিস্তান দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র হওয়ায়, এই জোটের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্বের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করা বাস্তবসম্মত নয়।

মক্কা চুক্তি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক। অন্যদিকে সৌদিও বছরের পর বছর ধরে তেল আবিবের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে আসছে। এমনকি ১৯৮১ সাল থেকেই সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলকে এই অঞ্চলের সঙ্গে একীভূত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর নির্বাহী পরিচালক খালিদ আল-জাবেরের মতে, এটি একটি তৃতীয় শক্তিকেন্দ্র গঠনের প্রচেষ্টা, যা অঞ্চলটির ওপর কোনো একটি পক্ষের একচেটিয়া আধিপত্য রোধ করবে। গত নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওয়াশিংটন সফরের সময় সৌদি আরবকে ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ মর্যাদা দেওয়া হয় এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়। সব মিলিয়ে মক্কা চুক্তি ও এমএমডিএ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষারই একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা ট্রাম্পের ভাষায় একটি ‘বড়, সাহসী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হলেন মো. ইউনুস আলী

ইসরাইলকে রক্ষা ও মার্কিন আধিপত্য টিকিয়ে রাখতেই মক্কা চুক্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্বার্থে দায়িত্ব পালনের জন্য একটি ‘মধ্যপ্রাচ্য’, ‘আরব’ বা ‘মুসলিম ন্যাটো’ গঠনের প্রয়াস। এই চুক্তিকে অনেকেই ইসরাইলের বিরুদ্ধে জোট হিসেবে দেখলেও, বাস্তবে এটি শীতল যুদ্ধের সময়কার মার্কিন নীতিরই একটি আধুনিক সংস্করণ। সেই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমাপন্থী শাসনব্যবস্থা এবং তাদের নীরব মিত্র ইসরাইলকে সুরক্ষিত রাখা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তিন দেশ চুক্তিতে সই করায় তিনি খুবই খুশি। নতুন এই চুক্তিটি ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত ‘সেন্ট্রাল ট্রিটি অর্গানাইজেশন’ বা ‘বাগদাদ প্যাক্ট’-এর আদলে তৈরি। মক্কা চুক্তি ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ৩০ জুলাই সৌদি আরব আরও ১৩টি দেশকে নিয়ে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ (এমএমডিএ) গঠন করে। এই জোটটি মূলত ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’-এর উত্তরসূরি।

মক্কা চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র মিসর ও জর্ডানের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরাইলি আগ্রাসনের শিকার হলে সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় তারা এতে যোগ দেয়নি। এছাড়া ইসরাইলপন্থী কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, নতুন এই চুক্তি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশীদারদের দুর্বল করতে পারে। তবে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ফেলো স্টিভেন এ কুকের মতে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে নতুন বিকল্প খুঁজছে। কিন্তু তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং সৌদি ও পাকিস্তান দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র হওয়ায়, এই জোটের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্বের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করা বাস্তবসম্মত নয়।

মক্কা চুক্তি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক। অন্যদিকে সৌদিও বছরের পর বছর ধরে তেল আবিবের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে আসছে। এমনকি ১৯৮১ সাল থেকেই সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলকে এই অঞ্চলের সঙ্গে একীভূত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর নির্বাহী পরিচালক খালিদ আল-জাবেরের মতে, এটি একটি তৃতীয় শক্তিকেন্দ্র গঠনের প্রচেষ্টা, যা অঞ্চলটির ওপর কোনো একটি পক্ষের একচেটিয়া আধিপত্য রোধ করবে। গত নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওয়াশিংটন সফরের সময় সৌদি আরবকে ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ মর্যাদা দেওয়া হয় এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়। সব মিলিয়ে মক্কা চুক্তি ও এমএমডিএ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষারই একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা ট্রাম্পের ভাষায় একটি ‘বড়, সাহসী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’।