লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে পরিস্থিতি জটিল হবে: দেবপ্রিয়

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে সরকার রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের ওপর এক মিডিয়া সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ও অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার ছয় মাসেও বেতন-ভাতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এর পেছনে আর্থিক সক্ষমতার বড় সংকট রয়েছে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও এতে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আগের প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে ভাগে ভাগে বেতন বাস্তবায়নের সুপারিশ এসেছিল, যা সবাই মেনেও নিয়েছিল। শুরুতে ২০-২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে সময় প্রার্থনা করলে পরিস্থিতি আরও ভালো হতো। বর্তমানে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখায় সমস্যা কমছে না, বরং যত দেরি হবে পরিস্থিতি তত জটিল হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে সরকারের অন্যান্য প্রশাসনিক কাজও বিঘ্নিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

সিপিডির পক্ষ থেকে সরকারের ছয় মাসের পারফরম্যান্স নিয়ে জানানো হয় যে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু কাঠামোগত অসুবিধা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ পেয়েছে। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করেনি, যার ফলে এখন অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বিভিন্ন পদক্ষেপের মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নতুন সরকারের কাছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থাকলেও এ ক্ষেত্রে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সিপিডি উল্লেখ করেছে। সংস্কার কর্মসূচির ক্ষেত্রে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার অভাব এবং ইশতেহারে ঘোষিত অনেকগুলো কমিশনের বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সিপিডি প্রায় ৩৬২টি পদক্ষেপের তালিকা করে ৯টি ভাগে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর মাধ্যমে সরকারের কাজের মূল্যায়ন করছে।

সুশাসনের ক্ষেত্রে ১০৫টি ঘটনা মূল্যায়নে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে নিয়োগ এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয়কে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইগাতীতে মসজিদ কমিটির বিরোধে হামলায় বিএনপি নেতার মৃত্যু

বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে পরিস্থিতি জটিল হবে: দেবপ্রিয়

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে সরকার রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের ওপর এক মিডিয়া সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ও অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার ছয় মাসেও বেতন-ভাতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এর পেছনে আর্থিক সক্ষমতার বড় সংকট রয়েছে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও এতে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আগের প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে ভাগে ভাগে বেতন বাস্তবায়নের সুপারিশ এসেছিল, যা সবাই মেনেও নিয়েছিল। শুরুতে ২০-২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে সময় প্রার্থনা করলে পরিস্থিতি আরও ভালো হতো। বর্তমানে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখায় সমস্যা কমছে না, বরং যত দেরি হবে পরিস্থিতি তত জটিল হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে সরকারের অন্যান্য প্রশাসনিক কাজও বিঘ্নিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

সিপিডির পক্ষ থেকে সরকারের ছয় মাসের পারফরম্যান্স নিয়ে জানানো হয় যে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু কাঠামোগত অসুবিধা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ পেয়েছে। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করেনি, যার ফলে এখন অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বিভিন্ন পদক্ষেপের মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নতুন সরকারের কাছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থাকলেও এ ক্ষেত্রে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সিপিডি উল্লেখ করেছে। সংস্কার কর্মসূচির ক্ষেত্রে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার অভাব এবং ইশতেহারে ঘোষিত অনেকগুলো কমিশনের বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সিপিডি প্রায় ৩৬২টি পদক্ষেপের তালিকা করে ৯টি ভাগে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর মাধ্যমে সরকারের কাজের মূল্যায়ন করছে।

সুশাসনের ক্ষেত্রে ১০৫টি ঘটনা মূল্যায়নে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে নিয়োগ এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয়কে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।