লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক বিরোধীদের বিচারপূর্ব দীর্ঘ আটকের অবসান চায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদসহ অন্যদের বিচারের আগে দীর্ঘদিন ধরে আটক রাখার অবসানে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ হাজারো দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাঁদের মধ্যে শত শত মানুষ কোনো অপরাধে অভিযুক্ত না হয়েই এখনো কারাগারে বন্দী আছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও হাসিনা সরকারের কিছু কর্মকর্তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, তবে অনেককেই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের অনেকে প্রবীণ এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। তাঁরা জামিন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এইচআরডব্লিউর তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের অন্তত ১০ নেতা কারাগারে মারা গেছেন। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ ছিল না।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিভাগের পরিচালক এলাইন পিয়ারসন বলেন, এক সরকারের পর আরেক সরকারের আমলে বিরোধীপক্ষের শত শত সদস্যকে কোনো প্রমাণ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর উচিত রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘদিন ইচ্ছেমতো আটক রাখার অবসান করা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশ সরকার নতুন যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি বর্তমান রূপে পাস হলে তা ইচ্ছেমাফিক গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্তে গঠিত নতুন কমিশনের পথ আটকে দেবে।

অভিযোগ ছাড়াই যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য, হাসিনার প্রশাসনকে সমর্থন করা অন্যান্য সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন করা অ্যাকটিভিস্ট, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকেরা রয়েছেন। আটক অন্যদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, গুমসহ গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উত্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায় প্রসিকিউটররা বারবার জামিন নাকচের আবেদন করেছেন। নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো ধারাবাহিকভাবে জামিন আবেদন নাকচ করেছেন। আর হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা করে সেই আদেশ কার্যকর করার পথ আটকে দিচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে ৮২ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খয়কুল হকের বিষয়টি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী তিন মাসে দুর্নীতিসহ চারটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নিম্ন আদালত প্রতিটি মামলায় তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে দেন, যদিও তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং কারাগারে থাকাকালে একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করলেও সর্বশেষ মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার এক দিন আগে, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পুলিশ তাঁকে আরও দুটি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। নতুন দুটি মামলাতেও নিম্ন আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন। পরে ১২ মে হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার আগেই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দেয়। আগের যে হত্যা মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, পুলিশের নতুন অভিযোগে ঠিক একই সময়ে তিনি আরেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন বলে দেখানো হয়। অথচ দুটি ঘটনাস্থলের মধ্যে দূরত্ব ১০ কিলোমিটারের বেশি। হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেওয়ার পর পুলিশ তৃতীয়বারের মতো তাঁর বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা করে। আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপের পর অবশেষে ১৯ আগস্ট খয়কুল হক মুক্তি পান। এ পুরো সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

দীর্ঘদিন কারাগারে আটক অন্য ব্যক্তিদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এখন তাঁরা মক্কেলদের জামিনের আবেদন না করার পরামর্শ দেন, কারণ জামিন পেলে পুলিশ নতুন মামলা দিয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন ছাড়া এক বছরের বেশি সময় আটক রাখা অনুমোদন করেন শুধু ‘ব্যতিক্রম পরিস্থিতিতে’। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত আটক করা ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তির কাউকেই জামিনে মুক্তি দেননি। হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ৮১ বছর বয়সী তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের অক্টোবরে আটক করেন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তিনি জামিনের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল জামিন মঞ্জুর করেননি এবং কোনো ‘ব্যতিক্রম পরিস্থিতির’ কথাও উল্লেখ করেননি; বরং দুই দফায় শুনানি মুলতবি করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য ৭৫ বছর বয়সী কামাল আহমেদ মজুমদারকেও ট্রাইব্যুনাল ২২ মাস ধরে আটক রেখেছেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, কারাগারে থাকাকালে তাঁর পায়ে গ্যাংগ্রিন হয় এবং তিনটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়। এছাড়া পড়ে গিয়ে তাঁর কোমরের হাড়ও ভেঙে গেছে। জুলাই মাসে ট্রাইব্যুনাল তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। এছাড়া ৭৫ বছর বয়সী শাহরিয়ার কবির এবং ৭১ বছর বয়সী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীও কোনো অভিযোগ ছাড়া ২২ মাস ধরে আটক রয়েছেন। রমেশ চন্দ্র সেনকে ২০২৪ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মারা যাওয়ার আগপর্যন্ত তিনি কারাবন্দী ছিলেন। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম জিয়াউল জিয়ার মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, বিচার শুরুর আগে কাউকে আটক রাখা বা শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। এলাইন পিয়ারসন বলেন, ‘একটি বিচারব্যবস্থা, যেটা অভিযোগ গঠনের আগে কারাগারে প্রবীণ ব্যক্তিদের মৃত্যু হতে দেয়, সেটা বিচার শুরুর আগে মানুষকে আটকে রাখার বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে না।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কারাগারে যত মৃত্যু হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং বিনা বিচারে আটক রাখা বন্ধ করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হলেন মো. ইউনুস আলী

রাজনৈতিক বিরোধীদের বিচারপূর্ব দীর্ঘ আটকের অবসান চায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদসহ অন্যদের বিচারের আগে দীর্ঘদিন ধরে আটক রাখার অবসানে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ার পর পুলিশ হাজারো দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করে। তাঁদের মধ্যে শত শত মানুষ কোনো অপরাধে অভিযুক্ত না হয়েই এখনো কারাগারে বন্দী আছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও হাসিনা সরকারের কিছু কর্মকর্তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, তবে অনেককেই বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের অনেকে প্রবীণ এবং কেউ কেউ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। তাঁরা জামিন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এইচআরডব্লিউর তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের অন্তত ১০ নেতা কারাগারে মারা গেছেন। তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ ছিল না।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিভাগের পরিচালক এলাইন পিয়ারসন বলেন, এক সরকারের পর আরেক সরকারের আমলে বিরোধীপক্ষের শত শত সদস্যকে কোনো প্রমাণ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর উচিত রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘদিন ইচ্ছেমতো আটক রাখার অবসান করা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশ সরকার নতুন যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি বর্তমান রূপে পাস হলে তা ইচ্ছেমাফিক গ্রেপ্তারের অভিযোগ তদন্তে গঠিত নতুন কমিশনের পথ আটকে দেবে।

অভিযোগ ছাড়াই যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য, হাসিনার প্রশাসনকে সমর্থন করা অন্যান্য সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন করা অ্যাকটিভিস্ট, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকেরা রয়েছেন। আটক অন্যদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, গুমসহ গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উত্থাপন করা হয়নি, সেসব মামলায় প্রসিকিউটররা বারবার জামিন নাকচের আবেদন করেছেন। নিম্ন আদালত ও জেলা আদালতগুলো ধারাবাহিকভাবে জামিন আবেদন নাকচ করেছেন। আর হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা করে সেই আদেশ কার্যকর করার পথ আটকে দিচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে ৮২ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খয়কুল হকের বিষয়টি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী তিন মাসে দুর্নীতিসহ চারটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নিম্ন আদালত প্রতিটি মামলায় তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে দেন, যদিও তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং কারাগারে থাকাকালে একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করলেও সর্বশেষ মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার এক দিন আগে, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পুলিশ তাঁকে আরও দুটি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। নতুন দুটি মামলাতেও নিম্ন আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন। পরে ১২ মে হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার আগেই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দেয়। আগের যে হত্যা মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, পুলিশের নতুন অভিযোগে ঠিক একই সময়ে তিনি আরেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন বলে দেখানো হয়। অথচ দুটি ঘটনাস্থলের মধ্যে দূরত্ব ১০ কিলোমিটারের বেশি। হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেওয়ার পর পুলিশ তৃতীয়বারের মতো তাঁর বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা করে। আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপের পর অবশেষে ১৯ আগস্ট খয়কুল হক মুক্তি পান। এ পুরো সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

দীর্ঘদিন কারাগারে আটক অন্য ব্যক্তিদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এখন তাঁরা মক্কেলদের জামিনের আবেদন না করার পরামর্শ দেন, কারণ জামিন পেলে পুলিশ নতুন মামলা দিয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন ছাড়া এক বছরের বেশি সময় আটক রাখা অনুমোদন করেন শুধু ‘ব্যতিক্রম পরিস্থিতিতে’। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত আটক করা ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তির কাউকেই জামিনে মুক্তি দেননি। হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ৮১ বছর বয়সী তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের অক্টোবরে আটক করেন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তিনি জামিনের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল জামিন মঞ্জুর করেননি এবং কোনো ‘ব্যতিক্রম পরিস্থিতির’ কথাও উল্লেখ করেননি; বরং দুই দফায় শুনানি মুলতবি করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য ৭৫ বছর বয়সী কামাল আহমেদ মজুমদারকেও ট্রাইব্যুনাল ২২ মাস ধরে আটক রেখেছেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, কারাগারে থাকাকালে তাঁর পায়ে গ্যাংগ্রিন হয় এবং তিনটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়। এছাড়া পড়ে গিয়ে তাঁর কোমরের হাড়ও ভেঙে গেছে। জুলাই মাসে ট্রাইব্যুনাল তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। এছাড়া ৭৫ বছর বয়সী শাহরিয়ার কবির এবং ৭১ বছর বয়সী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীও কোনো অভিযোগ ছাড়া ২২ মাস ধরে আটক রয়েছেন। রমেশ চন্দ্র সেনকে ২০২৪ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মারা যাওয়ার আগপর্যন্ত তিনি কারাবন্দী ছিলেন। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম জিয়াউল জিয়ার মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, বিচার শুরুর আগে কাউকে আটক রাখা বা শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। এলাইন পিয়ারসন বলেন, ‘একটি বিচারব্যবস্থা, যেটা অভিযোগ গঠনের আগে কারাগারে প্রবীণ ব্যক্তিদের মৃত্যু হতে দেয়, সেটা বিচার শুরুর আগে মানুষকে আটকে রাখার বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে না।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কারাগারে যত মৃত্যু হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং বিনা বিচারে আটক রাখা বন্ধ করা।