লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উইপোকায় কাটা টাকা ফিরে পেলেন গাইবান্ধার সেই অসহায় কৃষক

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধুমাইটারি গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন (৭২) তার সঞ্চিত দুই লাখ টাকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, চাটাইয়ের ওপর ছেঁড়া ও কাটা ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট ছড়িয়ে আছে। ইঁদুর ও উইপোকায় তার জমানো টাকাগুলো কেটে টুকরা টুকরা করে ফেলায় অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। এ নিয়ে ৯ আগস্ট প্রথম আলোতে ‘জমানো দুই লাখ টাকা কেটে খেল ইঁদুর-উইপোকা, কৃষকের আহাজারি’ শিরোনাম একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে এই দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন মিজানুর রহমান ওরফে সুমন নামের এক সৌদিপ্রবাসী।

প্রথম আলোতে এই কৃষককে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে প্রবাসী মিজানুর রহমান আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে বুধবার বিকেলে তোফাজ্জল হোসেনের হাতে দুই লাখ টাকা তুলে দেন। হাবিবুর রহমান জানান, তার বড় ভাই সৌদি আরবে ব্যবসা করেন এবং নিয়মিতই এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। প্রথম আলোতে প্রতিবেদনটি দেখার পর তিনি দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নেন।

টাকা হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তোফাজ্জল হোসেন। আজ টাকা পাওয়ার পর তোফাজ্জলের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘ট্যাকা নসটো হওয়ার পর থাকি হামার সোয়ামি দিনআইত খালি কানদ্দিচে।’ তিনি বলেন, ইঁদুরে খাওয়া টাকা পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি এবং প্রবাসীর জন্য দোয়া করছেন। তার স্ত্রী জানান, টাকাগুলো নষ্ট হওয়ার পর থেকে তার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু এখন তারা সবাই অনেক খুশি।

টাকা হস্তান্তরের সময় হাবিবুর রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরগঞ্জের পুটিমারি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল রানা এবং তোফাজ্জল হোসেনের পরিবারের সদস্যরা। এর আগে তোফাজ্জল হোসেন ঢাকায় রিকশা চালিয়ে এবং কৃষিকাজ করে এই অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন। শৌচাগার তৈরির জন্য রাখা এই টাকা গত ৮ আগস্ট আলমারিতে রাখা অবস্থায় নষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়।

এ সময় প্রবাসীর আত্মীয়স্বজন, সুন্দরগঞ্জের পুটিমারি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল রানা, কৃষকের মেয়ে মোরশেদা বেগম ও তাঁর স্বামী ছামছুল হক উপস্থিত ছিলেন।.গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ধুমাইটারি গ্রাম।

দুই বছর আগে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে তিনি দেড় লাখ টাকা সঞ্চয় করেন এবং বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণের জন্য জামাতা ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্রমোদতরি ভেঙে নিখোঁজ নিউজিল্যান্ডের কিশোর, চলছে উদ্ধার অভিযান

উইপোকায় কাটা টাকা ফিরে পেলেন গাইবান্ধার সেই অসহায় কৃষক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধুমাইটারি গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন (৭২) তার সঞ্চিত দুই লাখ টাকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, চাটাইয়ের ওপর ছেঁড়া ও কাটা ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট ছড়িয়ে আছে। ইঁদুর ও উইপোকায় তার জমানো টাকাগুলো কেটে টুকরা টুকরা করে ফেলায় অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। এ নিয়ে ৯ আগস্ট প্রথম আলোতে ‘জমানো দুই লাখ টাকা কেটে খেল ইঁদুর-উইপোকা, কৃষকের আহাজারি’ শিরোনাম একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে এই দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন মিজানুর রহমান ওরফে সুমন নামের এক সৌদিপ্রবাসী।

প্রথম আলোতে এই কৃষককে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে প্রবাসী মিজানুর রহমান আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে বুধবার বিকেলে তোফাজ্জল হোসেনের হাতে দুই লাখ টাকা তুলে দেন। হাবিবুর রহমান জানান, তার বড় ভাই সৌদি আরবে ব্যবসা করেন এবং নিয়মিতই এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। প্রথম আলোতে প্রতিবেদনটি দেখার পর তিনি দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নেন।

টাকা হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তোফাজ্জল হোসেন। আজ টাকা পাওয়ার পর তোফাজ্জলের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘ট্যাকা নসটো হওয়ার পর থাকি হামার সোয়ামি দিনআইত খালি কানদ্দিচে।’ তিনি বলেন, ইঁদুরে খাওয়া টাকা পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি এবং প্রবাসীর জন্য দোয়া করছেন। তার স্ত্রী জানান, টাকাগুলো নষ্ট হওয়ার পর থেকে তার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু এখন তারা সবাই অনেক খুশি।

টাকা হস্তান্তরের সময় হাবিবুর রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরগঞ্জের পুটিমারি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল রানা এবং তোফাজ্জল হোসেনের পরিবারের সদস্যরা। এর আগে তোফাজ্জল হোসেন ঢাকায় রিকশা চালিয়ে এবং কৃষিকাজ করে এই অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন। শৌচাগার তৈরির জন্য রাখা এই টাকা গত ৮ আগস্ট আলমারিতে রাখা অবস্থায় নষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়।

এ সময় প্রবাসীর আত্মীয়স্বজন, সুন্দরগঞ্জের পুটিমারি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল রানা, কৃষকের মেয়ে মোরশেদা বেগম ও তাঁর স্বামী ছামছুল হক উপস্থিত ছিলেন।.গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ধুমাইটারি গ্রাম।

দুই বছর আগে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে তিনি দেড় লাখ টাকা সঞ্চয় করেন এবং বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণের জন্য জামাতা ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।