লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব মেটাতে পর্দার আড়ালে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটাতে পর্দার আড়ালে এক নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মার্কিন প্রশাসন আবারও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। গত ৭২ ঘণ্টার কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই প্রচ্ছন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সর্বশেষ কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফরকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি বড় কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি নতুন সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে বলে আভাস মিলছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইরান যদি নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ছাড় দেয়, তবে ওয়াশিংটন আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুত রয়েছে।

এই কূটনৈতিক উদ্যোগে কাতার প্রধান মধ্যস্থতাকারী বা দূত হিসেবে কাজ করছে। তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক সফর এবং ইরানের কাছে বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়ে তার উত্তর নিয়ে আসার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তবে এই ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চরম সমন্বয়হীনতা ও বিভেদ। দেশটির বিভিন্ন প্রভাবশালী শক্তি যেমন—স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজ, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয় একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। মধ্যস্থতাকারীদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইরানের এই ভিন্ন ভিন্ন পক্ষগুলোকে এক টেবিলে নিয়ে আসা। তেহরানের অভ্যন্তরীণ এই শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারলে এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকিতে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব মেটাতে পর্দার আড়ালে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটাতে পর্দার আড়ালে এক নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মার্কিন প্রশাসন আবারও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। গত ৭২ ঘণ্টার কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই প্রচ্ছন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সর্বশেষ কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তেহরান সফরকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি বড় কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি নতুন সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে বলে আভাস মিলছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইরান যদি নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ছাড় দেয়, তবে ওয়াশিংটন আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুত রয়েছে।

এই কূটনৈতিক উদ্যোগে কাতার প্রধান মধ্যস্থতাকারী বা দূত হিসেবে কাজ করছে। তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক সফর এবং ইরানের কাছে বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়ে তার উত্তর নিয়ে আসার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তবে এই ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চরম সমন্বয়হীনতা ও বিভেদ। দেশটির বিভিন্ন প্রভাবশালী শক্তি যেমন—স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজ, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয় একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। মধ্যস্থতাকারীদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইরানের এই ভিন্ন ভিন্ন পক্ষগুলোকে এক টেবিলে নিয়ে আসা। তেহরানের অভ্যন্তরীণ এই শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারলে এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।