লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে মানবাধিকার সুরক্ষা ও গুম প্রতিরোধসহ তিনটি বিল উত্থাপন

মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, গুমের মতো অপরাধকে ফৌজদারি আইনে সংজ্ঞায়িত ও দণ্ডনীয় করা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগত স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় সংসদে তিনটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। একই সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। বিলগুলো বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করা হলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তা গ্রহণ করেন এবং দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইন রহিত করে একটি স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন গঠনের আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলের প্রতি রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এই কমিশনের মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষায় স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো নিশ্চিত করা হবে। প্রস্তাবিত কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন, যার মধ্যে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক। কমিশনকে তদন্তকালীন ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

গুমের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এই বিলে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেতে পারেন। যদি ভুক্তভোগী মারা যান বা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকেন, তবে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই থাকবে, আলাদা কোনো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার কথা বিলে উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ১৮৮২ সালের আইন সংশোধন করে আজীবন ভোগদখলের অধিকারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাবা-মা বা নির্দিষ্ট রক্ত-সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়ের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও দাতা জীবদ্দশায় তা ভোগ করতে পারবেন। সরকার জানিয়েছে, এটি মুসলিম আইনের হেবা বা অন্যান্য প্রচলিত দান পদ্ধতির সাথে কোনো বিরোধ সৃষ্টি করবে না।

উল্লেখ্য যে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ অন্তত ২০টি অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সরকার নতুন করে এসব বিল সংসদে পেশ করেছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চ্যাম্পিয়নস লিগ ড্র: পিএসজির সামনে সিটি-বার্সা, রিয়ালের প্রতিপক্ষ আর্সেনাল-ইন্টার

সংসদে মানবাধিকার সুরক্ষা ও গুম প্রতিরোধসহ তিনটি বিল উত্থাপন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, গুমের মতো অপরাধকে ফৌজদারি আইনে সংজ্ঞায়িত ও দণ্ডনীয় করা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগত স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় সংসদে তিনটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। একই সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। বিলগুলো বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করা হলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তা গ্রহণ করেন এবং দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইন রহিত করে একটি স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন গঠনের আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলের প্রতি রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এই কমিশনের মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষায় স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো নিশ্চিত করা হবে। প্রস্তাবিত কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন, যার মধ্যে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক। কমিশনকে তদন্তকালীন ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

গুমের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এই বিলে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেতে পারেন। যদি ভুক্তভোগী মারা যান বা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকেন, তবে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই থাকবে, আলাদা কোনো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার কথা বিলে উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ১৮৮২ সালের আইন সংশোধন করে আজীবন ভোগদখলের অধিকারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাবা-মা বা নির্দিষ্ট রক্ত-সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়ের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও দাতা জীবদ্দশায় তা ভোগ করতে পারবেন। সরকার জানিয়েছে, এটি মুসলিম আইনের হেবা বা অন্যান্য প্রচলিত দান পদ্ধতির সাথে কোনো বিরোধ সৃষ্টি করবে না।

উল্লেখ্য যে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ অন্তত ২০টি অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সরকার নতুন করে এসব বিল সংসদে পেশ করেছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।