লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে বিয়ানীবাজারের পুলিশ কনস্টেবল সাময়িক বরখাস্ত

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে বিয়ানীবাজার থানায় কর্মরত মুরসালিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় হেতিমগঞ্জ বাজারে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, আটক করার সময় স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দিয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করেছে। বর্তমানে তিনি গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তবে মোটরসাইকেলের মালিক মামলা করতে রাজি না হওয়ায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোলাপগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুর রহমান ফেসবুকে তার মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখে মুরসালিন ও ওলিউর ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য হেতিমগঞ্জ বাজারে যান। মোটরসাইকেলটি পরীক্ষা করার সময় মুরসালিন সেটি চালিয়ে দেখার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে তার পিছু ধাওয়া করেন এবং একপর্যায়ে হাজীপুর এলাকায় তাকে আটক করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে মারধর করেন। পরে মুরসালিন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ছবেদ আলী জানান, আটক মুরসালিন সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং বিয়ানীবাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তিনি চলতি মাসের শুরুর দিকে ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন। ১৬ আগস্ট তার ছুটি শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। ওসি আরও বলেন, মুরসালিনের দাবি তিনি মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যেই বাজারে গিয়েছিলেন এবং স্থানীয়রা ভুল বুঝে তাকে চোর সন্দেহে মারধর করেছেন। ঘটনার পর মোটরসাইকেলের মালিক সাইদুর রহমান লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি এই ঘটনায় কোনো মামলা করবেন না। তবে মুরসালিনের কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং তার সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলামের সন্দেহজনক আচরণের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওলিউর ইসলামকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির জানিয়েছেন, মুরসালিন বিয়ানীবাজার থানায় কর্মরত থাকলেও তিনি ঘটনার সময় ছুটিতে ছিলেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং তারাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরুড়া হসপিটাল রোডে ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান, ভোগান্তিতে রোগী ও সাধারণ মানুষ

মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে বিয়ানীবাজারের পুলিশ কনস্টেবল সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে বিয়ানীবাজার থানায় কর্মরত মুরসালিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় হেতিমগঞ্জ বাজারে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, আটক করার সময় স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দিয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করেছে। বর্তমানে তিনি গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তবে মোটরসাইকেলের মালিক মামলা করতে রাজি না হওয়ায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোলাপগঞ্জের বাসিন্দা সাইদুর রহমান ফেসবুকে তার মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখে মুরসালিন ও ওলিউর ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি দেখার জন্য হেতিমগঞ্জ বাজারে যান। মোটরসাইকেলটি পরীক্ষা করার সময় মুরসালিন সেটি চালিয়ে দেখার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে তার পিছু ধাওয়া করেন এবং একপর্যায়ে হাজীপুর এলাকায় তাকে আটক করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে মারধর করেন। পরে মুরসালিন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ছবেদ আলী জানান, আটক মুরসালিন সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং বিয়ানীবাজার থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তিনি চলতি মাসের শুরুর দিকে ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন। ১৬ আগস্ট তার ছুটি শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। ওসি আরও বলেন, মুরসালিনের দাবি তিনি মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যেই বাজারে গিয়েছিলেন এবং স্থানীয়রা ভুল বুঝে তাকে চোর সন্দেহে মারধর করেছেন। ঘটনার পর মোটরসাইকেলের মালিক সাইদুর রহমান লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি এই ঘটনায় কোনো মামলা করবেন না। তবে মুরসালিনের কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং তার সঙ্গে থাকা ওলিউর ইসলামের সন্দেহজনক আচরণের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওলিউর ইসলামকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির জানিয়েছেন, মুরসালিন বিয়ানীবাজার থানায় কর্মরত থাকলেও তিনি ঘটনার সময় ছুটিতে ছিলেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং তারাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।