লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিমি যানজট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংস্কারকাজের জেরে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। শুক্রবার দিনভর ধীরগতির পর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যা শনিবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ার চর থেকে শুরু হয়ে এই যানজট দাউদকান্দি পেরিয়ে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকেরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় ঢাকামুখী লেনে একটি বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সেখানে এক লেনে মেরামতকাজ চলছে। দুই লেনের একটি বন্ধ রেখে কাজ চলায় অন্য লেনটি দিয়ে সব গাড়িকে পর্যায়ক্রমে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে এই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে গাড়ি আটকে থাকায় বাসের যাত্রী, চালক ও পণ্যবাহী যানের শ্রমিকদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের কষ্ট ছিল সীমাহীন। কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী সাইফুল আলম জানান, সন্ধ্যায় রওনা দিয়েও রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তিনি দাউদকান্দি পৌঁছাতে পারেননি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় আটকে থেকে তিনি চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আরেক যাত্রী জাহিদ জানান, রাত থেকে সড়কে আটকে থাকলেও কখন এই যানজট কাটবে তা অনিশ্চিত।

স্টারলাইন পরিবহনের চালক আহমেদ করিম বলেন, মহাসড়কে এমনিতেই গাড়ির চাপ অনেক বেশি। তার ওপর এক লেন বন্ধ রেখে কাজ করায় সব গাড়ি একটি লেন দিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছে, যা যানজটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় জরুরি সংস্কারকাজ চলায় সাময়িকভাবে এই যানজট তৈরি হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে। দ্রুত কাজ শেষ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনভর থেমে থেমে যান চলাচল করলেও বিকেলের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপাল ও চীনে বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ আড়াই হাজার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিমি যানজট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংস্কারকাজের জেরে সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। শুক্রবার দিনভর ধীরগতির পর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যা শনিবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ার চর থেকে শুরু হয়ে এই যানজট দাউদকান্দি পেরিয়ে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকেরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় ঢাকামুখী লেনে একটি বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সেখানে এক লেনে মেরামতকাজ চলছে। দুই লেনের একটি বন্ধ রেখে কাজ চলায় অন্য লেনটি দিয়ে সব গাড়িকে পর্যায়ক্রমে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে এই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে গাড়ি আটকে থাকায় বাসের যাত্রী, চালক ও পণ্যবাহী যানের শ্রমিকদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের কষ্ট ছিল সীমাহীন। কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী সাইফুল আলম জানান, সন্ধ্যায় রওনা দিয়েও রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তিনি দাউদকান্দি পৌঁছাতে পারেননি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় আটকে থেকে তিনি চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আরেক যাত্রী জাহিদ জানান, রাত থেকে সড়কে আটকে থাকলেও কখন এই যানজট কাটবে তা অনিশ্চিত।

স্টারলাইন পরিবহনের চালক আহমেদ করিম বলেন, মহাসড়কে এমনিতেই গাড়ির চাপ অনেক বেশি। তার ওপর এক লেন বন্ধ রেখে কাজ করায় সব গাড়ি একটি লেন দিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছে, যা যানজটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় জরুরি সংস্কারকাজ চলায় সাময়িকভাবে এই যানজট তৈরি হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে। দ্রুত কাজ শেষ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনভর থেমে থেমে যান চলাচল করলেও বিকেলের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।