লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের আদর্শিক বিচ্যুতি ও তৃণমূলের সাথে পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম মূলনীতি হলো গণতন্ত্র, যা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনারও মূল আদর্শ। দলটির গঠনতন্ত্রের '২(ঘ)' বিধি অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো — "মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা"। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়, বিশেষ করে আশির দশক থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দলটি সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রাম ও অবর্ণনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছে। দলটির আন্দোলনের ফসল হিসেবেই নির্বাচনকালীন 'নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার' ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল। ২০০১ সালে দলটি সাংবিধানিক উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র ঘটনা।

তবে পরবর্তী সময়ে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি এবং দলটি তার মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। এই সময়ের মধ্যে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যবস্থা পুনরায় প্রবর্তন করা হয়, যার ফলে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে 'অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য' হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের রায় ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, দল কি সেই সময়ে প্রয়োজনীয় দূরদর্শিতা দেখাতে পেরেছিল?

আওয়ামী লীগ এদেশের গণমানুষের দল এবং আদর্শ বিবর্জিত কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী নয়। তবে ২০১১ থেকে ২০২৪ সময়কালে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তৃণমূলের মতামতকে কৌশলে অবজ্ঞা করা হয়েছে কিনা, তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। কোনো পর্যায়েই আলোচনা, যুক্তি বা বিতর্ক প্রক্রিয়ায় তৃণমূলকে অবহেলা করার খেসারত আজ দলকে দিতে হচ্ছে কিনা, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতে ব্যর্থ হলে যেকোনো রাজনৈতিক দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই অতীত ভুল-ত্রুটি পর্যালোচনা করে গণতান্ত্রিক আদর্শে ফিরে যাওয়াই এখন দলটির জন্য অত্যাবশ্যক।

আগামী নভেম্বর মাসে নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য জনগণের সাথে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের এক সুবর্ণ সুযোগ। অতীতে সব ক্রান্তিলগ্নের মতোই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই দলটির পুনর্জাগরণের পথপ্রদর্শক হতে পারেন। এর মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি ঘরে আওয়ামী লীগ পুনরায় আদর্শিক রাজনীতির চূড়ান্ত ভরসাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আওয়ামী লীগ 'আদর্শ বিবর্জিত' কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা জনবিচ্ছিন্ন কোনো 'গোষ্ঠী' নয়। আওয়ামী লীগ এদেশের গণমানুষের দল। এই দলে দীর্ঘ সময় ধরে (বিশেষত ২০১১-২০২৪ সময়ে) সকল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তৃণমূলের মতামতকে 'সুকৌশলে' অবজ্ঞা করা হয়েছে কিনা, সেটা ভাববার অবকাশ আছে বৈকি! কিংবা কোনো পর্যায়ে কোনো ধরনের আলোচনা, যুক্তি, বিতর্ক, মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তৃণমূলকে অবহেলা করার খেসারত আজ দলকে দিতে হচ্ছে কিনা? অথবা তৃণমূলের ভাবনাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়াটা কি আওয়ামী লীগকে গণতান্ত্রিক আদর্শ হতে বিচ্যুত করেছিল কিনা, তা-ও পর্যালোচনার দাবি রাখে!

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আগামী নভেম্বর মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ এর জন্য উক্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ হবে জনগণকে আরো কাছে টানার, জনগণের সাথে মরচে ধরা সম্পর্ককে টেকসই রাজনৈতিক সম্পর্কে রূপান্তরিত করার এক সুবর্ণ সুযোগ। এক্ষেত্রে, পূর্বের সকল ঐতিহাসিক ক্রান্তিলগ্নের মতো, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই হবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর পূণর্জাগরণের পথপ্রদর্শক- নতুন পথের দিশারী। এরই মাধ্যমে দেশের 'ঘরে-ঘরে' আওয়ামী লীগ পুনরায় আদর্শিক রাজনীতির চূড়ান্ত ভরসাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।১৫ ভাদ্র ১৪৩৩৩০ অগাস্ট ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্যাক্টে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক দেখছেন আসিফ মাহমুদ

আওয়ামী লীগের আদর্শিক বিচ্যুতি ও তৃণমূলের সাথে পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম মূলনীতি হলো গণতন্ত্র, যা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনারও মূল আদর্শ। দলটির গঠনতন্ত্রের '২(ঘ)' বিধি অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো — "মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা"। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়, বিশেষ করে আশির দশক থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দলটি সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রাম ও অবর্ণনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছে। দলটির আন্দোলনের ফসল হিসেবেই নির্বাচনকালীন 'নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার' ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল। ২০০১ সালে দলটি সাংবিধানিক উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র ঘটনা।

তবে পরবর্তী সময়ে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি এবং দলটি তার মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। এই সময়ের মধ্যে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যবস্থা পুনরায় প্রবর্তন করা হয়, যার ফলে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে 'অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য' হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের রায় ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, দল কি সেই সময়ে প্রয়োজনীয় দূরদর্শিতা দেখাতে পেরেছিল?

আওয়ামী লীগ এদেশের গণমানুষের দল এবং আদর্শ বিবর্জিত কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী নয়। তবে ২০১১ থেকে ২০২৪ সময়কালে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তৃণমূলের মতামতকে কৌশলে অবজ্ঞা করা হয়েছে কিনা, তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। কোনো পর্যায়েই আলোচনা, যুক্তি বা বিতর্ক প্রক্রিয়ায় তৃণমূলকে অবহেলা করার খেসারত আজ দলকে দিতে হচ্ছে কিনা, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতে ব্যর্থ হলে যেকোনো রাজনৈতিক দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই অতীত ভুল-ত্রুটি পর্যালোচনা করে গণতান্ত্রিক আদর্শে ফিরে যাওয়াই এখন দলটির জন্য অত্যাবশ্যক।

আগামী নভেম্বর মাসে নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য জনগণের সাথে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের এক সুবর্ণ সুযোগ। অতীতে সব ক্রান্তিলগ্নের মতোই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই দলটির পুনর্জাগরণের পথপ্রদর্শক হতে পারেন। এর মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি ঘরে আওয়ামী লীগ পুনরায় আদর্শিক রাজনীতির চূড়ান্ত ভরসাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আওয়ামী লীগ 'আদর্শ বিবর্জিত' কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা জনবিচ্ছিন্ন কোনো 'গোষ্ঠী' নয়। আওয়ামী লীগ এদেশের গণমানুষের দল। এই দলে দীর্ঘ সময় ধরে (বিশেষত ২০১১-২০২৪ সময়ে) সকল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তৃণমূলের মতামতকে 'সুকৌশলে' অবজ্ঞা করা হয়েছে কিনা, সেটা ভাববার অবকাশ আছে বৈকি! কিংবা কোনো পর্যায়ে কোনো ধরনের আলোচনা, যুক্তি, বিতর্ক, মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তৃণমূলকে অবহেলা করার খেসারত আজ দলকে দিতে হচ্ছে কিনা? অথবা তৃণমূলের ভাবনাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়াটা কি আওয়ামী লীগকে গণতান্ত্রিক আদর্শ হতে বিচ্যুত করেছিল কিনা, তা-ও পর্যালোচনার দাবি রাখে!

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আগামী নভেম্বর মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ এর জন্য উক্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ হবে জনগণকে আরো কাছে টানার, জনগণের সাথে মরচে ধরা সম্পর্ককে টেকসই রাজনৈতিক সম্পর্কে রূপান্তরিত করার এক সুবর্ণ সুযোগ। এক্ষেত্রে, পূর্বের সকল ঐতিহাসিক ক্রান্তিলগ্নের মতো, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই হবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর পূণর্জাগরণের পথপ্রদর্শক- নতুন পথের দিশারী। এরই মাধ্যমে দেশের 'ঘরে-ঘরে' আওয়ামী লীগ পুনরায় আদর্শিক রাজনীতির চূড়ান্ত ভরসাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।১৫ ভাদ্র ১৪৩৩৩০ অগাস্ট ২০২৬