লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান শি জিনপিংয়ের

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন। কায়রো সফরে গিয়ে বুধবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। এক দশক পর এটিই তার প্রথম কায়রো সফর। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে বেইজিং অঞ্চলটিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

কায়রোর ইত্তিহাদিয়া প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে শি জিনপিংকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বৈঠকের বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি জিনপিং বলেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই তাদের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের মালিক। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংলাপ জোরদারে দেশগুলোকে একে অপরকে সমর্থন এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার পরামর্শ দেন তিনি।

চার বছরের মধ্যে এটি শির প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতের কারণে বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মিসর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে বছরে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পেলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈঠকে দুই নেতা নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয় জোরদারে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। এছাড়া ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন। শি জিনপিং জানান, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও চীন কাজ করতে প্রস্তুত।

প্রেসিডেন্ট সিসি তার নিবন্ধে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই সময়ে মিসর 'কৌশলগত ভারসাম্য' বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে। গবেষক এইচ এ হেলিয়ারের মতে, বেইজিংয়ের কাছে মিসরের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ দেশটির বড় অভ্যন্তরীণ বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে এবং ফিলিস্তিন ইস্যুসহ আঞ্চলিক রাজনীতিতে মিসরের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ২০১৪ সালে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির পর থেকে সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মিসর প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্য আমদানি করেছে।

‘ঈগলস অব সিভিলাইজেশন’ নামের ওই মহড়ায় চীনের তৈরি জে-১৬ যুদ্ধবিমান এবং ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে বিরল বিমানযুদ্ধের মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়।

সুয়েজ খাল ও ১১ কোটির বেশি জনসংখ্যার মিসর চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান শি জিনপিংয়ের

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন। কায়রো সফরে গিয়ে বুধবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। এক দশক পর এটিই তার প্রথম কায়রো সফর। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে বেইজিং অঞ্চলটিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

কায়রোর ইত্তিহাদিয়া প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে শি জিনপিংকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বৈঠকের বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি জিনপিং বলেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই তাদের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের মালিক। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংলাপ জোরদারে দেশগুলোকে একে অপরকে সমর্থন এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার পরামর্শ দেন তিনি।

চার বছরের মধ্যে এটি শির প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতের কারণে বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মিসর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে বছরে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পেলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈঠকে দুই নেতা নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয় জোরদারে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। এছাড়া ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন। শি জিনপিং জানান, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও চীন কাজ করতে প্রস্তুত।

প্রেসিডেন্ট সিসি তার নিবন্ধে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই সময়ে মিসর 'কৌশলগত ভারসাম্য' বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে। গবেষক এইচ এ হেলিয়ারের মতে, বেইজিংয়ের কাছে মিসরের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ দেশটির বড় অভ্যন্তরীণ বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে এবং ফিলিস্তিন ইস্যুসহ আঞ্চলিক রাজনীতিতে মিসরের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ২০১৪ সালে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির পর থেকে সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মিসর প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্য আমদানি করেছে।

‘ঈগলস অব সিভিলাইজেশন’ নামের ওই মহড়ায় চীনের তৈরি জে-১৬ যুদ্ধবিমান এবং ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে বিরল বিমানযুদ্ধের মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়।

সুয়েজ খাল ও ১১ কোটির বেশি জনসংখ্যার মিসর চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার।