লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এক লাফে দ্বিগুণ করল বিসিবি

বিপিএল স্থগিত হওয়ার কারণে দেশের ক্রিকেটারদের আয়ের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা মোকাবিলায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোর্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য ম্যাচ ফি বাড়ানোর এই ঘোষণা দেন। এটি কেবল বিপিএল না হওয়ার সাময়িক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পুরুষ ক্রিকেটারদের প্রথম-শ্রেণির ম্যাচের ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তামিম নিজেই এই ফি বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন। এছাড়া 'লিস্ট এ' ম্যাচের ফি ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফি ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নারীদের ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও ফি বাড়ানো হয়েছে; যেখানে চার দিনের ম্যাচের ফি ২০ হাজার থেকে বেড়ে ৪০ হাজার টাকা, একদিনের ম্যাচের ফি ১৫ হাজার থেকে বেড়ে ৩০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফি ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

তামিম ইকবাল জানান, খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে এক দুটি প্রস্তাব এসেছিল। তিনি বলেন, আমি এটাকে দুটি পক্ষ হিসেবে দেখি না। পক্ষ একটাই, আমরা সবাই এক। ক্রিকেটার, ক্রিকেট বোর্ড, পরিচালক, সভাপতি সবাই আমরা এক। তিনি আরও বলেন, বিপিএলে সব মিলিয়ে ৫০, ৬০, ৬৫ বা ৭০ জন স্থানীয় ক্রিকেটার খেলবেন। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যদি তাকান ফার্স্ট-ক্লাস, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকা লিগ থেকে তারা দুই-তিন বছর আগে যে আয় করতেন, তা হয়তো কমে গেছে। তার ওপর, এ বছর বিপিএল অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর ফলে আর্থিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিসিবি সভাপতি বলেন, আমি কখনোই খেলোয়াড়দের জন্য কেবল এক বছরের কোনো সমাধান চাইনি। আমি এমন একটি সমাধান চেয়েছিলাম, যা ক্রিকেটাররা বছরের পর বছর উপকূত হয়। এই পদক্ষেপের ফলে ক্রিকেটাররা কেবল বিসিবি-র টুর্নামেন্ট খেলেই আর্থিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারবেন, কারণ তারা মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করবেন। সাবেক এই ক্রিকেটারের মতে, সবকিছুর খরচই ১০০ শতাংশ বা তার বেশি বেড়েছে। এখন একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার যদি পুরো মৌসুম খেলেন, তবে বেতনসহ আমার হিসাব যদি ভুল না হয় তারা বছরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করবেন। এটাকে ১২ দিয়ে ভাগ করলে দেখা যায়, একজন খেলোয়াড়ের মাসিক আয় ৩ লাখ টাকারও বেশি হবে। পরিবার চালানোর জন্য তাদের আর কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না বলেই আমার মনে হয়। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, এখন তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পেশাদারিত্ব আশা করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি বাসায় ভাড়াটে রাখলে বরাদ্দ বাতিল করবে আবাসন পরিদপ্তর

ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এক লাফে দ্বিগুণ করল বিসিবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিপিএল স্থগিত হওয়ার কারণে দেশের ক্রিকেটারদের আয়ের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা মোকাবিলায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোর্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য ম্যাচ ফি বাড়ানোর এই ঘোষণা দেন। এটি কেবল বিপিএল না হওয়ার সাময়িক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পুরুষ ক্রিকেটারদের প্রথম-শ্রেণির ম্যাচের ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তামিম নিজেই এই ফি বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন। এছাড়া 'লিস্ট এ' ম্যাচের ফি ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফি ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নারীদের ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও ফি বাড়ানো হয়েছে; যেখানে চার দিনের ম্যাচের ফি ২০ হাজার থেকে বেড়ে ৪০ হাজার টাকা, একদিনের ম্যাচের ফি ১৫ হাজার থেকে বেড়ে ৩০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফি ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

তামিম ইকবাল জানান, খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে এক দুটি প্রস্তাব এসেছিল। তিনি বলেন, আমি এটাকে দুটি পক্ষ হিসেবে দেখি না। পক্ষ একটাই, আমরা সবাই এক। ক্রিকেটার, ক্রিকেট বোর্ড, পরিচালক, সভাপতি সবাই আমরা এক। তিনি আরও বলেন, বিপিএলে সব মিলিয়ে ৫০, ৬০, ৬৫ বা ৭০ জন স্থানীয় ক্রিকেটার খেলবেন। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যদি তাকান ফার্স্ট-ক্লাস, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকা লিগ থেকে তারা দুই-তিন বছর আগে যে আয় করতেন, তা হয়তো কমে গেছে। তার ওপর, এ বছর বিপিএল অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর ফলে আর্থিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিসিবি সভাপতি বলেন, আমি কখনোই খেলোয়াড়দের জন্য কেবল এক বছরের কোনো সমাধান চাইনি। আমি এমন একটি সমাধান চেয়েছিলাম, যা ক্রিকেটাররা বছরের পর বছর উপকূত হয়। এই পদক্ষেপের ফলে ক্রিকেটাররা কেবল বিসিবি-র টুর্নামেন্ট খেলেই আর্থিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারবেন, কারণ তারা মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করবেন। সাবেক এই ক্রিকেটারের মতে, সবকিছুর খরচই ১০০ শতাংশ বা তার বেশি বেড়েছে। এখন একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার যদি পুরো মৌসুম খেলেন, তবে বেতনসহ আমার হিসাব যদি ভুল না হয় তারা বছরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করবেন। এটাকে ১২ দিয়ে ভাগ করলে দেখা যায়, একজন খেলোয়াড়ের মাসিক আয় ৩ লাখ টাকারও বেশি হবে। পরিবার চালানোর জন্য তাদের আর কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না বলেই আমার মনে হয়। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, এখন তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পেশাদারিত্ব আশা করছেন।