লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থী এএফডির জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ০২। জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডির জনপ্রিয়তা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে দলটির সমর্থন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো কোনো রাজ্যে উগ্র ডানপন্থীরা এককভাবে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এএফডির এই ক্রমবর্ধমান উত্থান রোধ করতে জার্মানির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সাহসী ও কার্যকর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিকল্প প্রস্তাব করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

আগামী সপ্তাহে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী এএফডির সমর্থন ৪০ শতাংশের বেশি। ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় দলটির সমর্থন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর বিপরীতে, তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-ডানপন্থী খ্রিষ্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন বা সিডিইউর সমর্থন প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এমনটি ঘটলে এএফডি পর্যাপ্ত আসন নিয়ে এককভাবে রাজ্য সরকার গঠনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জার্মানির ১৬টি রাজ্যের কোনোটিই এখন পর্যন্ত উগ্র ডানপন্থী দলের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়নি। এএফডি ক্ষমতায় এলে শিক্ষা, পুলিশ ও সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে তাদের উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ থাকবে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো স্যাক্সনি-আনহাল্টের এএফডিকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে শরণার্থী শিশুদের পৃথক স্কুলে পাঠানো, নাৎসি আমলের ইতিহাস শিক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষাক্রম চালু করা এবং তথাকথিত ‘স্বাভাবিক পরিবারকে’ অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো বিতর্কিত প্রস্তাব রয়েছে।

জাতীয় পর্যায়েও এএফডির প্রভাব বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি চারজন ভোটারের একজন এমন একটি দলকে সমর্থন করছেন, যারা ‘রিমিগ্রেশন’ বা অভিবাসী ও বিদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বড় পরিসরে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। এর আওতায় জার্মান নাগরিকত্বধারী ব্যক্তিরাও পড়তে পারেন, যাদের বংশগত পরিচয়কে ‘অ-জার্মান’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এএফডির জনপ্রিয়তা মোকাবিলায় মূলধারার দলগুলোর কৌশল নিয়েও বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ এএফডির সঙ্গে সহযোগিতার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন, এই যুক্তিতে যে ক্ষমতায় গেলে দলটির জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতিগুলোর সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই কৌশল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎসের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার কর কমানো, কল্যাণব্যবস্থায় সংস্কার এবং অবসরের বয়স বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিলেও, এএফডির জনপ্রিয়তা কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে জার্মানির শিল্পাঞ্চলগুলোতে দলটির সমর্থন বেশি। অর্থনৈতিক সংকট, শিল্পের প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই অঞ্চলগুলোর মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে, যা উগ্র ডানপন্থীদের জন্য রাজনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করছে। ২০১৮ সালে মেরৎস এএফডির ভোট অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে দলটির সমর্থন উল্টো প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থী এএফডির জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ০২। জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডির জনপ্রিয়তা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে দলটির সমর্থন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো কোনো রাজ্যে উগ্র ডানপন্থীরা এককভাবে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এএফডির এই ক্রমবর্ধমান উত্থান রোধ করতে জার্মানির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সাহসী ও কার্যকর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিকল্প প্রস্তাব করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

আগামী সপ্তাহে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী এএফডির সমর্থন ৪০ শতাংশের বেশি। ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় দলটির সমর্থন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর বিপরীতে, তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-ডানপন্থী খ্রিষ্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন বা সিডিইউর সমর্থন প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এমনটি ঘটলে এএফডি পর্যাপ্ত আসন নিয়ে এককভাবে রাজ্য সরকার গঠনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জার্মানির ১৬টি রাজ্যের কোনোটিই এখন পর্যন্ত উগ্র ডানপন্থী দলের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়নি। এএফডি ক্ষমতায় এলে শিক্ষা, পুলিশ ও সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে তাদের উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ থাকবে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো স্যাক্সনি-আনহাল্টের এএফডিকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে শরণার্থী শিশুদের পৃথক স্কুলে পাঠানো, নাৎসি আমলের ইতিহাস শিক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষাক্রম চালু করা এবং তথাকথিত ‘স্বাভাবিক পরিবারকে’ অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো বিতর্কিত প্রস্তাব রয়েছে।

জাতীয় পর্যায়েও এএফডির প্রভাব বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি চারজন ভোটারের একজন এমন একটি দলকে সমর্থন করছেন, যারা ‘রিমিগ্রেশন’ বা অভিবাসী ও বিদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বড় পরিসরে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। এর আওতায় জার্মান নাগরিকত্বধারী ব্যক্তিরাও পড়তে পারেন, যাদের বংশগত পরিচয়কে ‘অ-জার্মান’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এএফডির জনপ্রিয়তা মোকাবিলায় মূলধারার দলগুলোর কৌশল নিয়েও বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ এএফডির সঙ্গে সহযোগিতার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন, এই যুক্তিতে যে ক্ষমতায় গেলে দলটির জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতিগুলোর সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই কৌশল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎসের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার কর কমানো, কল্যাণব্যবস্থায় সংস্কার এবং অবসরের বয়স বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিলেও, এএফডির জনপ্রিয়তা কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে জার্মানির শিল্পাঞ্চলগুলোতে দলটির সমর্থন বেশি। অর্থনৈতিক সংকট, শিল্পের প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই অঞ্চলগুলোর মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে, যা উগ্র ডানপন্থীদের জন্য রাজনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করছে। ২০১৮ সালে মেরৎস এএফডির ভোট অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে দলটির সমর্থন উল্টো প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।