লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিষেকের কার্যালয়ে হামলা: দিল্লি গিয়ে ধর্নায় বসার হুঁশিয়ারি মমতার

প্রতিবেদনটি ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (03-09-2026) তারিখ ১৮: ৫৮ (18:58) মিনিটে প্রকাশিত হয়েছে।

কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই হামলার পেছনেভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জড়িত বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই অত্যাচার বন্ধ না হলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসবেন।

এর আগে, বুধবার সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ে হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একদল দুষ্কৃতকারী কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং কর্মীদের মারধর করে। ঘটনার সময় থানায় যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন অভিষেক। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘মধ্যরাতের বর্বরতা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মধ্যরাতে আমাদের দফতরে গুন্ডা পাঠিয়েছে বিজেপি।’ কার্যালয়ের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, দলিল ও কাগজপত্র তচ্ছন্ন করা হয়েছে এবং চারজন কর্মীকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ক্যামাক স্ট্রিট কার্যালয়ের পাশেই শেক্সপিয়র সরণি থানা অবস্থিত উল্লেখ করে মমতা বলেন, ওই থানাসহ বেশ কয়েকটি থানার ভূমিকা তাঁরা নজরে রাখছেন। চিরকাল বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কলকাতার মতো একটি শহরের কেন্দ্রস্থলে যদি মধ্যরাতে এমন ঘটনা ঘটে, তবে গ্রামবাংলার পরিস্থিতি কী হতে পারে তা নিয়ে ভাবা দরকার।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ ‘রক্ষক থেকে ভক্ষক’ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কর্তব্যরত সৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁর সম্মান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু কর্মকর্তা প্রমাণ নষ্ট করা ও সাক্ষীদের ওপর হামলার মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন। এ প্রসঙ্গে বারুইপুরের গণধর্ষণকাণ্ড এবং পুলিশের এনকাউন্টারের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় কার্যালয় থেকে এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী লুট করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ ঘটনাটিকে ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছেন এবং গভীর রাতে তৃণমূলের কর্মীরা কেন ওই কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বিজেপির এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে দিল্লি পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। হকার উচ্ছেদ, দোকান ভাঙচুর এবং মধ্যরাতে বিভিন্ন অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।

বিরোধী কণ্ঠকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মমতা দাবি করেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনো নিরাপত্তা পাচ্ছেন না এবং তাঁর নিরাপত্তা তুলে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সতর্ক করে দিয়ে মমতা বলেন, দুষ্কৃতকারীদের রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে বিজেপি তাদের নিজেদের দলীয় কাঠামোকেই দুর্বল করছে। এর ফলে দলের প্রকৃত কর্মী-সমর্থকদের হারিয়ে তাদের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে political প্রতিহিংসামূলক আচরণের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, তাদের চার হাজারেরও বেশি দলীয় কার্যালয় দখল করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন এফআইআর করা হচ্ছে এবং অনেককে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে মিথ্যা মামলা ও চাপ সৃষ্টি করে তৃণমূলকে থামানো যাবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এক লাফে দ্বিগুণ করল বিসিবি

অভিষেকের কার্যালয়ে হামলা: দিল্লি গিয়ে ধর্নায় বসার হুঁশিয়ারি মমতার

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিবেদনটি ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (03-09-2026) তারিখ ১৮: ৫৮ (18:58) মিনিটে প্রকাশিত হয়েছে।

কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই হামলার পেছনেভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জড়িত বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই অত্যাচার বন্ধ না হলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসবেন।

এর আগে, বুধবার সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ে হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একদল দুষ্কৃতকারী কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং কর্মীদের মারধর করে। ঘটনার সময় থানায় যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন অভিষেক। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘মধ্যরাতের বর্বরতা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মধ্যরাতে আমাদের দফতরে গুন্ডা পাঠিয়েছে বিজেপি।’ কার্যালয়ের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, দলিল ও কাগজপত্র তচ্ছন্ন করা হয়েছে এবং চারজন কর্মীকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ক্যামাক স্ট্রিট কার্যালয়ের পাশেই শেক্সপিয়র সরণি থানা অবস্থিত উল্লেখ করে মমতা বলেন, ওই থানাসহ বেশ কয়েকটি থানার ভূমিকা তাঁরা নজরে রাখছেন। চিরকাল বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কলকাতার মতো একটি শহরের কেন্দ্রস্থলে যদি মধ্যরাতে এমন ঘটনা ঘটে, তবে গ্রামবাংলার পরিস্থিতি কী হতে পারে তা নিয়ে ভাবা দরকার।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ ‘রক্ষক থেকে ভক্ষক’ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কর্তব্যরত সৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁর সম্মান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু কর্মকর্তা প্রমাণ নষ্ট করা ও সাক্ষীদের ওপর হামলার মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছেন। এ প্রসঙ্গে বারুইপুরের গণধর্ষণকাণ্ড এবং পুলিশের এনকাউন্টারের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় কার্যালয় থেকে এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী লুট করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ ঘটনাটিকে ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছেন এবং গভীর রাতে তৃণমূলের কর্মীরা কেন ওই কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বিজেপির এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে দিল্লি পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। হকার উচ্ছেদ, দোকান ভাঙচুর এবং মধ্যরাতে বিভিন্ন অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।

বিরোধী কণ্ঠকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মমতা দাবি করেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনো নিরাপত্তা পাচ্ছেন না এবং তাঁর নিরাপত্তা তুলে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সতর্ক করে দিয়ে মমতা বলেন, দুষ্কৃতকারীদের রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে বিজেপি তাদের নিজেদের দলীয় কাঠামোকেই দুর্বল করছে। এর ফলে দলের প্রকৃত কর্মী-সমর্থকদের হারিয়ে তাদের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে political প্রতিহিংসামূলক আচরণের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, তাদের চার হাজারেরও বেশি দলীয় কার্যালয় দখল করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন এফআইআর করা হচ্ছে এবং অনেককে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে মিথ্যা মামলা ও চাপ সৃষ্টি করে তৃণমূলকে থামানো যাবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।