লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে মৌলিক ঘাটতি দেখছে টিআইবি

জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির পর্যালোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬-এ কয়েকটি ইতিবাচক সংশোধনের প্রস্তাব করা হলেও, এতে মৌলিক ঘাটতি রয়েই গেছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে এখনো বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিলগুলোতে ঘাটতি স্পষ্ট।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, কার্যকর মানবাধিকার কমিশন না থাকা এবং গুম প্রতিরোধের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হওয়ার কারণে দেশে দীর্ঘদিন ধরে বহুমাত্রিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে বিল দুটি চূড়ান্ত পাসের আগে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে অর্থবহ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে বেশ কিছু উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কমিশন সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন হবে না—এমন সুস্পষ্ট বিধানের অভাব, চাকরিরত সরকারি কর্মচারীর প্রেষণ বা লিয়েনে কমিশনার হওয়ার সুযোগ, এবং বাছাই কমিটিতে স্পিকার, দুই মন্ত্রী, সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অন্তর্ভুক্তির ফলে নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র প্রভাবের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া কমিশনের মোট জনবলের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারী প্রেষণে নিয়োগ এবং কমিশনের ব্যয় ও বরাদ্দ ব্যবহারে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক স্বাধীনতার সুরক্ষা না থাকায় কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তদন্তের কর্তৃত্ব নিয়ে টিআইবি জানায়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের ধারা ১৯-এ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশন নিজে সরাসরি অনুসন্ধান না করে অভিযুক্ত বাহিনীর কাছেই প্রতিবেদন চাইবে—এই ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। এটি ২০০৯ সালের আইনের চেয়েও দুর্বল এবং আন্তর্জাতিক প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একইভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের ধারা ১৪(৩)-এ অভিযুক্ত বাহিনীকে তদন্ত থেকে বিরত রাখা হলেও অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। অথচ অতীতে গুমের ঘটনায় বিভিন্ন পুলিশ, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিটের পরিদর্শনের তালিকা থেকে ‘সামরিক আটককেন্দ্র’ বাদ দেওয়া উদ্বেগজনক। এছাড়া সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আইনি সহায়তা, মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলের সঙ্গে আইনের সামঞ্জস্য পরীক্ষা এবং মানবাধিকার উন্নয়নে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলিও প্রস্তাবিত বিলে সংকুচিত করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সংশোধনীগুলোকে ‘কসমেটিক’ উল্লেখ করে টিআইবি জানায়, তারা খসড়া প্রণয়ন পর্যায় থেকেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিল দুটির ওপর যথাক্রমে ২৫ দফা ও ১৭ দফা সুপারিশ দিয়েছিল। সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনা ছিল মৌলিক দুর্বলতা সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি।

এছাড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের ধারা ৪-এর লিখন পুনর্বিন্যাস ছাড়া স্বাধীন তদন্ত, জবাবদিহি বা ভুক্তভোগীর অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যত কোনো মৌলিক সংশোধনের সুপারিশ করেনি সংসদীয় কমিটি। সে বিবেচনায় জবাবদিহির মূল কাঠামোর ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটির সংশোধনী সুপারিশগুলো অনেকটাই ‘কসমেটিক’ উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলে

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক: বিচারের মুখে ব্রিটিশ শিক্ষিকা

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে মৌলিক ঘাটতি দেখছে টিআইবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির পর্যালোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬-এ কয়েকটি ইতিবাচক সংশোধনের প্রস্তাব করা হলেও, এতে মৌলিক ঘাটতি রয়েই গেছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে এখনো বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিলগুলোতে ঘাটতি স্পষ্ট।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, কার্যকর মানবাধিকার কমিশন না থাকা এবং গুম প্রতিরোধের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হওয়ার কারণে দেশে দীর্ঘদিন ধরে বহুমাত্রিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে বিল দুটি চূড়ান্ত পাসের আগে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে অর্থবহ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে বেশ কিছু উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কমিশন সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন হবে না—এমন সুস্পষ্ট বিধানের অভাব, চাকরিরত সরকারি কর্মচারীর প্রেষণ বা লিয়েনে কমিশনার হওয়ার সুযোগ, এবং বাছাই কমিটিতে স্পিকার, দুই মন্ত্রী, সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অন্তর্ভুক্তির ফলে নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র প্রভাবের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া কমিশনের মোট জনবলের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারী প্রেষণে নিয়োগ এবং কমিশনের ব্যয় ও বরাদ্দ ব্যবহারে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক স্বাধীনতার সুরক্ষা না থাকায় কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তদন্তের কর্তৃত্ব নিয়ে টিআইবি জানায়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের ধারা ১৯-এ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশন নিজে সরাসরি অনুসন্ধান না করে অভিযুক্ত বাহিনীর কাছেই প্রতিবেদন চাইবে—এই ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। এটি ২০০৯ সালের আইনের চেয়েও দুর্বল এবং আন্তর্জাতিক প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একইভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের ধারা ১৪(৩)-এ অভিযুক্ত বাহিনীকে তদন্ত থেকে বিরত রাখা হলেও অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। অথচ অতীতে গুমের ঘটনায় বিভিন্ন পুলিশ, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিটের পরিদর্শনের তালিকা থেকে ‘সামরিক আটককেন্দ্র’ বাদ দেওয়া উদ্বেগজনক। এছাড়া সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আইনি সহায়তা, মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলের সঙ্গে আইনের সামঞ্জস্য পরীক্ষা এবং মানবাধিকার উন্নয়নে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলিও প্রস্তাবিত বিলে সংকুচিত করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সংশোধনীগুলোকে ‘কসমেটিক’ উল্লেখ করে টিআইবি জানায়, তারা খসড়া প্রণয়ন পর্যায় থেকেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিল দুটির ওপর যথাক্রমে ২৫ দফা ও ১৭ দফা সুপারিশ দিয়েছিল। সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনা ছিল মৌলিক দুর্বলতা সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি।

এছাড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের ধারা ৪-এর লিখন পুনর্বিন্যাস ছাড়া স্বাধীন তদন্ত, জবাবদিহি বা ভুক্তভোগীর অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যত কোনো মৌলিক সংশোধনের সুপারিশ করেনি সংসদীয় কমিটি। সে বিবেচনায় জবাবদিহির মূল কাঠামোর ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটির সংশোধনী সুপারিশগুলো অনেকটাই ‘কসমেটিক’ উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলে