লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব নাগরিকের জন্য আসছে ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি বা এক-আইডি

দেশের সব নাগরিককে একটি একক ও স্থায়ী পরিচয়পত্রের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 'ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি' বা 'এক-আইডি' নামে পরিচিত এই কার্ডটি একজন নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব ধরনের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ 'ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' (ডি-স্টার) নামে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল মেয়াদী এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, তবে কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ করা হবে ২০ কোটি। প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে দুই ডলার বা ২৪৬ টাকা এবং বিতরণ ও সরবরাহ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে এক ডলার বা ১২৩ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিটি কার্ডের পেছনে মোট ব্যয় হবে ৩৬৯ টাকা। ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা বাজেটের এই প্রকল্পের ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা সরকার বহন করবে এবং বাকি ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বিশ্বব্যাংকের ঋণ হিসেবে আসবে। এর মধ্যে কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের খাতে সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এই কার্ড চালুর ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিদ্যমান কার্ডগুলোর কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে আসবে। বর্তমানে অনেক ধরনের কার্ড থাকলেও সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে এবং মানুষকে একই তথ্য বারবার বিভিন্ন দপ্তরে জমা দিতে হয়। নতুন এই একক পরিচয়পত্র চালু হলে নাগরিক ভোগান্তি কমবে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এই ধারণাকে 'ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগও তৈরি করবে। কৃষক কার্ড দিতে খরচ হবে ৬৮১ কোটি টাকা।

তবে এই প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে ভিন্নমতও রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেনের মতে, নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্রকেই একক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। এছাড়া দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিপুল ব্যয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

ফ্যামিলি কার্ড তৈরি ও তথ্য সংগ্রহে ব্যয় ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এক লাফে দ্বিগুণ করল বিসিবি

সব নাগরিকের জন্য আসছে ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি বা এক-আইডি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সব নাগরিককে একটি একক ও স্থায়ী পরিচয়পত্রের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 'ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি' বা 'এক-আইডি' নামে পরিচিত এই কার্ডটি একজন নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব ধরনের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ 'ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' (ডি-স্টার) নামে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল মেয়াদী এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, তবে কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ করা হবে ২০ কোটি। প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে দুই ডলার বা ২৪৬ টাকা এবং বিতরণ ও সরবরাহ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে এক ডলার বা ১২৩ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিটি কার্ডের পেছনে মোট ব্যয় হবে ৩৬৯ টাকা। ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা বাজেটের এই প্রকল্পের ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা সরকার বহন করবে এবং বাকি ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বিশ্বব্যাংকের ঋণ হিসেবে আসবে। এর মধ্যে কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের খাতে সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এই কার্ড চালুর ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিদ্যমান কার্ডগুলোর কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে আসবে। বর্তমানে অনেক ধরনের কার্ড থাকলেও সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে এবং মানুষকে একই তথ্য বারবার বিভিন্ন দপ্তরে জমা দিতে হয়। নতুন এই একক পরিচয়পত্র চালু হলে নাগরিক ভোগান্তি কমবে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এই ধারণাকে 'ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট' হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগও তৈরি করবে। কৃষক কার্ড দিতে খরচ হবে ৬৮১ কোটি টাকা।

তবে এই প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে ভিন্নমতও রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেনের মতে, নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্রকেই একক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। এছাড়া দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিপুল ব্যয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

ফ্যামিলি কার্ড তৈরি ও তথ্য সংগ্রহে ব্যয় ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা।