লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালির ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি

ইতালির প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৮০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধানের রেকর্ড গড়েছেন জর্জিয়া মেলোনি।

ইতালির ডানপন্থি সরকারের নেতৃত্ব প্রদানকারী জর্জিয়া মেলোনি দেশটির প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৮০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। শুক্রবার পর্যন্ত তার সরকার ১,৪১৩ দিন ক্ষমতায় রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি ধনকুবের ও মিডিয়া ব্যবসায়ী সিলভিও বারলুসকোনির একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। তবে বিভিন্ন সময় মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোট নয় বছর দায়িত্ব পালনের রেকর্ড এখনো বারলুসকোনির দখলেই রয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ইতালিতে গঠিত ৬৮টি সরকারের মধ্যে মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার সবচেয়ে ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত। গড়ে ইতালির প্রতিটি সরকার প্রায় ১৩ মাস ক্ষমতায় থাকলেও মেলোনি তার অবস্থানকে আরও দীর্ঘায়িত করেছেন। এই রেকর্ড উদযাপনের লক্ষ্যে শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলীয় পুগলিয়া অঞ্চলের বন্দরনগরী বারিতে একটি বড় সমাবেশের আয়োজন করে তার দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)। সেখানে প্রায় ৮০টি কোচে করে সমর্থকদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় মেলোনির ভাষণের পাশাপাশি উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি ও আন্তোনিও তাজানিও ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে এতে যুক্ত হন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে এই আয়োজনটি প্রচারণার একটি সুযোগ হিসেবে কাজ করছে।

মেলোনি সরকার নিজেদের চার বছরের শাসনকালের সাফল্যের ফিরিস্তি দিয়ে দাবি করছে যে, এই সময়ে দেশে কর্মসংস্থান ১০ লাখ বেড়েছে এবং বেকারত্বের হার ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এছাড়া ব্যক্তিগত আয়কর ২১০০ কোটি ইউরো বা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার কমানো এবং অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করাকে তারা বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। বিশ্বমঞ্চে ইতালির প্রভাব বৃদ্ধির দাবিও করেছেন নব্য-ফ্যাসিবাদী শিকড় থাকা দলটির এই প্রধানমন্ত্রী। জাতীয়তাবাদী অবস্থানের কারণে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, যদিও ট্রাম্পের দাবি ছিল মেলোনিই ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। জবাবে মেলোনি বলেছিলেন, ইতালি কারও কাছে অনুনয় করে না, যা ইতালীয়দের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।

তবে মেলোনির এই দীর্ঘস্থায়ী শাসনের সমালোচনাও রয়েছে। বিরোধী পক্ষ ও সমালোচকদের মতে, সরকারি পরিসংখ্যানে উন্নতির দাবি থাকলেও দেশের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সরকারি প্রশাসনের অদক্ষতা, দুর্বল উৎপাদনশীলতা এবং জনসংখ্যাগত সংকট এখনো রয়ে গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। CGIL ট্রেড ইউনিয়নের প্রধান মাউরিজিও লান্দিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মজুরি বৃদ্ধি বা চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আগের চেয়ে দুর্বল হয়েছে। বারিতে সরকারি দলের সমাবেশের পাশাপাশি বিরোধীরাও পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করেছে। তারা মেলোনি সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও অস্ত্রের অর্থনীতি, পুলিশি রাষ্ট্র গঠন এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ এনেছে। এদিকে ২০২৭ সালের নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী এবং মেলোনির দলের চেয়েও কট্টর ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত রবার্তো ভান্নাচ্চি এবং তার সমর্থকরা মনে করছেন, মেলোনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে অতিরিক্ত মধ্যপন্থি হয়ে গেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌর বিদ্যুতের যন্ত্রাংশ আমদানিতে কর ছাড় দিল মন্ত্রিসভা

ইতালির ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির ডানপন্থি সরকারের নেতৃত্ব প্রদানকারী জর্জিয়া মেলোনি দেশটির প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৮০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। শুক্রবার পর্যন্ত তার সরকার ১,৪১৩ দিন ক্ষমতায় রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি ধনকুবের ও মিডিয়া ব্যবসায়ী সিলভিও বারলুসকোনির একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। তবে বিভিন্ন সময় মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোট নয় বছর দায়িত্ব পালনের রেকর্ড এখনো বারলুসকোনির দখলেই রয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ইতালিতে গঠিত ৬৮টি সরকারের মধ্যে মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার সবচেয়ে ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত। গড়ে ইতালির প্রতিটি সরকার প্রায় ১৩ মাস ক্ষমতায় থাকলেও মেলোনি তার অবস্থানকে আরও দীর্ঘায়িত করেছেন। এই রেকর্ড উদযাপনের লক্ষ্যে শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলীয় পুগলিয়া অঞ্চলের বন্দরনগরী বারিতে একটি বড় সমাবেশের আয়োজন করে তার দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)। সেখানে প্রায় ৮০টি কোচে করে সমর্থকদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় মেলোনির ভাষণের পাশাপাশি উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি ও আন্তোনিও তাজানিও ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে এতে যুক্ত হন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে এই আয়োজনটি প্রচারণার একটি সুযোগ হিসেবে কাজ করছে।

মেলোনি সরকার নিজেদের চার বছরের শাসনকালের সাফল্যের ফিরিস্তি দিয়ে দাবি করছে যে, এই সময়ে দেশে কর্মসংস্থান ১০ লাখ বেড়েছে এবং বেকারত্বের হার ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এছাড়া ব্যক্তিগত আয়কর ২১০০ কোটি ইউরো বা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার কমানো এবং অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করাকে তারা বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। বিশ্বমঞ্চে ইতালির প্রভাব বৃদ্ধির দাবিও করেছেন নব্য-ফ্যাসিবাদী শিকড় থাকা দলটির এই প্রধানমন্ত্রী। জাতীয়তাবাদী অবস্থানের কারণে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, যদিও ট্রাম্পের দাবি ছিল মেলোনিই ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। জবাবে মেলোনি বলেছিলেন, ইতালি কারও কাছে অনুনয় করে না, যা ইতালীয়দের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।

তবে মেলোনির এই দীর্ঘস্থায়ী শাসনের সমালোচনাও রয়েছে। বিরোধী পক্ষ ও সমালোচকদের মতে, সরকারি পরিসংখ্যানে উন্নতির দাবি থাকলেও দেশের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সরকারি প্রশাসনের অদক্ষতা, দুর্বল উৎপাদনশীলতা এবং জনসংখ্যাগত সংকট এখনো রয়ে গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। CGIL ট্রেড ইউনিয়নের প্রধান মাউরিজিও লান্দিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মজুরি বৃদ্ধি বা চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আগের চেয়ে দুর্বল হয়েছে। বারিতে সরকারি দলের সমাবেশের পাশাপাশি বিরোধীরাও পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করেছে। তারা মেলোনি সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও অস্ত্রের অর্থনীতি, পুলিশি রাষ্ট্র গঠন এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ এনেছে। এদিকে ২০২৭ সালের নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী এবং মেলোনির দলের চেয়েও কট্টর ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত রবার্তো ভান্নাচ্চি এবং তার সমর্থকরা মনে করছেন, মেলোনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে অতিরিক্ত মধ্যপন্থি হয়ে গেছেন।