লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তায় শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক জোটের ওপর নির্ভরতা নয়: কাতার

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক জোটের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকা উচিত নয় বলে মনে করে কাতার। নিজেদের নিরাপত্তা সুরক্ষায় এই অঞ্চলের দেশগুলোকে আরও স্বনির্ভর হয়ে উঠতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানীতে আয়োজিত হিলি ফোরামে অংশ নিয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই মন্তব্য করেছেন।

ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে মুখপাত্র বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করা। অংশীদার ও মিত্রদের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করলেও, কেবল তাদের ওপর ভরসা করে বসে থাকা যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিটি কাতারে অবস্থিত হলেও দেশটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত প্রশমনে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের চালানো বড় ধরনের হামলার শিকারও হতে হয়েছে কাতারকে। মূলত পুরো যুদ্ধজুড়ে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। একদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের পাল্টা অবরোধ আরও জোরদার করেছে।

এই সংকটের সমাধান ও মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে গত মাসে তেহরান সফর করেছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। এর আগে ইরান ও ওমানের পক্ষ থেকেও হরমুজ প্রণালিতে একটি অস্থায়ী নৌপথ চালু এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণের বিষয়ে আলোচনা করার কথা জানানো হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের ‘আত্মঘাতী’ নীতিতেই বর্তমান জ্বালানি সংকট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিরাপত্তায় শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক জোটের ওপর নির্ভরতা নয়: কাতার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক জোটের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকা উচিত নয় বলে মনে করে কাতার। নিজেদের নিরাপত্তা সুরক্ষায় এই অঞ্চলের দেশগুলোকে আরও স্বনির্ভর হয়ে উঠতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানীতে আয়োজিত হিলি ফোরামে অংশ নিয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই মন্তব্য করেছেন।

ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে মুখপাত্র বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করা। অংশীদার ও মিত্রদের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করলেও, কেবল তাদের ওপর ভরসা করে বসে থাকা যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিটি কাতারে অবস্থিত হলেও দেশটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত প্রশমনে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের চালানো বড় ধরনের হামলার শিকারও হতে হয়েছে কাতারকে। মূলত পুরো যুদ্ধজুড়ে মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। একদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের পাল্টা অবরোধ আরও জোরদার করেছে।

এই সংকটের সমাধান ও মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে গত মাসে তেহরান সফর করেছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। এর আগে ইরান ও ওমানের পক্ষ থেকেও হরমুজ প্রণালিতে একটি অস্থায়ী নৌপথ চালু এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণের বিষয়ে আলোচনা করার কথা জানানো হয়েছিল।