লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন ধারা বৃদ্ধ মা-বাবাকে সুরক্ষা দেবে: বিশেষজ্ঞ

সম্পত্তি দান করার পরও আজীবন তা ভোগ করার অধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আইনি পরিবর্তনের ফলে বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের বড় সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর অনেক মা-বাবা যেভাবে অসহায় হয়ে পড়েন, নতুন ধারাটি তাঁদের সেই ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেবে।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ২০২২ সালের একটি ঘটনা এ প্রসঙ্গে বেশ আলোচিত। সেখানে শাহজাহান মৃধা নামের এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার আগে তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগমকে ৬৪ শতাংশ জমি লিখে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ৮২ বছর বয়সী হালিমা সেই জমি বড় ছেলে মাহাবুব আলম মৃধাকে দান করেন। জমি পাওয়ার পর ছেলে তাঁর বৃদ্ধ মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে হালিমা আর সেই সম্পত্তির ওপর কোনো দাবি করতে পারেননি। আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের মতে, নতুন সংশোধিত আইনের ফলে হালিমার মতো ব্যক্তিদের আর এমন অসহায় পরিস্থিতিতে পড়তে হবে না।

গত রবিবার জাতীয় সংসদে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল পাস হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। নতুন সংশোধিত আইনে দুটি নতুন ধারা—১২২ (ক) ও ১২২ (খ) সংযোজন করা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান থাকলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার বহাল রেখে দান করার সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। এই নতুন পদ্ধতিটি সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং এটি প্রচলিত সাধারণ দান বা মুসলিম আইনের অধীন হেবার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

সংশোধিত আইনের ১২২ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, দাতা নিজের জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিজের কাছে রেখেই অন্যকে তা দান করতে পারবেন। এই ধারার অধীনে বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের, দাদা-দাদি বা নানা-নানি তাঁদের নাতি-নাতনিকে, এবং সন্তান বা নাতি-নাতনিরা তাঁদের বাবা-মা বা দাদা-দাদি/নানা-নানিকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও এই নিয়মে দান করা যাবে। দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে, তবে দাতার আজীবন ভোগের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে। অন্যদিকে, ১২২ (খ) ধারা অনুযায়ী, দান করা সম্পত্তি নিবন্ধনের পর সাধারণত তা আর বাতিল করা যাবে না। তবে চিকিৎসা, শিক্ষা, আর্থিক বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজন মেটানোর মতো সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে দান বাতিল বা পরিবর্তন করা সম্ভব।

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং নারীপক্ষর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভিন হক এই সংশোধনীর প্রশংসা করে বলেন, অনেক সময় বাবা-মায়ের পেনশনের টাকা কেড়ে নেওয়া বা সম্পত্তি লিখে নিয়ে তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এই আইন বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের সুরক্ষা দেবে। সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, এটি মূলত সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধন, মুসলিম পারিবারিক আইনের নয়। ফলে মুসলিম আইনে দানের যে বিধান রয়েছে, তা আগের মতোই অক্ষুণ্ন থাকবে। তিনি আরও যোগ করেন, বাবা-মাকে অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি দিতেই এই ভালো নিয়তে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীন মনে করেন, নিজের সম্পত্তির ভোগাধিকার বজায় রাখার এই সুযোগটি বিশেষ করে বাবা-মা ও নারীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। সন্তান সম্পত্তি পাওয়ার পর মা-বাবার দায়িত্ব না নিলেও এই আইনের কারণে মা-বাবা অন্তত নিজেদের সম্পত্তিতে থাকার বা তা ভোগ করার অধিকার হারাবেন না। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এটিকে সরকারের একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নারীরা এর মাধ্যমে বেশি উপকৃত হবেন। তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদে এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের ওপর জোর দেন।

অবশ্য বিলটি পাসের সময় সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা এটিকে শরিয়তসম্মত নয় বলে দাবি করেন এবং ক্ষণিকের জন্য সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী এই আইনকে 'কোরআন-সুন্নাহবিরোধী' আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবিতে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আইনটি প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যদিকে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এক বিবৃতিতে জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সুরক্ষার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও নতুন ধারাটি যেন ইসলামের মূল মিরাস ও হেবার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করতে আইনটি আরও পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখের বেশি, যা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। আইনবিদদের মতে, এই সংশোধনীর ফলে তিনটি বড় সুবিধা হবে—বার্ধক্যে দাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, সব ধর্মের মানুষের জন্য এই ভোগাধিকারের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেওয়ানি আদালতে প্রতারণার মাধ্যমে দানের দলিল বাতিলের মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ খুঁজছে ইরাক

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন ধারা বৃদ্ধ মা-বাবাকে সুরক্ষা দেবে: বিশেষজ্ঞ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্পত্তি দান করার পরও আজীবন তা ভোগ করার অধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আইনি পরিবর্তনের ফলে বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের বড় সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর অনেক মা-বাবা যেভাবে অসহায় হয়ে পড়েন, নতুন ধারাটি তাঁদের সেই ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেবে।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ২০২২ সালের একটি ঘটনা এ প্রসঙ্গে বেশ আলোচিত। সেখানে শাহজাহান মৃধা নামের এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার আগে তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগমকে ৬৪ শতাংশ জমি লিখে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ৮২ বছর বয়সী হালিমা সেই জমি বড় ছেলে মাহাবুব আলম মৃধাকে দান করেন। জমি পাওয়ার পর ছেলে তাঁর বৃদ্ধ মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে হালিমা আর সেই সম্পত্তির ওপর কোনো দাবি করতে পারেননি। আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের মতে, নতুন সংশোধিত আইনের ফলে হালিমার মতো ব্যক্তিদের আর এমন অসহায় পরিস্থিতিতে পড়তে হবে না।

গত রবিবার জাতীয় সংসদে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল পাস হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। নতুন সংশোধিত আইনে দুটি নতুন ধারা—১২২ (ক) ও ১২২ (খ) সংযোজন করা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান থাকলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার বহাল রেখে দান করার সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। এই নতুন পদ্ধতিটি সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং এটি প্রচলিত সাধারণ দান বা মুসলিম আইনের অধীন হেবার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

সংশোধিত আইনের ১২২ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, দাতা নিজের জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিজের কাছে রেখেই অন্যকে তা দান করতে পারবেন। এই ধারার অধীনে বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের, দাদা-দাদি বা নানা-নানি তাঁদের নাতি-নাতনিকে, এবং সন্তান বা নাতি-নাতনিরা তাঁদের বাবা-মা বা দাদা-দাদি/নানা-নানিকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও এই নিয়মে দান করা যাবে। দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে, তবে দাতার আজীবন ভোগের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে। অন্যদিকে, ১২২ (খ) ধারা অনুযায়ী, দান করা সম্পত্তি নিবন্ধনের পর সাধারণত তা আর বাতিল করা যাবে না। তবে চিকিৎসা, শিক্ষা, আর্থিক বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজন মেটানোর মতো সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে দান বাতিল বা পরিবর্তন করা সম্ভব।

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং নারীপক্ষর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভিন হক এই সংশোধনীর প্রশংসা করে বলেন, অনেক সময় বাবা-মায়ের পেনশনের টাকা কেড়ে নেওয়া বা সম্পত্তি লিখে নিয়ে তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এই আইন বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের সুরক্ষা দেবে। সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, এটি মূলত সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধন, মুসলিম পারিবারিক আইনের নয়। ফলে মুসলিম আইনে দানের যে বিধান রয়েছে, তা আগের মতোই অক্ষুণ্ন থাকবে। তিনি আরও যোগ করেন, বাবা-মাকে অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি দিতেই এই ভালো নিয়তে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীন মনে করেন, নিজের সম্পত্তির ভোগাধিকার বজায় রাখার এই সুযোগটি বিশেষ করে বাবা-মা ও নারীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। সন্তান সম্পত্তি পাওয়ার পর মা-বাবার দায়িত্ব না নিলেও এই আইনের কারণে মা-বাবা অন্তত নিজেদের সম্পত্তিতে থাকার বা তা ভোগ করার অধিকার হারাবেন না। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এটিকে সরকারের একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নারীরা এর মাধ্যমে বেশি উপকৃত হবেন। তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদে এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের ওপর জোর দেন।

অবশ্য বিলটি পাসের সময় সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা এটিকে শরিয়তসম্মত নয় বলে দাবি করেন এবং ক্ষণিকের জন্য সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী এই আইনকে 'কোরআন-সুন্নাহবিরোধী' আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবিতে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আইনটি প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যদিকে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এক বিবৃতিতে জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সুরক্ষার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও নতুন ধারাটি যেন ইসলামের মূল মিরাস ও হেবার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করতে আইনটি আরও পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখের বেশি, যা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। আইনবিদদের মতে, এই সংশোধনীর ফলে তিনটি বড় সুবিধা হবে—বার্ধক্যে দাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, সব ধর্মের মানুষের জন্য এই ভোগাধিকারের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেওয়ানি আদালতে প্রতারণার মাধ্যমে দানের দলিল বাতিলের মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।