লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুড়ঙ্গে ৯ দিন: সবাইকে বাঁচাতে গিয়েই সময় ফুরিয়েছিল সঞ্জয়ের

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঘটনায় ৯ দিন আটকে থাকার পর দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের নুয়াকোটের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে আজ শুক্রবার জীবিত উদ্ধার হয়েছেন দুই শ্রমিক। উদ্ধার হওয়া এই দুই কর্মীর একজন হলেন মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ, যিনি সপ্তরি জেলার বাসিন্দা। নেপাল–তিব্বত সীমান্তে সম্প্রতি আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের সময় অন্য সবাই যখন প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছিলেন, তখন সঞ্জয় সাহ সেখানেই অবস্থান করেছিলেন। উদ্ধারকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, সবাইকে নিরাপদে বের করে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে থাকায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার সময় সঞ্জয় ‘ত্রিশূলী–৩এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকক্ষে কাজ করছিলেন। নিজের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা না করে তিনি প্রথমে অন্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। নেপালি সেনাবাহিনীর একটি মেডিক্যাল টিমের কাছে উদ্ধার হওয়ার পরপরই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সঞ্জয় বলেন, “আমি নিয়ন্ত্রণকক্ষে কাজ করছিলাম। সবাইকে নিরাপদে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে আনার মূল দায়িত্ব ছিল আমারই।”

সঞ্জয় জানান, দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সবাইকে দ্রুত ছুটে বের হয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছিলেন। সবাইকে নিরাপদে বের করে দিতে গিয়েই তাঁর নিজের আর সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার সময় ছিল না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি সবাইকে দৌড়ে চলে যেতে বলেছিলাম। সেটি করতে গিয়েই আমার মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শেষ মুহূর্তে আমি আর নিজে বের হতে পারিনি।”

সুড়ঙ্গের ভেতর আটকে থাকা দিনগুলোয় উদ্ধারের আশায় প্রহর গুনতে গুনতে অনবরত ঈশ্বরকে স্মরণ করছিলেন বলে জানান সঞ্জয়। তিনি জানান, সুড়ঙ্গের খুব কাছাকাছি থাকা মাত্র তিন বা চারজনের সঙ্গে তিনি কথা বলে বা শব্দ করে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন। তবে সুড়ঙ্গের আরও গভীরে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আশপাশে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সঞ্জয়ের ভাষ্যমতে, সুড়ঙ্গটি অনেক দীর্ঘ হওয়ায় সবাই হয়তো বের হতে পারেননি। এছাড়া বন্যার পানির তীব্র স্রোত সুড়ঙ্গের আরও ভেতরের দিকে তাঁদের ভাসিয়ে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলেও তাঁর ধারণা।

গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী উপত্যকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানে। এর ঠিক ৯ দিন পর আজ ‘ত্রিশূলী–৩এ’ সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয়কে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁর সঙ্গে এদিনই সুড়ঙ্গটি থেকে কাঠমান্ডুর বাসিন্দা কবির মহারজন নামের আরেক কর্মীকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরমীর শতবর্ষী তুন্দুল রুটির স্বাদে জমে ওঠে রুটি মহল

সুড়ঙ্গে ৯ দিন: সবাইকে বাঁচাতে গিয়েই সময় ফুরিয়েছিল সঞ্জয়ের

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের নুয়াকোটের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে আজ শুক্রবার জীবিত উদ্ধার হয়েছেন দুই শ্রমিক। উদ্ধার হওয়া এই দুই কর্মীর একজন হলেন মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ, যিনি সপ্তরি জেলার বাসিন্দা। নেপাল–তিব্বত সীমান্তে সম্প্রতি আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের সময় অন্য সবাই যখন প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছিলেন, তখন সঞ্জয় সাহ সেখানেই অবস্থান করেছিলেন। উদ্ধারকারীদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, সবাইকে নিরাপদে বের করে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে থাকায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার সময় সঞ্জয় ‘ত্রিশূলী–৩এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকক্ষে কাজ করছিলেন। নিজের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা না করে তিনি প্রথমে অন্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। নেপালি সেনাবাহিনীর একটি মেডিক্যাল টিমের কাছে উদ্ধার হওয়ার পরপরই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সঞ্জয় বলেন, “আমি নিয়ন্ত্রণকক্ষে কাজ করছিলাম। সবাইকে নিরাপদে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে আনার মূল দায়িত্ব ছিল আমারই।”

সঞ্জয় জানান, দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সবাইকে দ্রুত ছুটে বের হয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছিলেন। সবাইকে নিরাপদে বের করে দিতে গিয়েই তাঁর নিজের আর সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার সময় ছিল না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি সবাইকে দৌড়ে চলে যেতে বলেছিলাম। সেটি করতে গিয়েই আমার মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শেষ মুহূর্তে আমি আর নিজে বের হতে পারিনি।”

সুড়ঙ্গের ভেতর আটকে থাকা দিনগুলোয় উদ্ধারের আশায় প্রহর গুনতে গুনতে অনবরত ঈশ্বরকে স্মরণ করছিলেন বলে জানান সঞ্জয়। তিনি জানান, সুড়ঙ্গের খুব কাছাকাছি থাকা মাত্র তিন বা চারজনের সঙ্গে তিনি কথা বলে বা শব্দ করে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন। তবে সুড়ঙ্গের আরও গভীরে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আশপাশে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সঞ্জয়ের ভাষ্যমতে, সুড়ঙ্গটি অনেক দীর্ঘ হওয়ায় সবাই হয়তো বের হতে পারেননি। এছাড়া বন্যার পানির তীব্র স্রোত সুড়ঙ্গের আরও ভেতরের দিকে তাঁদের ভাসিয়ে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলেও তাঁর ধারণা।

গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী উপত্যকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানে। এর ঠিক ৯ দিন পর আজ ‘ত্রিশূলী–৩এ’ সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয়কে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁর সঙ্গে এদিনই সুড়ঙ্গটি থেকে কাঠমান্ডুর বাসিন্দা কবির মহারজন নামের আরেক কর্মীকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।