লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরমীর শতবর্ষী তুন্দুল রুটির স্বাদে জমে ওঠে রুটি মহল

গাজীপুরের শ্রীপুরের ২০০ বছরের পুরোনো বরমী বাজারে শত বছর ধরে টিকে আছে তুন্দুল রুটির ঐতিহ্য। দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে এই রুটি বিক্রির পদ্ধতি স্থানীয় ও দর্শনার্থীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজারে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই হাটে শত বছর ধরে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী তুন্দুল রুটির ব্যবসা। বাজারের ফলপট্টির পাশের সরু গলিতে অবস্থিত এই রুটি মহলটি স্থানীয়দের কাছে বেশ পরিচিত। বর্তমানে এই গলিতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৩টি রুটির দোকান রয়েছে। তবে বুধবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে এই গলির দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং সকাল থেকেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

বরমীর এই রুটির বিশেষত্ব শুধু এর স্বাদে নয়, বরং বিক্রির পদ্ধতিতে। দেশের অন্যান্য স্থানে রুটি সাধারণত পিস হিসেবে বিক্রি হলেও এখানে তা দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে বিক্রি করা হয়। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী এক কেজি, আধা কেজি বা তার কম-বেশি মেপে রুটি দেওয়া হয়, যা পরিবারের জন্য রুটি কিনতে আসা ক্রেতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

রুটি মহলের অন্যতম ব্যস্ত দোকানদার কফিল উদ্দিনের টিনের দোকানে বুধবার সকাল থেকেই ছিল ক্রেতাদের আনাগোনা। দোকানের সামনে বড় টেবিলে সাজানো থাকে তুন্দুল রুটি ও জিলাপি। দোকানের ভেতর বেঞ্চে বসে অনেকে গরম রুটি ডাল ও শুকনা মরিচের ভর্তা দিয়ে নাশতা করেন। কফিল উদ্দিন জানান, তার দাদার আমল থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবসা তিনি তার বাবার পর এখন নিজে ধরে রেখেছেন। এটি তাদের কাছে শুধুমাত্র ব্যবসা নয়, বরং একটি পারিবারিক ঐতিহ্য।

রুটি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ নজরকাড়া। দোকানের এক পাশে বিশাল ও গভীর চুলায় কারিগররা আটার মণ্ড বেলে বিশেষ কৌশলে আঙুলের চাপে রুটি পাতলা ও বড় করেন। এরপর কাপড়ের তৈরি চেপ্টা পাত্রে রেখে রুটি চুলার ভেতরে দেওয়া হয় এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তা ফুলে ওঠে। ছোট লোহার দণ্ড দিয়ে রুটি বের করে ওজন করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

কফিল উদ্দিনের দোকানে প্রতি কেজি তুন্দুল রুটির দাম ১২০ টাকা। দোকানে বসে খেলে বড় রুটি ২০ টাকা এবং ছোট রুটি ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়। চাহিদার কারণে এখন শুধু হাটের দিন নয়, সপ্তাহের প্রতিদিনই রুটি তৈরি ও বিক্রি করা হয়। কফিল উদ্দিনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বুধবার হাটের দিনে তার দোকানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার রুটি বিক্রি হয়। তবে উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় আকারের রুটি তৈরি করা এখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপরও স্বাদ ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরমী বাজারের এই রুটি মহল এখন বাজারের একটি অন্যতম পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুরুজ মিয়া, আসাদুজ্জামান এবং হিরন মিয়ার মতো ক্রেতারা জানান, হাটের দিনে রুটি খাওয়া ও পরিবারের জন্য নিয়ে যাওয়া তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কফিলের ছেলে সাগর জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে কাজ করছেন এবং তারা চান বরমীর তুন্দুল রুটির এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও অটুট থাকুক।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ হকি দল

বরমীর শতবর্ষী তুন্দুল রুটির স্বাদে জমে ওঠে রুটি মহল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজারে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই হাটে শত বছর ধরে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী তুন্দুল রুটির ব্যবসা। বাজারের ফলপট্টির পাশের সরু গলিতে অবস্থিত এই রুটি মহলটি স্থানীয়দের কাছে বেশ পরিচিত। বর্তমানে এই গলিতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৩টি রুটির দোকান রয়েছে। তবে বুধবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে এই গলির দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং সকাল থেকেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

বরমীর এই রুটির বিশেষত্ব শুধু এর স্বাদে নয়, বরং বিক্রির পদ্ধতিতে। দেশের অন্যান্য স্থানে রুটি সাধারণত পিস হিসেবে বিক্রি হলেও এখানে তা দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে বিক্রি করা হয়। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী এক কেজি, আধা কেজি বা তার কম-বেশি মেপে রুটি দেওয়া হয়, যা পরিবারের জন্য রুটি কিনতে আসা ক্রেতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

রুটি মহলের অন্যতম ব্যস্ত দোকানদার কফিল উদ্দিনের টিনের দোকানে বুধবার সকাল থেকেই ছিল ক্রেতাদের আনাগোনা। দোকানের সামনে বড় টেবিলে সাজানো থাকে তুন্দুল রুটি ও জিলাপি। দোকানের ভেতর বেঞ্চে বসে অনেকে গরম রুটি ডাল ও শুকনা মরিচের ভর্তা দিয়ে নাশতা করেন। কফিল উদ্দিন জানান, তার দাদার আমল থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবসা তিনি তার বাবার পর এখন নিজে ধরে রেখেছেন। এটি তাদের কাছে শুধুমাত্র ব্যবসা নয়, বরং একটি পারিবারিক ঐতিহ্য।

রুটি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ নজরকাড়া। দোকানের এক পাশে বিশাল ও গভীর চুলায় কারিগররা আটার মণ্ড বেলে বিশেষ কৌশলে আঙুলের চাপে রুটি পাতলা ও বড় করেন। এরপর কাপড়ের তৈরি চেপ্টা পাত্রে রেখে রুটি চুলার ভেতরে দেওয়া হয় এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তা ফুলে ওঠে। ছোট লোহার দণ্ড দিয়ে রুটি বের করে ওজন করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

কফিল উদ্দিনের দোকানে প্রতি কেজি তুন্দুল রুটির দাম ১২০ টাকা। দোকানে বসে খেলে বড় রুটি ২০ টাকা এবং ছোট রুটি ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়। চাহিদার কারণে এখন শুধু হাটের দিন নয়, সপ্তাহের প্রতিদিনই রুটি তৈরি ও বিক্রি করা হয়। কফিল উদ্দিনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বুধবার হাটের দিনে তার দোকানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার রুটি বিক্রি হয়। তবে উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বড় আকারের রুটি তৈরি করা এখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপরও স্বাদ ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরমী বাজারের এই রুটি মহল এখন বাজারের একটি অন্যতম পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুরুজ মিয়া, আসাদুজ্জামান এবং হিরন মিয়ার মতো ক্রেতারা জানান, হাটের দিনে রুটি খাওয়া ও পরিবারের জন্য নিয়ে যাওয়া তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কফিলের ছেলে সাগর জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে কাজ করছেন এবং তারা চান বরমীর তুন্দুল রুটির এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও অটুট থাকুক।