লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারী দল বিএনপি: রুহুল কবির রিজভী

বিএনপি জনগণের কাছে ওয়াদা ও অঙ্গীকার রক্ষাকারী একটি দল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর আপসহীনভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করেছেন। জনগণের কাছে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি শেষ পর্যন্ত দৃঢ় ছিলেন। নানা নিপীড়ন, নির্যাতন ও ভয়াবহ নৈরাজ্যের মধ্যেও তিনি দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চক্রান্তের মাধ্যমে তাকে পর্যুদস্ত করার চেষ্টা করা হলেও গণতন্ত্র সুসংহত করার প্রত্যয় থেকে তিনি কখনো সরে যাননি। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে তার নেতৃত্বেই দীর্ঘদিনের আন্দোলন প্রবল গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। স্বৈরাচারের পতন ঘটানোর মাধ্যমে তিনি ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক চেতনা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য। অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এখন উন্নয়ন, উৎপাদন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। হার্ভেস্ট কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার বসে নেই। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যদিও জ্বালানি নিয়ে আসার পথে একাধিক জাহাজে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। মহেশখালীর টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া দল ও সরকার আলাদা সত্তা হলেও তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। তিনি জানান, দলের যোগ্য নেতারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফার কর্মসূচি আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা দেশে বিএনপি সংগঠিত হচ্ছে এবং জনগণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। দল ও সরকারের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে যেহেতু বিএনপি রয়েছে, তাই দলের যোগ্য নেতারাই সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। যারা দলে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা দলের কাজ করবেন এবং সরকারের মন্ত্রীরা তাদের সাংগঠনিক অবস্থান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।

জনপ্রিয়তা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে সততার সঙ্গে জনগণের জন্য কাজ করা। জনগণ মূলত দেখতে চায় সংকটের সময় সরকার কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করছে। বর্তমান সরকার সেই আন্তরিকতার চরম নিদর্শন দেখাচ্ছে। তাই জনকল্যাণের পথ থেকে সরকার বিচ্যুত হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরবে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারী দল বিএনপি: রুহুল কবির রিজভী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৪০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপি জনগণের কাছে ওয়াদা ও অঙ্গীকার রক্ষাকারী একটি দল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর আপসহীনভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করেছেন। জনগণের কাছে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে তিনি শেষ পর্যন্ত দৃঢ় ছিলেন। নানা নিপীড়ন, নির্যাতন ও ভয়াবহ নৈরাজ্যের মধ্যেও তিনি দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চক্রান্তের মাধ্যমে তাকে পর্যুদস্ত করার চেষ্টা করা হলেও গণতন্ত্র সুসংহত করার প্রত্যয় থেকে তিনি কখনো সরে যাননি। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে তার নেতৃত্বেই দীর্ঘদিনের আন্দোলন প্রবল গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। স্বৈরাচারের পতন ঘটানোর মাধ্যমে তিনি ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক চেতনা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য। অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এখন উন্নয়ন, উৎপাদন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। হার্ভেস্ট কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার বসে নেই। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যদিও জ্বালানি নিয়ে আসার পথে একাধিক জাহাজে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। মহেশখালীর টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া দল ও সরকার আলাদা সত্তা হলেও তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। তিনি জানান, দলের যোগ্য নেতারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফার কর্মসূচি আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা দেশে বিএনপি সংগঠিত হচ্ছে এবং জনগণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। দল ও সরকারের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে যেহেতু বিএনপি রয়েছে, তাই দলের যোগ্য নেতারাই সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। যারা দলে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা দলের কাজ করবেন এবং সরকারের মন্ত্রীরা তাদের সাংগঠনিক অবস্থান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।

জনপ্রিয়তা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে সততার সঙ্গে জনগণের জন্য কাজ করা। জনগণ মূলত দেখতে চায় সংকটের সময় সরকার কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করছে। বর্তমান সরকার সেই আন্তরিকতার চরম নিদর্শন দেখাচ্ছে। তাই জনকল্যাণের পথ থেকে সরকার বিচ্যুত হবে না।