লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৈনিক আয়ের সংকটে রিকশাচালকদের জীবন: খাবার জোগাড় করাই দায়

সারাদিন রিকশা চালিয়ে দিনশেষে হাতে থাকছে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এই সামান্য উপার্জনে খাবার, বাসাভাড়া ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন চালকরা।

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ২২

সকাল থেকে রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে দিনশেষে হাতে থাকে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে খাবার, বাসাভাড়া এবং সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটানো এখন রিকশাচালকদের জন্য এক কঠিন লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিই নয়, বরং গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে মূল্যবান কর্মঘণ্টা হারানো এবং ব্যবসার মন্দার কারণে অনেকেই এখন তাদের আগের পেশা ছেড়ে দৈনিক মজুরির কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

গত ১৪ আগস্ট দুপুরে মৌচাক মার্কেট এলাকায় কথা হয় ৪৫ বছর বয়সী প্যাডেলচালিত রিকশাচালক ইব্রাহিম মিঞার সঙ্গে। ফার্মগেট থেকে যাত্রী নিয়ে মৌচাকে আসতে যানজটে তার প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। এরপর সড়কের পাশে একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানে ডাল ও আলুভর্তা দিয়ে দুপুরের খাবার সারছিলেন তিনি। ইব্রাহিম জানান, তার দুই ছেলে স্কুলে পড়ে এবং সংসার চালানোর মতো তাকে সহযোগিতা করার কেউ নেই। তিনি বলেন, 'ইনকাম তো নেই। সংসার চালাতে হয়। কম টাকায় খাওয়ার চেষ্টা করি। কখনো কখনো না খেয়েও থাকি। বড় মাছ, গরুর মাংস কবে খেয়েছি মনে নেই।' আগের তুলনায় আয় কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, একসময় রিকশার জমা দেওয়ার পর দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা হাতে থাকত, কিন্তু এখন তা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় নেমে এসেছে।

মতিঝিলের রিকশাচালক আব্দুল করিমের পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। পরিবারের খরচ মেটাতে তাকে দিনে কখনো ১২, আবার কখনো ১৬ ঘণ্টা রিকশা চালাতে হয়। ভাড়া বাসায় থাকার সামর্থ্য না থাকায় অনেক রাত তাকে রিকশাতেই কাটাতে হয়। তার দুই সন্তান গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করে। নিজের মতো কষ্টের জীবন যাতে সন্তানদের পেতে না হয়, সেজন্য সামান্য কিছু টাকা জমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুজব ছড়ানো পেজ ও অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

দৈনিক আয়ের সংকটে রিকশাচালকদের জীবন: খাবার জোগাড় করাই দায়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ২২

সকাল থেকে রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে দিনশেষে হাতে থাকে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে খাবার, বাসাভাড়া এবং সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটানো এখন রিকশাচালকদের জন্য এক কঠিন লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিই নয়, বরং গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে মূল্যবান কর্মঘণ্টা হারানো এবং ব্যবসার মন্দার কারণে অনেকেই এখন তাদের আগের পেশা ছেড়ে দৈনিক মজুরির কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

গত ১৪ আগস্ট দুপুরে মৌচাক মার্কেট এলাকায় কথা হয় ৪৫ বছর বয়সী প্যাডেলচালিত রিকশাচালক ইব্রাহিম মিঞার সঙ্গে। ফার্মগেট থেকে যাত্রী নিয়ে মৌচাকে আসতে যানজটে তার প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। এরপর সড়কের পাশে একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানে ডাল ও আলুভর্তা দিয়ে দুপুরের খাবার সারছিলেন তিনি। ইব্রাহিম জানান, তার দুই ছেলে স্কুলে পড়ে এবং সংসার চালানোর মতো তাকে সহযোগিতা করার কেউ নেই। তিনি বলেন, 'ইনকাম তো নেই। সংসার চালাতে হয়। কম টাকায় খাওয়ার চেষ্টা করি। কখনো কখনো না খেয়েও থাকি। বড় মাছ, গরুর মাংস কবে খেয়েছি মনে নেই।' আগের তুলনায় আয় কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, একসময় রিকশার জমা দেওয়ার পর দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা হাতে থাকত, কিন্তু এখন তা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় নেমে এসেছে।

মতিঝিলের রিকশাচালক আব্দুল করিমের পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। পরিবারের খরচ মেটাতে তাকে দিনে কখনো ১২, আবার কখনো ১৬ ঘণ্টা রিকশা চালাতে হয়। ভাড়া বাসায় থাকার সামর্থ্য না থাকায় অনেক রাত তাকে রিকশাতেই কাটাতে হয়। তার দুই সন্তান গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করে। নিজের মতো কষ্টের জীবন যাতে সন্তানদের পেতে না হয়, সেজন্য সামান্য কিছু টাকা জমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন তিনি।