লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, হাসপাতালে শয্যা সংকট

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। চলতি বছর মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১১৭ জন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১ হাজার ৫৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা এ বছরের একদিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশারের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অক্টোবরেও এর প্রভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনো তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং সেপ্টেম্বর মাস এ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে।

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাহিদ হাসান নামের এক ব্যক্তি তার চার বছর বয়সী ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে তিনটি সরকারি হাসপাতালে ঘুরেও কোনো শয্যার ব্যবস্থা করতে পারেননি। পরে এক আত্মীয়ের সহায়তায় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পর শিশুটিকে সাত ব্যাগ রক্ত ও প্লাজমা দিতে হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা শহরের পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলাতেই ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বর কমার পরপরই ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে প্লাজমা লিকেজ, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং মারাত্মক রক্তক্ষরণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ঢাকার চিকিৎসক অধ্যাপক তারেক আলম বলেন, পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণগুলো কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

স্বাস্থ্যসেবা খাত এমনিতেই হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে চাপের মুখে রয়েছে, যেখানে এ বছর প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বগতি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও বিপাকে ফেলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়া এবং মশা নিয়ন্ত্রণের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অধ্যাপক কবিরুল বাশারের মতে, শুধু ফগিং করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; মশা ধ্বংস করতে এর প্রজননস্থলগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা মেডিকেলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, হাসপাতালে শয্যা সংকট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। চলতি বছর মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১১৭ জন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১ হাজার ৫৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা এ বছরের একদিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশারের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অক্টোবরেও এর প্রভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনো তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং সেপ্টেম্বর মাস এ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে।

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাহিদ হাসান নামের এক ব্যক্তি তার চার বছর বয়সী ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে তিনটি সরকারি হাসপাতালে ঘুরেও কোনো শয্যার ব্যবস্থা করতে পারেননি। পরে এক আত্মীয়ের সহায়তায় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পর শিশুটিকে সাত ব্যাগ রক্ত ও প্লাজমা দিতে হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা শহরের পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলাতেই ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বর কমার পরপরই ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে প্লাজমা লিকেজ, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং মারাত্মক রক্তক্ষরণের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ঢাকার চিকিৎসক অধ্যাপক তারেক আলম বলেন, পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণগুলো কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

স্বাস্থ্যসেবা খাত এমনিতেই হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে চাপের মুখে রয়েছে, যেখানে এ বছর প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বগতি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও বিপাকে ফেলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়া এবং মশা নিয়ন্ত্রণের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অধ্যাপক কবিরুল বাশারের মতে, শুধু ফগিং করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; মশা ধ্বংস করতে এর প্রজননস্থলগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।