লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর উদ্যোগ, কাল ঢাকায় বৈঠক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। উভয় পক্ষ একমত হলে আগামী মাস থেকেই এই তিনটি ট্রেন আবার ট্র্যাকে ফিরতে পারে। এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটিকে বলা হয় আন্তসরকার রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম)।

এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ শুধু পুরোনো তিনটি ট্রেন চালুর বিষয়টিই তুলবে না, বরং বেশ কিছু নতুন প্রস্তাবও দেবে। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী থেকে কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা এবং ঢাকা-কলকাতার মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনা করা। এছাড়া বর্তমানে দিনের বেলায় চলাচলকারী যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো রাতে চালানোর ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি যাত্রীবাহী কোচের সঙ্গে এক বা দুটি পার্সেল পরিবহনের কোচ যুক্ত করে পার্সেল বুকিং সেবা চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হবে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ট্রেনগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১৬ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করার পর ১৯ জুলাই থেকে তিনটি ট্রেনেরই যাত্রা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ট্রেনগুলো আর চালু হয়নি। রেল কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ভ্রমণ ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ করে দেয় এবং বাংলাদেশও কড়াকড়ি আরোপ করে। ভিসা স্বাভাবিক না হওয়ায় যাত্রী সংকটের আশঙ্কায় ট্রেন চালুর বিষয়টি এগোয়নি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধীরে ধীরে দুই দেশই ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে শুরু করেছে। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ থেকে দীর্ঘ ২৬ মাস বন্ধ ছিল মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস।

২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আধুনিক রেল যোগাযোগ শুরু হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ২০২২ সালের ১ জুন ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে মিতালী এক্সপ্রেস চালু হয়। এই ট্রেনগুলোর আয় দূরত্ব অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। বাংলাদেশের সীমানায় দূরত্ব বেশি হওয়ায় আয়ের বড় অংশ পায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। এবারের বৈঠকে রুটভিত্তিক ভিসার নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিমানে ভারতে প্রবেশ করলে ট্রেন বা সড়কপথে ফেরার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ চায় যাত্রীরা যেন যেকোনো পথ ব্যবহার করে ফিরতে পারেন।

যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ চায় দর্শনা-গেদে, পেট্রাপোল-বেনাপোল এবং রহনপুর-সিংহাবাদ রুটে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সীমিত সময়ের পরিবর্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করতে। এছাড়া ভারতীয় রেলের কাছে বাংলাদেশের বকেয়া অর্থ আদায় এবং ভারত থেকে আসা যেসব ওয়াগনের পিরিয়ডিক ওভারহলিং (পিওএইচ) বা বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের সময় হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

বৈঠকে ভারতীয় ঋণে চলমান বিভিন্ন রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত দুটি নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প অন্যতম, যা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমানে ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া ভারত যেসব প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরে গেছে, সেগুলো এবং বাংলাদেশ রেলের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এজেন্ডায় থাকবে। এবারের বৈঠকে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন, কারণ ট্রেন চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, "যাত্রীবাহী ট্রেন আবার চালুসহ অনেক বিষয়ই আলোচনায় আসবে। আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। দুই দেশের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।" উল্লেখ্য, সর্বশেষ আইজিআরএম বৈঠকটি গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম স্থগিত

মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর উদ্যোগ, কাল ঢাকায় বৈঠক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। উভয় পক্ষ একমত হলে আগামী মাস থেকেই এই তিনটি ট্রেন আবার ট্র্যাকে ফিরতে পারে। এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটিকে বলা হয় আন্তসরকার রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম)।

এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ শুধু পুরোনো তিনটি ট্রেন চালুর বিষয়টিই তুলবে না, বরং বেশ কিছু নতুন প্রস্তাবও দেবে। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী থেকে কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা এবং ঢাকা-কলকাতার মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনা করা। এছাড়া বর্তমানে দিনের বেলায় চলাচলকারী যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো রাতে চালানোর ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি যাত্রীবাহী কোচের সঙ্গে এক বা দুটি পার্সেল পরিবহনের কোচ যুক্ত করে পার্সেল বুকিং সেবা চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হবে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ট্রেনগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১৬ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করার পর ১৯ জুলাই থেকে তিনটি ট্রেনেরই যাত্রা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ট্রেনগুলো আর চালু হয়নি। রেল কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ভ্রমণ ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ করে দেয় এবং বাংলাদেশও কড়াকড়ি আরোপ করে। ভিসা স্বাভাবিক না হওয়ায় যাত্রী সংকটের আশঙ্কায় ট্রেন চালুর বিষয়টি এগোয়নি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধীরে ধীরে দুই দেশই ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে শুরু করেছে। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ থেকে দীর্ঘ ২৬ মাস বন্ধ ছিল মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস।

২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আধুনিক রেল যোগাযোগ শুরু হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ২০২২ সালের ১ জুন ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে মিতালী এক্সপ্রেস চালু হয়। এই ট্রেনগুলোর আয় দূরত্ব অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। বাংলাদেশের সীমানায় দূরত্ব বেশি হওয়ায় আয়ের বড় অংশ পায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। এবারের বৈঠকে রুটভিত্তিক ভিসার নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিমানে ভারতে প্রবেশ করলে ট্রেন বা সড়কপথে ফেরার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ চায় যাত্রীরা যেন যেকোনো পথ ব্যবহার করে ফিরতে পারেন।

যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ চায় দর্শনা-গেদে, পেট্রাপোল-বেনাপোল এবং রহনপুর-সিংহাবাদ রুটে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সীমিত সময়ের পরিবর্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করতে। এছাড়া ভারতীয় রেলের কাছে বাংলাদেশের বকেয়া অর্থ আদায় এবং ভারত থেকে আসা যেসব ওয়াগনের পিরিয়ডিক ওভারহলিং (পিওএইচ) বা বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের সময় হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

বৈঠকে ভারতীয় ঋণে চলমান বিভিন্ন রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত দুটি নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প অন্যতম, যা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমানে ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া ভারত যেসব প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরে গেছে, সেগুলো এবং বাংলাদেশ রেলের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এজেন্ডায় থাকবে। এবারের বৈঠকে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন, কারণ ট্রেন চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, "যাত্রীবাহী ট্রেন আবার চালুসহ অনেক বিষয়ই আলোচনায় আসবে। আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। দুই দেশের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।" উল্লেখ্য, সর্বশেষ আইজিআরএম বৈঠকটি গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।