লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৃজনশীল অর্থনীতিকে জিডিপির ৩ শতাংশে নিতে চায় সরকার

দেশের সৃজনশীল খাতের অর্থনৈতিক অবদানকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এই খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন, যার মধ্যে নারীদের কাজের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, কোনো কোনো দেশে সৃজনশীল খাতের অবদান অর্থনীতিতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ এখনই সেই পর্যায়ে যেতে না পারলেও ২ থেকে ৩ শতাংশে পৌঁছানো সম্ভব। দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার, গান, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র এবং অনলাইনভিত্তিক নানা সৃজনশীল কাজকে আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার স্থানীয় গান ও সংস্কৃতিকে বাজারযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করে বিশ্ববাজারে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই খাতে যুক্ত তরুণদের সৃজনশীলতাকে ওয়ান ভ্যালু অ্যাডিশনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারের উপযোগী করতে হবে। থাইল্যান্ডের 'ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট' কর্মসূচির উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সে দেশের সরকার গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের কাঁচামাল সরবরাহ, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা দেয়। বিকেলে গ্রামের উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ করে সরাসরি বিমানবন্দরে নিয়ে রাতে তা বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশেও এমন সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের কার্যক্রমের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটি ইতিমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হলে মোট ২২ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। তবে তিনি ব্যাংকটিকে শুধু ঋণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। এতে ১০০ টাকার একটি পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করা সম্ভব হবে, যা অ্যামাজন বা আলিবাবার মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করা যাবে।

অনুস্থানে অর্থায়নের সহজলভ্যতার ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের দরিদ্র ও অর্ধশিক্ষিত মানুষের মাঝে প্রচুর সৃজনশীলতা রয়েছে, কিন্তু আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যাংকিং ভীতি দূর করতে সবার জন্য 'অ্যাক্সেস টু ফাইন্যান্স' নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঋণ ও অনুদানের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ঋণের সুদের কারণে উদ্যোক্তাদের মধ্যে তা পরিশোধের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়, যা অনুদানে সবসময় দেখা যায় না। প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে অর্থায়নের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষকে জামানত ছাড়াই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার জানান, এই প্রকল্পের আওতায় মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে, যা প্রচলিত অণুঋণের ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ সুদের তুলনায় অনেক কম।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই উদ্যোগ দেশের ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় পাইলট হিসেবে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে সম্প্রসারিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ২ শতাংশ সুদে তহবিল দেয়, তবে তারা আরও কম সুদে ঋণ দিতে পারবেন। বর্তমানে ব্যাংকটি সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ খুঁজছে ইরাক

সৃজনশীল অর্থনীতিকে জিডিপির ৩ শতাংশে নিতে চায় সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৩:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সৃজনশীল খাতের অর্থনৈতিক অবদানকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এই খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন, যার মধ্যে নারীদের কাজের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, কোনো কোনো দেশে সৃজনশীল খাতের অবদান অর্থনীতিতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ এখনই সেই পর্যায়ে যেতে না পারলেও ২ থেকে ৩ শতাংশে পৌঁছানো সম্ভব। দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার, গান, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র এবং অনলাইনভিত্তিক নানা সৃজনশীল কাজকে আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার স্থানীয় গান ও সংস্কৃতিকে বাজারযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করে বিশ্ববাজারে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই খাতে যুক্ত তরুণদের সৃজনশীলতাকে ওয়ান ভ্যালু অ্যাডিশনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারের উপযোগী করতে হবে। থাইল্যান্ডের 'ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট' কর্মসূচির উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সে দেশের সরকার গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের কাঁচামাল সরবরাহ, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা দেয়। বিকেলে গ্রামের উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ করে সরাসরি বিমানবন্দরে নিয়ে রাতে তা বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশেও এমন সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের কার্যক্রমের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটি ইতিমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হলে মোট ২২ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। তবে তিনি ব্যাংকটিকে শুধু ঋণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। এতে ১০০ টাকার একটি পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করা সম্ভব হবে, যা অ্যামাজন বা আলিবাবার মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করা যাবে।

অনুস্থানে অর্থায়নের সহজলভ্যতার ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের দরিদ্র ও অর্ধশিক্ষিত মানুষের মাঝে প্রচুর সৃজনশীলতা রয়েছে, কিন্তু আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যাংকিং ভীতি দূর করতে সবার জন্য 'অ্যাক্সেস টু ফাইন্যান্স' নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঋণ ও অনুদানের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ঋণের সুদের কারণে উদ্যোক্তাদের মধ্যে তা পরিশোধের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়, যা অনুদানে সবসময় দেখা যায় না। প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে অর্থায়নের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষকে জামানত ছাড়াই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার জানান, এই প্রকল্পের আওতায় মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে, যা প্রচলিত অণুঋণের ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ সুদের তুলনায় অনেক কম।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই উদ্যোগ দেশের ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় পাইলট হিসেবে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে সম্প্রসারিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ২ শতাংশ সুদে তহবিল দেয়, তবে তারা আরও কম সুদে ঋণ দিতে পারবেন। বর্তমানে ব্যাংকটি সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।