লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯% মুদ্রাস্ফীতিতে টিকে থাকার উপায়: হিসাবি হোন, সঞ্চয় করুন

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আয় কমার বিপরীতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে খরচের বোঝা। ৯ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে এ বছর যে জিনিসের দাম ১০০ টাকা, আগামী বছর তা ১০৯ টাকারও বেশি দাঁড়াবে। এমন পরিস্থিতিতে সামনে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং দুর্ভিক্ষের মতো কঠিন সময় আসতে পারে। তাই টিকে থাকতে হলে অতিরিক্ত ঘোরাঘুরি, ঘন ঘন দামি পোশাক কেনা কিংবা নিয়মিত রেস্টুরেন্টে খাওয়ার মতো অপ্রয়োজনীয় অভ্যাসগুলো এখন থেকেই পরিহার করা জরুরি।

নিজের উপার্জনকে সুনির্দিষ্ট তিনটি ভাগে ভাগ করে নেওয়ার একটি কার্যকর কৌশল রয়েছে। এর মধ্যে মোট আয়ের ৫০ শতাংশ পরিবারের নিয়মিত খরচে, ২০ শতাংশ পরিবারের বাইরের জরুরি প্রয়োজনে এবং বাকি ৩০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। তবে এই সঞ্চিত অর্থ শুধু ব্যাংকে ফেলে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাংকে সর্বোচ্চ ইন্টারেস্ট রেট বা সুদের হার ৭ শতাংশ, যা ৯ শতাংশের মুদ্রাস্ফীতির চেয়েও কম। ফলে ব্যাংকে টাকা জমিয়ে রাখলে দিন শেষে তার প্রকৃত মান কমে যায়। তাই এই অর্থ এমন কোথাও বিনিয়োগ করা উচিত, যেখানে হালাল উপায়ে মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে কয়েক শতাংশ বেশি মুনাফা নিশ্চিত করা সম্ভব।

অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় খরচের অভ্যাস মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের মানসিক সংকটে ফেলতে পারে, এমনকি আর্থিক সমস্যা না থাকলেও। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, অতীতে প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে শুধু রেস্টুরেন্টেই ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিল দেওয়ার মতো বাজে অভ্যাস ছিল। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এখন একটি বিশেষ নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে। খরচের নতুন কোনো খাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে, তার জন্য অতিরিক্ত আয়ের উৎস তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে। তা সম্ভব না হলে সেই খরচটি পুরোপুরি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বিদ্যমান নির্দিষ্ট আয় থেকে নতুন কোনো বিলাসী খরচ করা চরম বোকামি।

অনেকে প্রশ্ন তোলেন, গাড়ি কেনা হচ্ছে না কেন? অথচ একটি গাড়ি মানেই মাসে প্রায় লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ। তাই বাড়তি এক লাখ টাকা আয়ের পথ নিশ্চিত না করে গাড়ি কেনা আর হাতি পোষা একই কথা। মনে রাখতে হবে, আগামী দিনগুলোতে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো হিসাবি হওয়া। তবে হিসাবি হওয়া মানেই কৃপণতা নয়, বরং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজের অর্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পলিথিন ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

৯% মুদ্রাস্ফীতিতে টিকে থাকার উপায়: হিসাবি হোন, সঞ্চয় করুন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আয় কমার বিপরীতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে খরচের বোঝা। ৯ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে এ বছর যে জিনিসের দাম ১০০ টাকা, আগামী বছর তা ১০৯ টাকারও বেশি দাঁড়াবে। এমন পরিস্থিতিতে সামনে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং দুর্ভিক্ষের মতো কঠিন সময় আসতে পারে। তাই টিকে থাকতে হলে অতিরিক্ত ঘোরাঘুরি, ঘন ঘন দামি পোশাক কেনা কিংবা নিয়মিত রেস্টুরেন্টে খাওয়ার মতো অপ্রয়োজনীয় অভ্যাসগুলো এখন থেকেই পরিহার করা জরুরি।

নিজের উপার্জনকে সুনির্দিষ্ট তিনটি ভাগে ভাগ করে নেওয়ার একটি কার্যকর কৌশল রয়েছে। এর মধ্যে মোট আয়ের ৫০ শতাংশ পরিবারের নিয়মিত খরচে, ২০ শতাংশ পরিবারের বাইরের জরুরি প্রয়োজনে এবং বাকি ৩০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। তবে এই সঞ্চিত অর্থ শুধু ব্যাংকে ফেলে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাংকে সর্বোচ্চ ইন্টারেস্ট রেট বা সুদের হার ৭ শতাংশ, যা ৯ শতাংশের মুদ্রাস্ফীতির চেয়েও কম। ফলে ব্যাংকে টাকা জমিয়ে রাখলে দিন শেষে তার প্রকৃত মান কমে যায়। তাই এই অর্থ এমন কোথাও বিনিয়োগ করা উচিত, যেখানে হালাল উপায়ে মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে কয়েক শতাংশ বেশি মুনাফা নিশ্চিত করা সম্ভব।

অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় খরচের অভ্যাস মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের মানসিক সংকটে ফেলতে পারে, এমনকি আর্থিক সমস্যা না থাকলেও। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, অতীতে প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে শুধু রেস্টুরেন্টেই ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিল দেওয়ার মতো বাজে অভ্যাস ছিল। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এখন একটি বিশেষ নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে। খরচের নতুন কোনো খাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে, তার জন্য অতিরিক্ত আয়ের উৎস তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে। তা সম্ভব না হলে সেই খরচটি পুরোপুরি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। বিদ্যমান নির্দিষ্ট আয় থেকে নতুন কোনো বিলাসী খরচ করা চরম বোকামি।

অনেকে প্রশ্ন তোলেন, গাড়ি কেনা হচ্ছে না কেন? অথচ একটি গাড়ি মানেই মাসে প্রায় লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ। তাই বাড়তি এক লাখ টাকা আয়ের পথ নিশ্চিত না করে গাড়ি কেনা আর হাতি পোষা একই কথা। মনে রাখতে হবে, আগামী দিনগুলোতে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো হিসাবি হওয়া। তবে হিসাবি হওয়া মানেই কৃপণতা নয়, বরং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজের অর্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।