লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস: ডিজিটাল যুগেও অমলিন হাতে লেখা চিঠির মায়া

শেষ কবে কাউকে হাতে লিখে চিঠি পাঠিয়েছেন, তা কি মনে আছে? না থাকারই কথা। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার বা বিভিন্ন চ্যাটিং অ্যাপের এই যুগে যোগাযোগের তাৎক্ষণিক মাধ্যমগুলো চিঠির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিলেও, একসময় চিঠিই ছিল ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যুদ্ধক্ষেত্রের সাহস জোগানো বার্তা থেকে শুরু করে প্রেমের অনুভূতি কিংবা প্রিয়জনের খোঁজ-খবর—সবকিছুর আধার ছিল এই চিঠি। শুধু দূরে থাকা আপনজন নয়, অন্তরের খুব কাছের কাউকে মুখে না বলতে পারা কথাগুলোও সযত্নে সাজিয়ে নেওয়া হতো চিঠিতে।

হাতে লেখা চিঠিতে যে ব্যক্তিগত স্পর্শ পাওয়া যায়, তা আজকের ডিজিটাল বার্তায় পাওয়া সম্ভব নয়। একসময় মানুষ চিঠির মাধ্যমে মনের ভাব, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতেন, যা সম্পর্কগুলোকে আরও গভীর ও ঘনিষ্ঠ করে তুলত। খামে ভরা চিঠির অপেক্ষায় থাকা, ডাকহরকরা বা পোস্টম্যানের আসার শব্দ এবং দেশ-বিদেশের ডাকটিকিট সংগ্রহের সেই দিনগুলো ছিল শিশু-কিশোরদের কাছে দারুণ আনন্দের। চাকরির খবর, পদোন্নতি, নতুন প্রাণের আগমন কিংবা বিয়ের নেমন্তন্ন—সবই আসত চিঠির মাধ্যমে। আবার কোনো বিপদ, অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুসংবাদও চিঠির বার্তায় পৌঁছে যেত।

আজ ১ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস। জানা যায়, ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক রিচার্ড সিম্পকিনের হাত ধরে এই দিবসের প্রচলন শুরু হয়। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে সিম্পকিন নিজ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠি লিখতেন। অনেক সময় উত্তর না পেলেও, যখন পেতেন, সেই আনন্দ তাঁকে দারুণ অনুপ্রাণিত করত। সেই ভালোবাসা থেকেই তিনি চিঠি লেখার চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেন।

চিঠির ভাষার সাহিত্যমূল্য যুগে যুগে আমাদের মুগ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'স্ত্রীর পত্র' বা কাজী নজরুল ইসলামের 'বাঁধনহারা'-র মতো পত্রোপন্যাসগুলো এর বড় উদাহরণ। ইতিহাসের কঠিন সময়েও চিঠি ছিল প্রামাণ্য দলিল। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের বন্দীদের চিঠি, নেলসন ম্যান্ডেলা বা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারাবন্দী অবস্থায় লেখা চিঠিগুলো আজ ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এছাড়া মহাত্মা গান্ধী, আলবার্ট আইনস্টাইন, জওহরলাল নেহরু, হিটলার ও মুসোলিনির চিঠিগুলো আজও আমাদের ইতিহাসের পাঠ দেয়।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল, লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে আজও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। কর্মশালা, প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে চিঠির ঐতিহ্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপের ভিড়ে হাতে লেখা চিঠি হয়তো আজ অনেকটাই কোণঠাসা, তবুও চিঠির সেই মায়া ও অনুভূতির গভীরতা আজও অনেকের হৃদয়ে অমলিন রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়, বরং এটি আমাদের অতীতকে স্মরণ করার এবং অনুভূতির গভীরতায় ফিরে যাওয়ার একটি অনন্য সুযোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজিটাল রূপান্তর শুধু প্রযুক্তি নয়, মূল লক্ষ্য উন্নত জনসেবা: আইসিটিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস: ডিজিটাল যুগেও অমলিন হাতে লেখা চিঠির মায়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেষ কবে কাউকে হাতে লিখে চিঠি পাঠিয়েছেন, তা কি মনে আছে? না থাকারই কথা। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার বা বিভিন্ন চ্যাটিং অ্যাপের এই যুগে যোগাযোগের তাৎক্ষণিক মাধ্যমগুলো চিঠির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিলেও, একসময় চিঠিই ছিল ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যুদ্ধক্ষেত্রের সাহস জোগানো বার্তা থেকে শুরু করে প্রেমের অনুভূতি কিংবা প্রিয়জনের খোঁজ-খবর—সবকিছুর আধার ছিল এই চিঠি। শুধু দূরে থাকা আপনজন নয়, অন্তরের খুব কাছের কাউকে মুখে না বলতে পারা কথাগুলোও সযত্নে সাজিয়ে নেওয়া হতো চিঠিতে।

হাতে লেখা চিঠিতে যে ব্যক্তিগত স্পর্শ পাওয়া যায়, তা আজকের ডিজিটাল বার্তায় পাওয়া সম্ভব নয়। একসময় মানুষ চিঠির মাধ্যমে মনের ভাব, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতেন, যা সম্পর্কগুলোকে আরও গভীর ও ঘনিষ্ঠ করে তুলত। খামে ভরা চিঠির অপেক্ষায় থাকা, ডাকহরকরা বা পোস্টম্যানের আসার শব্দ এবং দেশ-বিদেশের ডাকটিকিট সংগ্রহের সেই দিনগুলো ছিল শিশু-কিশোরদের কাছে দারুণ আনন্দের। চাকরির খবর, পদোন্নতি, নতুন প্রাণের আগমন কিংবা বিয়ের নেমন্তন্ন—সবই আসত চিঠির মাধ্যমে। আবার কোনো বিপদ, অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুসংবাদও চিঠির বার্তায় পৌঁছে যেত।

আজ ১ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস। জানা যায়, ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক রিচার্ড সিম্পকিনের হাত ধরে এই দিবসের প্রচলন শুরু হয়। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে সিম্পকিন নিজ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠি লিখতেন। অনেক সময় উত্তর না পেলেও, যখন পেতেন, সেই আনন্দ তাঁকে দারুণ অনুপ্রাণিত করত। সেই ভালোবাসা থেকেই তিনি চিঠি লেখার চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেন।

চিঠির ভাষার সাহিত্যমূল্য যুগে যুগে আমাদের মুগ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'স্ত্রীর পত্র' বা কাজী নজরুল ইসলামের 'বাঁধনহারা'-র মতো পত্রোপন্যাসগুলো এর বড় উদাহরণ। ইতিহাসের কঠিন সময়েও চিঠি ছিল প্রামাণ্য দলিল। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের বন্দীদের চিঠি, নেলসন ম্যান্ডেলা বা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারাবন্দী অবস্থায় লেখা চিঠিগুলো আজ ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এছাড়া মহাত্মা গান্ধী, আলবার্ট আইনস্টাইন, জওহরলাল নেহরু, হিটলার ও মুসোলিনির চিঠিগুলো আজও আমাদের ইতিহাসের পাঠ দেয়।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল, লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে আজও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। কর্মশালা, প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে চিঠির ঐতিহ্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপের ভিড়ে হাতে লেখা চিঠি হয়তো আজ অনেকটাই কোণঠাসা, তবুও চিঠির সেই মায়া ও অনুভূতির গভীরতা আজও অনেকের হৃদয়ে অমলিন রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়, বরং এটি আমাদের অতীতকে স্মরণ করার এবং অনুভূতির গভীরতায় ফিরে যাওয়ার একটি অনন্য সুযোগ।