লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলায় সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে বা মেইনল্যান্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষায় না থেকে সরকার ভোলাতেই গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা, সার কারখানা ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মহিলা আসন-১৭-এর সদস্য সুলতানা আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিকল্প ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে ভোলায় শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা গেলে সেখানে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির আকার বহুগুণ বাড়বে। ইতোমধ্যে সেখানে শিল্প-কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং অনেক শিল্প উদ্যোক্তাও সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি বড় সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি একই এলাকায় ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ভোলায় ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি নতুন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভোলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, মানুষের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।

সংসদে আরও জানানো হয়, ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাসের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া এই জোনে ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভোলার ভৌগোলিক অবস্থান, গ্যাসসম্পদ, উর্বর কৃষিজমি ও বিপুল উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দ্বীপ জেলাটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁঠালিয়ায় ৭ লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার, পু/ড়িয়ে ধ্বংস

ভোলায় সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে বা মেইনল্যান্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষায় না থেকে সরকার ভোলাতেই গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা, সার কারখানা ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মহিলা আসন-১৭-এর সদস্য সুলতানা আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিকল্প ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে ভোলায় শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা গেলে সেখানে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির আকার বহুগুণ বাড়বে। ইতোমধ্যে সেখানে শিল্প-কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং অনেক শিল্প উদ্যোক্তাও সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি বড় সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি একই এলাকায় ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ভোলায় ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি নতুন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভোলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, মানুষের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।

সংসদে আরও জানানো হয়, ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাসের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া এই জোনে ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভোলার ভৌগোলিক অবস্থান, গ্যাসসম্পদ, উর্বর কৃষিজমি ও বিপুল উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দ্বীপ জেলাটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।