লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার রাজ সেলুনে মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে ফরহাদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ফরহাদ আরশিনগর এলাকার মেম্বার গলিতে সপরিবারে বসবাস করতেন এবং তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরাবাদ গ্রামে। ঘটনার পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল চারটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরহাদ মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন। সেখানে কিশোর গ্যাং সদস্য আরমান, সোহেল, কাল্লু ও সাব্বিরসহ ৭-৮ জন তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে তাদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হতো। ফরহাদ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা এই হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে বলে স্বজনদের ধারণা।

সেলুনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ৩টা ৭ মিনিটের দিকে মাথায় ক্যাপ পরা তিনজন সেলুনে প্রবেশ করেন। ঢোকার পরপরই একজন প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকেন, যার ফলে সেলুনে থাকা অন্যরা আতঙ্কে বেরিয়ে যান। এরপর অন্য দুজন চাপাতি নিয়ে ভেতরে ঢোকেন। ফরহাদ লুঙ্গি পরা অবস্থায় খালি গায়ে সেলুন থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পেছন থেকে একজন তাঁর লুঙ্গি টেনে ধরেন। এরপর হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

এদিকে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফরহাদ নিজেও মোহাম্মদপুরের বোটঘাট ও ময়ুরভিলা এলাকায় সক্রিয় ‘পাটালি গ্রুপ’ নামক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন দুই পক্ষই মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকার এবং পূর্ববিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ফরহাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার রাজ সেলুনে মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে ফরহাদ হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ফরহাদ আরশিনগর এলাকার মেম্বার গলিতে সপরিবারে বসবাস করতেন এবং তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরাবাদ গ্রামে। ঘটনার পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল চারটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরহাদ মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন। সেখানে কিশোর গ্যাং সদস্য আরমান, সোহেল, কাল্লু ও সাব্বিরসহ ৭-৮ জন তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে তাদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হতো। ফরহাদ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা এই হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে বলে স্বজনদের ধারণা।

সেলুনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ৩টা ৭ মিনিটের দিকে মাথায় ক্যাপ পরা তিনজন সেলুনে প্রবেশ করেন। ঢোকার পরপরই একজন প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকেন, যার ফলে সেলুনে থাকা অন্যরা আতঙ্কে বেরিয়ে যান। এরপর অন্য দুজন চাপাতি নিয়ে ভেতরে ঢোকেন। ফরহাদ লুঙ্গি পরা অবস্থায় খালি গায়ে সেলুন থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পেছন থেকে একজন তাঁর লুঙ্গি টেনে ধরেন। এরপর হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

এদিকে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফরহাদ নিজেও মোহাম্মদপুরের বোটঘাট ও ময়ুরভিলা এলাকায় সক্রিয় ‘পাটালি গ্রুপ’ নামক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন দুই পক্ষই মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকার এবং পূর্ববিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ফরহাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।