লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজারে আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে, কমেনি মুরগি-ডিম ও মাছের দাম

ঢাকার খুচরা বাজারে গত এক মাসের ব্যবধানে খোলা ও প্যাকেটজাত আটা এবং ময়দার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আটা-ময়দার এই মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের দামও উচ্চ মূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, সবজির বাজার আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণেই খুচরা বিক্রেতারা আটা-ময়দার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, উৎপাদন ও সরবরাহ সংকটের কারণে মুরগি ও ডিমের দাম কমছে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও মগবাজার কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদরের তালিকায়ও আটা ও ময়দার দাম বাড়ার প্রমাণ মিলেছে। টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে।

তবে খুচরা বাজারে দাম বাড়ার চিত্র আরও কিছুটা বেশি। বিক্রেতাদের দাবি, গত এক মাসে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম ৫ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪৫ টাকা। আর প্রতি কেজি খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এছাড়া, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুই কেজি ওজনের এক প্যাকেট ময়দা এখন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এক মাস আগেও এক কেজি প্যাকেট ময়দার দাম ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদিদোকানি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আগে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছি। গত সপ্তাহে সেই বস্তার দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। এভাবে পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে আটা-ময়দার দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

আটা-ময়দার দাম বাড়ার অজুহাতে গত শনিবার বানরুটিসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এরপর গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এই খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং রুটি ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখতে সম্মত হন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, বাজারে ফার্মের মুরগি ও ডিমের দাম এখনো চড়া। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দেড় মাস আগে কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। এর আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। বাজারে বাদামি রঙের ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা ডজন দরে। আর সাদা রঙের ডিম পাওয়া যাচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা বাদামি ডিমের চেয়ে ১০ টাকা কম। দেড় মাস আগেও ডিমের দাম এমনই ছিল। এছাড়া সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড বা কালারবার্ড সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত এক-দুই সপ্তাহে এই মুরগির দাম কমেনি। বিক্রেতারা জানান, গত ৫-৬ মাসে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেক খামারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম পাড়া মুরগির সংখ্যা কমে গেছে, যার ফলে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও পাবদা মাছের দামও বেশ চড়া। বাজারে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের প্রতি কেজি রুই মাছ ৪০০–৪২০ টাকা এবং কাতলা মাছ ৪২০–৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আকারভেদে চাষের পাঙাশ প্রতি কেজি ২৫০–৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০–২৮০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৪০০–৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লিঙ্গ সমতা সূচকে বাংলাদেশের বড় অবনতি, পিছিয়ে অর্থনীতি ও রাজনীতিতে

বাজারে আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে, কমেনি মুরগি-ডিম ও মাছের দাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার খুচরা বাজারে গত এক মাসের ব্যবধানে খোলা ও প্যাকেটজাত আটা এবং ময়দার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আটা-ময়দার এই মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের দামও উচ্চ মূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, সবজির বাজার আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণেই খুচরা বিক্রেতারা আটা-ময়দার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, উৎপাদন ও সরবরাহ সংকটের কারণে মুরগি ও ডিমের দাম কমছে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও মগবাজার কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদরের তালিকায়ও আটা ও ময়দার দাম বাড়ার প্রমাণ মিলেছে। টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে।

তবে খুচরা বাজারে দাম বাড়ার চিত্র আরও কিছুটা বেশি। বিক্রেতাদের দাবি, গত এক মাসে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম ৫ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪৫ টাকা। আর প্রতি কেজি খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এছাড়া, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুই কেজি ওজনের এক প্যাকেট ময়দা এখন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এক মাস আগেও এক কেজি প্যাকেট ময়দার দাম ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদিদোকানি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আগে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছি। গত সপ্তাহে সেই বস্তার দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। এভাবে পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে আটা-ময়দার দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

আটা-ময়দার দাম বাড়ার অজুহাতে গত শনিবার বানরুটিসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এরপর গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এই খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং রুটি ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখতে সম্মত হন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, বাজারে ফার্মের মুরগি ও ডিমের দাম এখনো চড়া। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দেড় মাস আগে কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। এর আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। বাজারে বাদামি রঙের ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা ডজন দরে। আর সাদা রঙের ডিম পাওয়া যাচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা বাদামি ডিমের চেয়ে ১০ টাকা কম। দেড় মাস আগেও ডিমের দাম এমনই ছিল। এছাড়া সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং হাইব্রিড বা কালারবার্ড সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত এক-দুই সপ্তাহে এই মুরগির দাম কমেনি। বিক্রেতারা জানান, গত ৫-৬ মাসে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেক খামারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম পাড়া মুরগির সংখ্যা কমে গেছে, যার ফলে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও পাবদা মাছের দামও বেশ চড়া। বাজারে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের প্রতি কেজি রুই মাছ ৪০০–৪২০ টাকা এবং কাতলা মাছ ৪২০–৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আকারভেদে চাষের পাঙাশ প্রতি কেজি ২৫০–৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০–২৮০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৪০০–৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।