লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বর্ণালংকার কেনায় লাভ-ক্ষতির হিসাব ও প্রতারণা এড়ানোর উপায়

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সময় যে সোনার ভরি ছিল মাত্র ১৭০ টাকা, তা আজ আকাশছোঁয়া। গত ৫৫ বছরে এই মূল্যবান ধাতুর দাম বেড়েছে ১ হাজার ৩৭০ গুণ। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল ২২ ক্যারেট সোনার ভরি। বর্তমানে কিছুটা কমে তা ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সোনার এই চড়া দামের বাজারে ক্রেতারা প্রায়ই কোন ক্যারেটের অলংকার কিনবেন এবং কীভাবে প্রতারণা এড়াবেন, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন।

বাংলাদেশে সাধারণত ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির সোনার অলংকার বিক্রি হয়। ক্যারেট মূলত সোনার বিশুদ্ধতার পরিমাপক। সবচেয়ে খাঁটি সোনা হলো ২৪ ক্যারেট, যা ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ এবং এতে '২৪কে' বা '৯৯৯' খোদাই করা থাকে। অলংকার তৈরির সুবিধার্থে ২২ ক্যারেটে তামা, রুপা বা দস্তার মতো ধাতু মেশানো হয়, যার বিশুদ্ধতা ৯১.৬ শতাংশ (চিহ্ন ৯১৬)। একইভাবে ২১ ক্যারেটে ৮৭.৫ শতাংশ (চিহ্ন ৮৭৫) এবং ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ (চিহ্ন ৭৫০) বিশুদ্ধ সোনা থাকে। জুয়েলার্সদের মতে, দেশে ২১ ক্যারেটের অলংকার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। বেশি নকশা ও ঝালাইয়ের কাজে ২১ ও ১৮ ক্যারেট ব্যবহার করা হলেও মেশিনে তৈরি চেইন, চুড়ি বা ব্রেসলেটের ক্ষেত্রে সাধারণত ২২ ক্যারেট ব্যবহার করা হয়।

অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ক্যারেট নিয়ে ক্রেতাদের ভুল ধারণা দূর করতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম জানান, কম ক্যারেট মানেই নিম্নমানের সোনা নয়। এমনকি বিদেশে ৯ ক্যারেটের অলংকারও তৈরি হয়। ক্রেতারা যেকোনো ক্যারেটের অলংকার কিনতে পারেন, তবে তা অবশ্যই হলমার্ক করা কি না এবং ক্যাশমেমোতে তা উল্লেখ আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বাজুসের সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে অলংকার কেনার পরামর্শ দেন। বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে 'বাংলা গোল্ড' ও 'ঢাকা গোল্ড' নামের দুটি প্রতিষ্ঠান অলংকার পরীক্ষা করে লেজারের মাধ্যমে ক্যারেট লিখে দেয় এবং সনদ প্রদান করে। ঢাকার বাইরে অনেক ব্যবসায়ী 'টোনস মেশিন' দিয়েও সোনার বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করেন, যা গ্রহণযোগ্য।

সোনার অলংকার পুনরায় বিক্রি বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পুরোনো অলংকার বিক্রির সময় ১৮ শতাংশ এবং পুরোনো বদলে নতুন অলংকার নেওয়ার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ মূল্য বাদ দেওয়া হয়। এদিকে, সোনার দাম বাড়ায় ব্রোঞ্জের সঙ্গে দুই থেকে তিন আনা সোনা মিশিয়ে তৈরি করা চুড়ি ও বালার জনপ্রিয়তা বাড়ছিল। কিন্তু এতে সোনার সঠিক পরিমাণ মাপার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছিলেন। এই ঝুঁকি এড়াতে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে জুয়েলারি দোকানে ব্রোঞ্জের সোনার চুড়ি ও বালা বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে জুয়েলার্স সমিতি।

এছাড়া, ঢাকার বাইরে কিছু দোকানে সমিতির নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে সোনা বিক্রির প্রলোভন এবং অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখা যায়। এ বিষয়ে দেওয়ান আমিনুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে সোনা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এমনটা করে, তবে বুঝতে হবে সোনার মানে কোনো কারচুপি রয়েছে। তাই অনলাইনে বা অফলাইনে কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে সোনা কেনা উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন মহাপরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান

স্বর্ণালংকার কেনায় লাভ-ক্ষতির হিসাব ও প্রতারণা এড়ানোর উপায়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সময় যে সোনার ভরি ছিল মাত্র ১৭০ টাকা, তা আজ আকাশছোঁয়া। গত ৫৫ বছরে এই মূল্যবান ধাতুর দাম বেড়েছে ১ হাজার ৩৭০ গুণ। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল ২২ ক্যারেট সোনার ভরি। বর্তমানে কিছুটা কমে তা ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সোনার এই চড়া দামের বাজারে ক্রেতারা প্রায়ই কোন ক্যারেটের অলংকার কিনবেন এবং কীভাবে প্রতারণা এড়াবেন, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন।

বাংলাদেশে সাধারণত ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির সোনার অলংকার বিক্রি হয়। ক্যারেট মূলত সোনার বিশুদ্ধতার পরিমাপক। সবচেয়ে খাঁটি সোনা হলো ২৪ ক্যারেট, যা ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ এবং এতে '২৪কে' বা '৯৯৯' খোদাই করা থাকে। অলংকার তৈরির সুবিধার্থে ২২ ক্যারেটে তামা, রুপা বা দস্তার মতো ধাতু মেশানো হয়, যার বিশুদ্ধতা ৯১.৬ শতাংশ (চিহ্ন ৯১৬)। একইভাবে ২১ ক্যারেটে ৮৭.৫ শতাংশ (চিহ্ন ৮৭৫) এবং ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ (চিহ্ন ৭৫০) বিশুদ্ধ সোনা থাকে। জুয়েলার্সদের মতে, দেশে ২১ ক্যারেটের অলংকার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। বেশি নকশা ও ঝালাইয়ের কাজে ২১ ও ১৮ ক্যারেট ব্যবহার করা হলেও মেশিনে তৈরি চেইন, চুড়ি বা ব্রেসলেটের ক্ষেত্রে সাধারণত ২২ ক্যারেট ব্যবহার করা হয়।

অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ক্যারেট নিয়ে ক্রেতাদের ভুল ধারণা দূর করতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম জানান, কম ক্যারেট মানেই নিম্নমানের সোনা নয়। এমনকি বিদেশে ৯ ক্যারেটের অলংকারও তৈরি হয়। ক্রেতারা যেকোনো ক্যারেটের অলংকার কিনতে পারেন, তবে তা অবশ্যই হলমার্ক করা কি না এবং ক্যাশমেমোতে তা উল্লেখ আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বাজুসের সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে অলংকার কেনার পরামর্শ দেন। বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে 'বাংলা গোল্ড' ও 'ঢাকা গোল্ড' নামের দুটি প্রতিষ্ঠান অলংকার পরীক্ষা করে লেজারের মাধ্যমে ক্যারেট লিখে দেয় এবং সনদ প্রদান করে। ঢাকার বাইরে অনেক ব্যবসায়ী 'টোনস মেশিন' দিয়েও সোনার বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করেন, যা গ্রহণযোগ্য।

সোনার অলংকার পুনরায় বিক্রি বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পুরোনো অলংকার বিক্রির সময় ১৮ শতাংশ এবং পুরোনো বদলে নতুন অলংকার নেওয়ার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ মূল্য বাদ দেওয়া হয়। এদিকে, সোনার দাম বাড়ায় ব্রোঞ্জের সঙ্গে দুই থেকে তিন আনা সোনা মিশিয়ে তৈরি করা চুড়ি ও বালার জনপ্রিয়তা বাড়ছিল। কিন্তু এতে সোনার সঠিক পরিমাণ মাপার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছিলেন। এই ঝুঁকি এড়াতে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে জুয়েলারি দোকানে ব্রোঞ্জের সোনার চুড়ি ও বালা বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে জুয়েলার্স সমিতি।

এছাড়া, ঢাকার বাইরে কিছু দোকানে সমিতির নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে সোনা বিক্রির প্রলোভন এবং অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখা যায়। এ বিষয়ে দেওয়ান আমিনুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে সোনা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এমনটা করে, তবে বুঝতে হবে সোনার মানে কোনো কারচুপি রয়েছে। তাই অনলাইনে বা অফলাইনে কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে সোনা কেনা উচিত।