লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইইউর সহযোগী সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ পেল কানাডা

কানাডার ৫১তম মার্কিন অঙ্গরাজ্য হওয়ার কোনো আগ্রহ নেই, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনানুষ্ঠানিক ২৮তম সদস্য হওয়ার চেষ্টা দেশটির জন্য হঠকারী সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদন, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কানাডাকে ওয়াশিংটনের বদলে ব্রাসেলসের দিকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় এক শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সমঝোতা হওয়ার কথা রয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ‘মধ্যম শক্তিগুলোকে’ একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ থেকে কার্নি উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন, যা অঞ্চলটির জন্য অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে এনেছিল। তবে এই বিচ্ছিন্নতার ফলে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো তিন দেশের জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইইউ নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বন্ধুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরলেও মুক্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাদের সম্পর্ক বেশ জটিল। জোটের বাইরের দেশগুলোর ক্ষেত্রে ইইউর সংরক্ষণবাদী প্রবণতা রয়েছে, যেখানে সদস্যদেশগুলোর বাণিজ্য চুক্তিও ব্রাসেলসের মাধ্যমে আলোচনা করতে হয়।

ইইউতে কানাডার মনোনীত রাষ্ট্রদূত জোনাথন উইলকিনসন জানিয়েছেন, সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে হয় এমন কোনো চুক্তিতে কানাডা সম্মত হবে না। তবে জোটে যোগদানের সঙ্গে সবসময়ই কিছু মূল্য দিতে হয়। ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাবিত ‘প্রযুক্তি জোটের’ ক্ষেত্রে কানাডাকে ইইউর কঠোর জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) বা ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স গ্রহণ করতে হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পরই কার্নি এমন একটি কর আরোপের পরিকল্পনা স্থগিত করেছিলেন।

ইইউ নিজেকে একটি ‘নিয়ন্ত্রক পরাশক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং কঠোর বিধিনিষেধের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার উদাহরণ হিসেবে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটকে উল্লেখ করা হয়। তবে কার্নির সঙ্গে ফন ডার লেয়েনের এই ঘনিষ্ঠতা ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। যদিও রাজনৈতিক সম্পর্কের তিক্ততা সময়ের সাথে কমে আসতে পারে এবং দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার আগেই কানাডা হয়তো ব্রাসেলসের আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আরও গভীরভাবে আটকে যেতে পারে।

জোটের অভ্যন্তরীণ একক বাজার ২৭ সদস্যদেশকে সুবিধা দেয় এবং পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যকে সহজ করে।

দেশটির রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে।ইইউ নিজেকে একটি ‘নিয়ন্ত্রক পরাশক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘মন্ত্রী বড়, নাকি এমপি’—কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

ইইউর সহযোগী সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ পেল কানাডা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কানাডার ৫১তম মার্কিন অঙ্গরাজ্য হওয়ার কোনো আগ্রহ নেই, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনানুষ্ঠানিক ২৮তম সদস্য হওয়ার চেষ্টা দেশটির জন্য হঠকারী সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদন, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কানাডাকে ওয়াশিংটনের বদলে ব্রাসেলসের দিকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় এক শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সমঝোতা হওয়ার কথা রয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ‘মধ্যম শক্তিগুলোকে’ একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ থেকে কার্নি উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন, যা অঞ্চলটির জন্য অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে এনেছিল। তবে এই বিচ্ছিন্নতার ফলে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো তিন দেশের জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইইউ নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বন্ধুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরলেও মুক্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাদের সম্পর্ক বেশ জটিল। জোটের বাইরের দেশগুলোর ক্ষেত্রে ইইউর সংরক্ষণবাদী প্রবণতা রয়েছে, যেখানে সদস্যদেশগুলোর বাণিজ্য চুক্তিও ব্রাসেলসের মাধ্যমে আলোচনা করতে হয়।

ইইউতে কানাডার মনোনীত রাষ্ট্রদূত জোনাথন উইলকিনসন জানিয়েছেন, সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে হয় এমন কোনো চুক্তিতে কানাডা সম্মত হবে না। তবে জোটে যোগদানের সঙ্গে সবসময়ই কিছু মূল্য দিতে হয়। ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাবিত ‘প্রযুক্তি জোটের’ ক্ষেত্রে কানাডাকে ইইউর কঠোর জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) বা ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স গ্রহণ করতে হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পরই কার্নি এমন একটি কর আরোপের পরিকল্পনা স্থগিত করেছিলেন।

ইইউ নিজেকে একটি ‘নিয়ন্ত্রক পরাশক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং কঠোর বিধিনিষেধের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার উদাহরণ হিসেবে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটকে উল্লেখ করা হয়। তবে কার্নির সঙ্গে ফন ডার লেয়েনের এই ঘনিষ্ঠতা ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। যদিও রাজনৈতিক সম্পর্কের তিক্ততা সময়ের সাথে কমে আসতে পারে এবং দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার আগেই কানাডা হয়তো ব্রাসেলসের আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আরও গভীরভাবে আটকে যেতে পারে।

জোটের অভ্যন্তরীণ একক বাজার ২৭ সদস্যদেশকে সুবিধা দেয় এবং পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যকে সহজ করে।

দেশটির রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে।ইইউ নিজেকে একটি ‘নিয়ন্ত্রক পরাশক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে।