লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোয়াইট হাউসে সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৫৯ (19 September 2026, 07:59)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএসএনবিসি এবং সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট পলিটিকোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তার প্রশাসন সম্পর্কে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ তুলে শুক্রবার তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ভুয়া খবর প্রচারকারী সিএনএন, এমএসএনবিসি এবং পলিটিকোকে অবিলম্বে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হলো। কারণ তারা প্রতিনিয়ত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে চলেছে।

বিবৃতিতে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের একটি ঘটনার উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, ওই সময়ে পলিটিকোকে সচল রাখার উদ্দেশ্যে মার্কিন সরকার অবৈধ ও হাস্যকরভাবে ৮ মিলিয়ন ডলারের সাবস্ক্রিপশন দিয়েছিল। ট্রাম্পের ভাষায়, আমার কাছে বিষয়টি স্পষ্টতই দুর্নীতি বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তার প্রশাসন বা সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের সময় কোনো সংবাদমাধ্যমের নিয়মিতভাবে কল্পকাহিনি ও মিথ্যা লেখা বা প্রচার করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন。

পরবর্তীতে ওভাল অফিসে এক সংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, সংবিধান রক্ষা করার শপথ নেওয়ার পর এবং যেখানে সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, সেখানে তিনি কীভাবে এই পদক্ষেপকে যৌক্তিক দাবি করছেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, কারণ তারা ভুয়া খবর প্রচার করে। আর ভুয়া খবর পড়তে পড়তে বা দেখতে দেখতে মানুষ এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, আরও অনেক সংবাদমাধ্যম এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে। দেশের জন্য সৎ, নিরপেক্ষ এবং মুক্ত সংবাদপত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সৎ সাংবাদিকতা থাকা প্রয়োজন। তবে ট্রাম্প এও জানান, তিনি চান এই সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সংবাদ প্রচারের মান উন্নত করুক এবং এরপর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসুক। রিপাবলিকান প্রশাসনকে খাটো করে দেখানোর জন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক খবর প্রকাশ করে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণার পর এমএসএনবিসি এবং পলিটিকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে থাকা সিএনএন তাদের সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এক বিবৃতিতে সিএনএন বলেছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক সুরক্ষার পরিপন্থি। তারা তাদের হোয়াইট হাউস বিষয়ক দল এবং তাদের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সরকারের কোনো বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার অধিকার মার্কিন সংবিধানে রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের এই নিষেধাজ্ঞার হুমকি কার্যকর করা হলে তা হবে সংবাদমাধ্যমের মৌলিক ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর একটি বেআইনি আঘাত।

জনপ্রিয় সংবাদ

যেকোনো সময় আট দফা এক দফায় রূপ নিতে পারে: জামায়াতের আমির

হোয়াইট হাউসে সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৫৯ (19 September 2026, 07:59)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএসএনবিসি এবং সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট পলিটিকোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তার প্রশাসন সম্পর্কে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ তুলে শুক্রবার তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ভুয়া খবর প্রচারকারী সিএনএন, এমএসএনবিসি এবং পলিটিকোকে অবিলম্বে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হলো। কারণ তারা প্রতিনিয়ত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে চলেছে।

বিবৃতিতে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের একটি ঘটনার উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, ওই সময়ে পলিটিকোকে সচল রাখার উদ্দেশ্যে মার্কিন সরকার অবৈধ ও হাস্যকরভাবে ৮ মিলিয়ন ডলারের সাবস্ক্রিপশন দিয়েছিল। ট্রাম্পের ভাষায়, আমার কাছে বিষয়টি স্পষ্টতই দুর্নীতি বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তার প্রশাসন বা সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের সময় কোনো সংবাদমাধ্যমের নিয়মিতভাবে কল্পকাহিনি ও মিথ্যা লেখা বা প্রচার করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন。

পরবর্তীতে ওভাল অফিসে এক সংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, সংবিধান রক্ষা করার শপথ নেওয়ার পর এবং যেখানে সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, সেখানে তিনি কীভাবে এই পদক্ষেপকে যৌক্তিক দাবি করছেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, কারণ তারা ভুয়া খবর প্রচার করে। আর ভুয়া খবর পড়তে পড়তে বা দেখতে দেখতে মানুষ এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, আরও অনেক সংবাদমাধ্যম এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে। দেশের জন্য সৎ, নিরপেক্ষ এবং মুক্ত সংবাদপত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সৎ সাংবাদিকতা থাকা প্রয়োজন। তবে ট্রাম্প এও জানান, তিনি চান এই সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সংবাদ প্রচারের মান উন্নত করুক এবং এরপর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসুক। রিপাবলিকান প্রশাসনকে খাটো করে দেখানোর জন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক খবর প্রকাশ করে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণার পর এমএসএনবিসি এবং পলিটিকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে থাকা সিএনএন তাদের সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এক বিবৃতিতে সিএনএন বলেছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক সুরক্ষার পরিপন্থি। তারা তাদের হোয়াইট হাউস বিষয়ক দল এবং তাদের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সরকারের কোনো বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার অধিকার মার্কিন সংবিধানে রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের এই নিষেধাজ্ঞার হুমকি কার্যকর করা হলে তা হবে সংবাদমাধ্যমের মৌলিক ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর একটি বেআইনি আঘাত।