লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স ফিরছে তার পুরোনো নামে

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ২৮। চট্টগ্রামের কালুরঘাটে অবস্থিত ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ আবারও তার পুরোনো নামে ফিরছে। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ১৬.৩৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই কমপ্লেক্সটি দেশের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। তবে ২০০৯ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন সরকার কমপ্লেক্সটির নাম পরিবর্তন করে ‘মিনি বাংলাদেশ’ রাখে। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় কমপ্লেক্সটি অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে ছিল, যার ফলে এর বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা আগাছা ও ঘাসে ঢেকে যায়।

অবশেষে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার হারানো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান গত ৬ জুন চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সময় নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটিকে প্রতিহিংসামূলক বলে মন্তব্য করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমপ্লেক্সটির পুরোনো নাম ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ ফিরিয়ে আনে।

কমপ্লেক্সটিকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও দর্শনার্থীবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে গত ৫ সেপ্টেম্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতিরূপ নিয়ে গড়ে ওঠা এই কমপ্লেক্সটিকে এমনভাবে সাজানো হবে যাতে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারেন এবং দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারেন। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং শীঘ্রই টেন্ডারের মাধ্যমে সংস্কারকাজ শুরু হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, এই পার্কে এসে মানুষ বাংলাদেশের ইতিহাসের নানা অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে। এই কমপ্লেক্সের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, আহসান মঞ্জিল, সুপ্রিম কোর্ট, কার্জন হল, কান্তজীর মন্দির, বড়কুঠি-ছোটকুঠি, ছোট সোনামসজিদ, লালবাগ কেল্লা, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার ও সেন্ট নিকোলাস চার্চের ক্ষুদ্রাকৃতির প্রতিরূপ। এছাড়া এখানে কৃত্রিম জলরাশি, চিরন্তন পল্লি, ট্রেনের নিচে ব্রিজ, পানির ফোয়ারা এবং শিশুদের জন্য কিডস জোন রয়েছে। কমপ্লেক্সের উত্তর-পূর্ব পাশে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র অবস্থিত।

বিএনপি সরকারের সময়ে ২০০৬ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে ১৬.১৬ একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’। দেশের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল এটি। এতে জাতীয় সংসদ থেকে স্মৃতিসৌধ, জাতীয় মসজিদ থেকে বিভিন্ন মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবয়ব গড়ে তুলে এক জায়গায় দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানার সুযোগ রাখা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ওয়াদুদ ভূইয়া

চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স ফিরছে তার পুরোনো নামে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ২৮। চট্টগ্রামের কালুরঘাটে অবস্থিত ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ আবারও তার পুরোনো নামে ফিরছে। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ১৬.৩৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই কমপ্লেক্সটি দেশের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। তবে ২০০৯ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন সরকার কমপ্লেক্সটির নাম পরিবর্তন করে ‘মিনি বাংলাদেশ’ রাখে। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় কমপ্লেক্সটি অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে ছিল, যার ফলে এর বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা আগাছা ও ঘাসে ঢেকে যায়।

অবশেষে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার হারানো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান গত ৬ জুন চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সময় নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটিকে প্রতিহিংসামূলক বলে মন্তব্য করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমপ্লেক্সটির পুরোনো নাম ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ ফিরিয়ে আনে।

কমপ্লেক্সটিকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও দর্শনার্থীবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে গত ৫ সেপ্টেম্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতিরূপ নিয়ে গড়ে ওঠা এই কমপ্লেক্সটিকে এমনভাবে সাজানো হবে যাতে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারেন এবং দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারেন। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং শীঘ্রই টেন্ডারের মাধ্যমে সংস্কারকাজ শুরু হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, এই পার্কে এসে মানুষ বাংলাদেশের ইতিহাসের নানা অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে। এই কমপ্লেক্সের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, আহসান মঞ্জিল, সুপ্রিম কোর্ট, কার্জন হল, কান্তজীর মন্দির, বড়কুঠি-ছোটকুঠি, ছোট সোনামসজিদ, লালবাগ কেল্লা, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার ও সেন্ট নিকোলাস চার্চের ক্ষুদ্রাকৃতির প্রতিরূপ। এছাড়া এখানে কৃত্রিম জলরাশি, চিরন্তন পল্লি, ট্রেনের নিচে ব্রিজ, পানির ফোয়ারা এবং শিশুদের জন্য কিডস জোন রয়েছে। কমপ্লেক্সের উত্তর-পূর্ব পাশে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র অবস্থিত।

বিএনপি সরকারের সময়ে ২০০৬ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে ১৬.১৬ একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’। দেশের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল এটি। এতে জাতীয় সংসদ থেকে স্মৃতিসৌধ, জাতীয় মসজিদ থেকে বিভিন্ন মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবয়ব গড়ে তুলে এক জায়গায় দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানার সুযোগ রাখা হয়।