লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামি দৃষ্টিতে সুন্দরভাবে কথা বলার আদব ও গুরুত্ব

ইসলামের অনুপম শিক্ষা ও সৌন্দর্য হলো সুন্দরভাবে কথা বলা। সঠিক ও মার্জিত ভাষায় কথা বলে সহজেই মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করা সম্ভব। আবার স্থান, কাল ও পাত্রভেদে কথা বলার অযোগ্যতার কারণে মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। কথা এমন একটি বিষয়—যা একবার মুখ থেকে বেরিয়ে গেলে আর কখনোই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'প্রকৃত মুসলমান হলো সেই ব্যক্তি, যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলমানরা নিরাপদ থাকে।' (তিরমিজি : ২৬২৭)।

ইসলাম মিথ্যাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয় না। মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার মানুষ যেমন ঘৃণা করে, আসমানের ফেরেশতারাও তাকে ঘৃণা করে এবং তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতারা মিথ্যাবাদী থেকে এক মাইল দূরে চলে যায়।' (তিরমিজি : ১৯৭২)।

মানুষের উচিত সবসময় ভেবেচিন্তে কথা বলা। দুনিয়া ও আখেরাতে কোনো উপকার নেই—এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকা চাই। প্রতিটি উচ্চারিত শব্দ সংরক্ষণের জন্য নিযুক্ত ফেরেশতা রয়েছেন, যেমনটি আল্লাহতায়ালা সুরা কাফের ১৮ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া কথা বলার সময় তাড়াহুড়া করা দোষণীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ধীরে ধীরে কথা বলতেন, যা আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন (মুসলিম : ৭৩৯৯)।

কথা বলার সময় মধ্যম স্বর বজায় রাখা জরুরি। পবিত্র কোরআনে সুরা লুকমানের ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কথা বলার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে এবং আওয়াজ নিচু রাখতে, কারণ কর্কশ আওয়াজ গাধার আওয়াজের মতো নিকৃষ্ট। এছাড়া মানুষের সঙ্গে উত্তম ভাষায় কথা বলা ইসলামের সৌন্দর্য (সুরা বাকারা : ৮৩)।

নবী (সা.)-এর উপস্থিতিতে আওয়াজ উঁচু না করার বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সুরা হুজুরাতের ২-৩ নম্বর আয়াতে কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে। এছাড়া মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের বিকল্প নেই (সুরা নাহল : ১২৫)। মন্দ কথার প্রতিবাদ করতে হবে ভালো কাজের মাধ্যমে, যাতে শত্রুও অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হয় (সুরা হামিম আস-সাজদা : ৩৪)। সর্বশেষে, মূর্খ লোকদের সঙ্গে তর্কে না জড়িয়ে তাদের থেকে সালামের মাধ্যমে বিদায় নেওয়াই মুমিনের গুণ, যা সুরা ফুরকানের ৬৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই মাসে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করল বাংলাদেশ

ইসলামি দৃষ্টিতে সুন্দরভাবে কথা বলার আদব ও গুরুত্ব

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫২:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামের অনুপম শিক্ষা ও সৌন্দর্য হলো সুন্দরভাবে কথা বলা। সঠিক ও মার্জিত ভাষায় কথা বলে সহজেই মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করা সম্ভব। আবার স্থান, কাল ও পাত্রভেদে কথা বলার অযোগ্যতার কারণে মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। কথা এমন একটি বিষয়—যা একবার মুখ থেকে বেরিয়ে গেলে আর কখনোই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'প্রকৃত মুসলমান হলো সেই ব্যক্তি, যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলমানরা নিরাপদ থাকে।' (তিরমিজি : ২৬২৭)।

ইসলাম মিথ্যাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয় না। মিথ্যাবাদীকে দুনিয়ার মানুষ যেমন ঘৃণা করে, আসমানের ফেরেশতারাও তাকে ঘৃণা করে এবং তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতারা মিথ্যাবাদী থেকে এক মাইল দূরে চলে যায়।' (তিরমিজি : ১৯৭২)।

মানুষের উচিত সবসময় ভেবেচিন্তে কথা বলা। দুনিয়া ও আখেরাতে কোনো উপকার নেই—এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকা চাই। প্রতিটি উচ্চারিত শব্দ সংরক্ষণের জন্য নিযুক্ত ফেরেশতা রয়েছেন, যেমনটি আল্লাহতায়ালা সুরা কাফের ১৮ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া কথা বলার সময় তাড়াহুড়া করা দোষণীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ধীরে ধীরে কথা বলতেন, যা আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন (মুসলিম : ৭৩৯৯)।

কথা বলার সময় মধ্যম স্বর বজায় রাখা জরুরি। পবিত্র কোরআনে সুরা লুকমানের ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কথা বলার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে এবং আওয়াজ নিচু রাখতে, কারণ কর্কশ আওয়াজ গাধার আওয়াজের মতো নিকৃষ্ট। এছাড়া মানুষের সঙ্গে উত্তম ভাষায় কথা বলা ইসলামের সৌন্দর্য (সুরা বাকারা : ৮৩)।

নবী (সা.)-এর উপস্থিতিতে আওয়াজ উঁচু না করার বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সুরা হুজুরাতের ২-৩ নম্বর আয়াতে কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে। এছাড়া মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের বিকল্প নেই (সুরা নাহল : ১২৫)। মন্দ কথার প্রতিবাদ করতে হবে ভালো কাজের মাধ্যমে, যাতে শত্রুও অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হয় (সুরা হামিম আস-সাজদা : ৩৪)। সর্বশেষে, মূর্খ লোকদের সঙ্গে তর্কে না জড়িয়ে তাদের থেকে সালামের মাধ্যমে বিদায় নেওয়াই মুমিনের গুণ, যা সুরা ফুরকানের ৬৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।