লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিডের দাম বৃদ্ধিতে সংকটে পোলট্রি খামার, বন্ধের আশঙ্কা

পোলট্রি ফিডের বাজারে শুরু হয়েছে চরম নৈরাজ্য। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ফিডের দাম ৯ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের পোলট্রি খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে অনেক খামারি তাদের খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাজারে ডিম ও মুরগির সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফিড তৈরির প্রায় সব মূল উপাদানের দামই ঊর্ধ্বমুখী। সোমবারের বাজার দর অনুযায়ী, ১৩ শতাংশ আর্দ্রতার ভুট্টার কেজিপ্রতি দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায়, যা মাসখানেক আগেও ছিল ৩১ টাকা ৩০ পয়সা। ডি-অয়েলড রাইস ব্রান (ডিওআরবি) ২৬ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ টাকায় এবং ১৬ শতাংশ তেলযুক্ত চালের কুঁড়া ৩৩ টাকা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সরিষার খৈল ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা ৭০ পয়সা এবং সয়াবিন মিল ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকায় পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারেও ভুট্টার দাম প্রতি টন ২৩৫-২৪০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামাও আমদানিনির্ভর ফিড তৈরির উপকরণের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে। ফিডের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল পোলট্রি নয়, মৎস্য ও গবাদিপশু উৎপাদনের খরচও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার পাঁচবাড়ির খামারি মো. হাসান জানান, মাসে ৭০ বস্তা ফিডের প্রয়োজন হলেও দাম বাড়ায় তিনি এখন ৬০ বস্তা খাওয়াচ্ছেন। এতে মুরগির কাঙ্ক্ষিত ওজন না আসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। এছাড়া ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম বাড়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তিনি জানান, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ডিম-মুরগির বাজারে সেই অনুপাতে দাম পাচ্ছেন না খামারিরা।

বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ডিওআরবি ও রাইস ব্রানের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে এসব পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক কমানো এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান ড. মো. শফিকুর রহমান শিশির স্থানীয় শিল্পের স্বার্থ ও রপ্তানির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ, সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ফিডের দাম বৃদ্ধিতে সংকটে পোলট্রি খামার, বন্ধের আশঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পোলট্রি ফিডের বাজারে শুরু হয়েছে চরম নৈরাজ্য। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ফিডের দাম ৯ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের পোলট্রি খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। লোকসানের বোঝা সইতে না পেরে অনেক খামারি তাদের খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাজারে ডিম ও মুরগির সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফিড তৈরির প্রায় সব মূল উপাদানের দামই ঊর্ধ্বমুখী। সোমবারের বাজার দর অনুযায়ী, ১৩ শতাংশ আর্দ্রতার ভুট্টার কেজিপ্রতি দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায়, যা মাসখানেক আগেও ছিল ৩১ টাকা ৩০ পয়সা। ডি-অয়েলড রাইস ব্রান (ডিওআরবি) ২৬ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ টাকায় এবং ১৬ শতাংশ তেলযুক্ত চালের কুঁড়া ৩৩ টাকা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সরিষার খৈল ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা ৭০ পয়সা এবং সয়াবিন মিল ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকায় পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারেও ভুট্টার দাম প্রতি টন ২৩৫-২৪০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামাও আমদানিনির্ভর ফিড তৈরির উপকরণের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে। ফিডের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল পোলট্রি নয়, মৎস্য ও গবাদিপশু উৎপাদনের খরচও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার পাঁচবাড়ির খামারি মো. হাসান জানান, মাসে ৭০ বস্তা ফিডের প্রয়োজন হলেও দাম বাড়ায় তিনি এখন ৬০ বস্তা খাওয়াচ্ছেন। এতে মুরগির কাঙ্ক্ষিত ওজন না আসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। এছাড়া ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম বাড়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তিনি জানান, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ডিম-মুরগির বাজারে সেই অনুপাতে দাম পাচ্ছেন না খামারিরা।

বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ডিওআরবি ও রাইস ব্রানের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে এসব পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক কমানো এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান ড. মো. শফিকুর রহমান শিশির স্থানীয় শিল্পের স্বার্থ ও রপ্তানির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।