লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবকে অপহরণের পর হত্যা, মূল আসামি গ্রেপ্তার

রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে অপহৃত কলেজছাত্র রাকিবুল ইসলামকে (১৭) হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় মূল আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকারকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করার পর গত সোমবার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন, উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম জানান, রাকিব পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থাকতেন এবং এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে পড়তেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজের পর রাকিবের পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি অডিও বার্তা পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যরা রাকিবকে জীবিত উদ্ধারের আশায় চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান।

তদন্তে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে মামুনের পরিচয় হয়। ঘটনার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর মামুন হোয়াটসঅ্যাপে কল করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে থেকে শুক্রাবাদের নিজের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের চেষ্টাকালে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মামুন রাকিবের ঘাড় মটকে হত্যা করে। এরপর অপরাধ ঢাকতে সে মরদেহ কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে ফেলে।

ঘটনার পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর মামুন অটোরিকশায় মরদেহটি গাবতলী নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে বাসে করে নিজ এলাকা নীলফামারীর ডিমলায় পৌঁছায়। সেখানে বাড়ির সামনের সুপারি বাগানে গর্ত করে সে মরদেহটি মাটিচাপা দেয়।

রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি ও পরে অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্তে মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ট্র্যাক করে পুলিশ মামুনকে শনাক্ত করে। গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় পুলিশ মাটি খুঁড়ে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিনিসিয়ুসের বাজারমূল্যে বড় ধস, তিন বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে তারকা

এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবকে অপহরণের পর হত্যা, মূল আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে অপহৃত কলেজছাত্র রাকিবুল ইসলামকে (১৭) হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় মূল আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকারকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করার পর গত সোমবার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন, উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম জানান, রাকিব পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থাকতেন এবং এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে পড়তেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজের পর রাকিবের পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি অডিও বার্তা পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যরা রাকিবকে জীবিত উদ্ধারের আশায় চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান।

তদন্তে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে মামুনের পরিচয় হয়। ঘটনার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর মামুন হোয়াটসঅ্যাপে কল করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে থেকে শুক্রাবাদের নিজের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের চেষ্টাকালে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মামুন রাকিবের ঘাড় মটকে হত্যা করে। এরপর অপরাধ ঢাকতে সে মরদেহ কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে ফেলে।

ঘটনার পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর মামুন অটোরিকশায় মরদেহটি গাবতলী নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে বাসে করে নিজ এলাকা নীলফামারীর ডিমলায় পৌঁছায়। সেখানে বাড়ির সামনের সুপারি বাগানে গর্ত করে সে মরদেহটি মাটিচাপা দেয়।

রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি ও পরে অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্তে মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ট্র্যাক করে পুলিশ মামুনকে শনাক্ত করে। গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় পুলিশ মাটি খুঁড়ে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।