লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরাতে চায় সরকার: পানিসম্পদমন্ত্রী

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, নতুন এই চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীতে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গা চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগেই দুই দেশের মধ্যে নতুন চুক্তি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উল্লেখ করেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ১৯৯৬ সালের চুক্তি নবায়নের সময় এই গুরুত্বপূর্ণ ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী একে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ‘মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজের কাজ ইতিমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে এবং আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো সময়ে এই প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে। অন্যদিকে, তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি দ্রুততম সময়ে শেষ করে ২০২৭ সালের মধ্যে মূল কাজ শুরু করার ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখছে সরকার।

তিস্তা ও পদ্মা প্রকল্পে বিদেশি কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নদী অববাহিকার বাসিন্দারা এ দেশেরই নাগরিক। দেশের মানুষের স্বার্থ ও তাদের আকাঙ্ক্ষাই সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চাপ এবং সেই চাপকে ধারণ করেই জনগণের কল্যাণে কাজ করা হচ্ছে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক যুগ ধরে শুধু পদ্মা ব্যারাজের সমীক্ষা চালানো হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করেছে। একইভাবে তিস্তা প্রকল্পের কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান: এক রাতেই আটক ২৫২

গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরাতে চায় সরকার: পানিসম্পদমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, নতুন এই চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীতে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গা চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগেই দুই দেশের মধ্যে নতুন চুক্তি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উল্লেখ করেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ১৯৯৬ সালের চুক্তি নবায়নের সময় এই গুরুত্বপূর্ণ ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী একে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ‘মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজের কাজ ইতিমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে এবং আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো সময়ে এই প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে। অন্যদিকে, তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি দ্রুততম সময়ে শেষ করে ২০২৭ সালের মধ্যে মূল কাজ শুরু করার ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখছে সরকার।

তিস্তা ও পদ্মা প্রকল্পে বিদেশি কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নদী অববাহিকার বাসিন্দারা এ দেশেরই নাগরিক। দেশের মানুষের স্বার্থ ও তাদের আকাঙ্ক্ষাই সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চাপ এবং সেই চাপকে ধারণ করেই জনগণের কল্যাণে কাজ করা হচ্ছে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক যুগ ধরে শুধু পদ্মা ব্যারাজের সমীক্ষা চালানো হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করেছে। একইভাবে তিস্তা প্রকল্পের কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দেওয়া হবে।