লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোম্পানীগঞ্জে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নের তোড়জোড়

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সর্বস্তরেই দলীয় সমর্থন ও প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা জমে উঠেছে। এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে দলীয় ফোরাম—সবখানেই এখন সম্ভাব্য প্রার্থী ও নানা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সাংগঠনিক সভার মাধ্যমে এই নির্বাচনী তৎপরতা নতুন গতি পেয়েছে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সমর্থন পেতে ইতিমধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির তিন হেভিওয়েট নেতা। তারা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী সাহাব উদ্দিন এবং সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন। তারা তিনজনই দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করে নিজেদের প্রার্থিতার বার্তা নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে ১ নম্বর পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের অন্তত ১০ জন নেতা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। প্রার্থিতা ঘোষণা করা এই নেতারা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল মন্নান মনাফ, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মাস্টার, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন রবি, উপজেলা বিএনপির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক উসমান খা, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ইলিয়াছ আলী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আহমদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক আজির উদ্দিন তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন এবং উপজেলা তাঁতিদলের সদস্যসচিব আরিফ চৌধুরী রাজ। এ ছাড়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদেও বহু নেতা দলীয় সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় স্থানীয় টুকেরবাজারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির অধীন ১ নম্বর পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটিতে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম পরিবেশ তৈরি হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন রবির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলী আকবরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল মন্নান মনাফ। প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট বুরহান উদ্দিন খন্দকার ফরহাদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল মোত্তাকিন বাদশাহ। সভাব্যাপি উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই সক্রিয়তা কোম্পানীগঞ্জে বিএনপির তৃণমূল রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে। একই পদে দলের একাধিক প্রার্থীর আগ্রহ থাকাটা যেমন আগ্রহ তৈরি করেছে, তেমনি চূড়ান্ত দলীয় সমর্থন প্রদান করতে কেন্দ্র ও স্থানীয় নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তবে সরকারিভাবে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা ও হাইকমান্ডের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার পরই মূলত এই প্রতিযোগিতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের স্বর্ণ ও রুপার দাম – ১১ অক্টোবর ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নের তোড়জোড়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৩:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সর্বস্তরেই দলীয় সমর্থন ও প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা জমে উঠেছে। এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে দলীয় ফোরাম—সবখানেই এখন সম্ভাব্য প্রার্থী ও নানা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সাংগঠনিক সভার মাধ্যমে এই নির্বাচনী তৎপরতা নতুন গতি পেয়েছে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সমর্থন পেতে ইতিমধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির তিন হেভিওয়েট নেতা। তারা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী সাহাব উদ্দিন এবং সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন। তারা তিনজনই দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করে নিজেদের প্রার্থিতার বার্তা নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে ১ নম্বর পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের অন্তত ১০ জন নেতা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। প্রার্থিতা ঘোষণা করা এই নেতারা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল মন্নান মনাফ, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মাস্টার, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন রবি, উপজেলা বিএনপির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক উসমান খা, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ইলিয়াছ আলী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আহমদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক আজির উদ্দিন তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন এবং উপজেলা তাঁতিদলের সদস্যসচিব আরিফ চৌধুরী রাজ। এ ছাড়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদেও বহু নেতা দলীয় সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় স্থানীয় টুকেরবাজারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির অধীন ১ নম্বর পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটিতে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম পরিবেশ তৈরি হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন রবির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলী আকবরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল মন্নান মনাফ। প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট বুরহান উদ্দিন খন্দকার ফরহাদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল মোত্তাকিন বাদশাহ। সভাব্যাপি উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই সক্রিয়তা কোম্পানীগঞ্জে বিএনপির তৃণমূল রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে। একই পদে দলের একাধিক প্রার্থীর আগ্রহ থাকাটা যেমন আগ্রহ তৈরি করেছে, তেমনি চূড়ান্ত দলীয় সমর্থন প্রদান করতে কেন্দ্র ও স্থানীয় নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তবে সরকারিভাবে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা ও হাইকমান্ডের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার পরই মূলত এই প্রতিযোগিতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।