লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের ৪ দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সেবার দাবিতে উত্তাল বিক্ষোভ

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি এবং সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে ইউরোপের চারটি দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অনেক স্থানেই এই বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়, যার মধ্যে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ফ্রান্সে পরিস্থিতি সবচেয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দেশটির প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিমোজ, লিল, তুলুজ ও স্ত্রাসবুর্গ শহরে কয়েক ডজন দোকান লুটপাটের শিকার হয়েছে। ফ্রান্সে স্কুলের পরিবেশ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। প্যারিসে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ১৯৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

ফ্রান্সের ১৪৩ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের দেওয়া আগুনে ছাদ ভেঙে পড়ার ভিডিও পাওয়া গেছে। লিমোজে টাউন হলের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, যাকে স্থানীয় কর্মকর্তারা ঐতিহ্যের জন্য ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গত মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন বিস্তৃত হয়েছে। পুলিশের অভিযানের সময় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের চোয়াল ভেঙে যাওয়া এবং আলঁসোঁ শহরে এক কিশোরীকে নিষিদ্ধ হেডলক কৌশলে আটকানোর ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ ও আগুন জ্বালানোর অভিযোগে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। লিয়েজ শহরেও জলকামান মোতায়েন করতে হয়েছে। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে কয়েক দশ হাজার মানুষ আবাসন সংকট, কম মজুরি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করেছেন। দেশটিতে ২০১৭ সালের পর বাড়ির দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস আব্রেউ আমোরিম জানিয়েছেন, সরকার রাস্তায় চিৎকারের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

ইতালির মিলান ও বোলোনিয়াতেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। ইউরোপের এই বিক্ষোভ ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সরকারগুলোর ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় রোগীর তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা

ইউরোপের ৪ দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সেবার দাবিতে উত্তাল বিক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি এবং সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে ইউরোপের চারটি দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অনেক স্থানেই এই বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়, যার মধ্যে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ফ্রান্সে পরিস্থিতি সবচেয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দেশটির প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিমোজ, লিল, তুলুজ ও স্ত্রাসবুর্গ শহরে কয়েক ডজন দোকান লুটপাটের শিকার হয়েছে। ফ্রান্সে স্কুলের পরিবেশ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। প্যারিসে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ১৯৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

ফ্রান্সের ১৪৩ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের দেওয়া আগুনে ছাদ ভেঙে পড়ার ভিডিও পাওয়া গেছে। লিমোজে টাউন হলের দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, যাকে স্থানীয় কর্মকর্তারা ঐতিহ্যের জন্য ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গত মাসে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন বিস্তৃত হয়েছে। পুলিশের অভিযানের সময় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের চোয়াল ভেঙে যাওয়া এবং আলঁসোঁ শহরে এক কিশোরীকে নিষিদ্ধ হেডলক কৌশলে আটকানোর ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ ও আগুন জ্বালানোর অভিযোগে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। লিয়েজ শহরেও জলকামান মোতায়েন করতে হয়েছে। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে কয়েক দশ হাজার মানুষ আবাসন সংকট, কম মজুরি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করেছেন। দেশটিতে ২০১৭ সালের পর বাড়ির দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস আব্রেউ আমোরিম জানিয়েছেন, সরকার রাস্তায় চিৎকারের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

ইতালির মিলান ও বোলোনিয়াতেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন স্থানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। ইউরোপের এই বিক্ষোভ ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সরকারগুলোর ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।