লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সংঘাত: গ্রেপ্তার ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি এবং জনসেবার মান অবনতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ১৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং সারা দেশ থেকে ১ হাজার ২০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) এ বিক্ষোভ কর্মসূচি একপর্যায়ে ব্যাপক সহিংস রূপ নেয়। একদল মুখোশধারী তরুণ বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং সড়কে পার্ক করে রাখা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সহিংসতার তাণ্ডবে প্যারিসের বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে ওঠে। প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার জানান, বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের কারণে শহরের কয়েকটি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সহিংসতার এই মাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার ও ১৫০ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে তিনি মন্তব্য করেন, এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি না হওয়াটা একটি অলৌকিক ঘটনা। এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাঁ-এতিয়েনে আন্দোলন দমনে পুলিশি সরঞ্জাম ব্যবহারের সময় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। জনতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেডের আঘাতে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা সংঘর্ষের তীব্রতা ও পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

দেশটিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছিল, শনিবারের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে তা মহাসমাবেশে রূপ নেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, সারা দেশে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৮ লাখ। কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে এমন সহিংস সংঘাত ফরাসি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, নিম্ন মজুরি এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এই আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছে। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহিংসতার ঘটনা বর্তমান সরকারের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও আগামী নির্বাচনে এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব কী হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে সংঘাত, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগকবলিত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বে সর্বোচ্চ হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ, আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ পার

ফ্রান্সে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সংঘাত: গ্রেপ্তার ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি এবং জনসেবার মান অবনতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ১৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং সারা দেশ থেকে ১ হাজার ২০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) এ বিক্ষোভ কর্মসূচি একপর্যায়ে ব্যাপক সহিংস রূপ নেয়। একদল মুখোশধারী তরুণ বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং সড়কে পার্ক করে রাখা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সহিংসতার তাণ্ডবে প্যারিসের বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে ওঠে। প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার জানান, বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের কারণে শহরের কয়েকটি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সহিংসতার এই মাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার ও ১৫০ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে তিনি মন্তব্য করেন, এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি না হওয়াটা একটি অলৌকিক ঘটনা। এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাঁ-এতিয়েনে আন্দোলন দমনে পুলিশি সরঞ্জাম ব্যবহারের সময় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। জনতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেডের আঘাতে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা সংঘর্ষের তীব্রতা ও পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

দেশটিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছিল, শনিবারের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে তা মহাসমাবেশে রূপ নেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, সারা দেশে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৮ লাখ। কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে এমন সহিংস সংঘাত ফরাসি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, নিম্ন মজুরি এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এই আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছে। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহিংসতার ঘটনা বর্তমান সরকারের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও আগামী নির্বাচনে এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব কী হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে সংঘাত, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগকবলিত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।