লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় ফারজানা

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এক পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজরা হলেন সাতক্ষীরার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক ফারজানা মতিনের ছোট বোন আফসানা মতিন তানজি (৩৬), বোনজামাই নাহিদুর রহমান (৪১) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। ঘটনার পর থেকে স্বজনেরা তাঁদের মৃত্যুর আশঙ্কা করছেন, যদিও গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, কারোর পরিচয়ই আসলে নিশ্চিত হয়নি। ডিএনএ টেস্টের আগে সেটা সম্ভবও নয়। যাদের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো পরিবারের দাবি। সবার পরিচয় নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগবে।

ফারজানা মতিন জানান, গত শুক্রবার সকালে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। নাহিদুর রহমান ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। শনিবার সকাল সাতটার পর থেকে নাহিদ ও আফসানার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে দুপুরের দিকে ফেসবুকে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখে তারা বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। ফারজানা বলেন, আমার বোনজামাই তো মোবাইল বন্ধ রাখে না। ও অফিসের কাজে গেলেও ফোন বন্ধ রাখার ছেলে নয়। সকাল সাতটা থেকে দুজনের ফোন বন্ধ। তখন থেকেই আমার মনে হচ্ছিল, ওরা কোনো বিপদে পড়েছে।

রিসোর্টটির নথিপত্র থেকে নাহিদুর রহমানের নাম ও মুঠোফোন নম্বর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারের দিকে রওনা হয়েছেন। নাহিদের ভাই ও বন্ধুরাও সেখানে যাচ্ছেন। আফসানা তাঁর মায়ের কাছে রিসোর্টটির বর্ণনাও দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, দোতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটির এক বারান্দা থেকে সমুদ্র দেখা যায়, অন্যটি থেকে পাহাড়। সকালের নাশতায় বুফের ব্যবস্থাও আছে। অথচ সেই ভ্রমণের পর এখন আর তাঁর বা পরিবারের অন্য তিন সদস্যের কোনো খোঁজ নেই।

ফারজানা মতিন দুই ভাগনিকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ওরা খুব সুখী ছিল। একদম ফুলের মতো। ওদের দিকে তাকালে তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছা করবে শুধু। দুই শিশুকে ঘিরেই দুই পরিবারের আনন্দ ছিল। ফারজানা বলেন, ওরা সকাল-সন্ধ্যা ভিডিও কলে কথা বলত। আমরা তো ওদের নিয়েই বাঁচতাম। ওরা কোথায় হারিয়ে গেল। ওদের কি আর ফিরে পাব না?

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এতে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে আটজনের পরিচয় অনুমান করা গেছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। তবে ওই আটজনের মধ্যে আফসানা, নাহিদ ও তাঁদের দুই মেয়ের নাম নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারকে নয়, আজ থেকে ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করার ঘোষণা জামায়াত আমীরের

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় ফারজানা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এক পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজরা হলেন সাতক্ষীরার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক ফারজানা মতিনের ছোট বোন আফসানা মতিন তানজি (৩৬), বোনজামাই নাহিদুর রহমান (৪১) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। ঘটনার পর থেকে স্বজনেরা তাঁদের মৃত্যুর আশঙ্কা করছেন, যদিও গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, কারোর পরিচয়ই আসলে নিশ্চিত হয়নি। ডিএনএ টেস্টের আগে সেটা সম্ভবও নয়। যাদের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো পরিবারের দাবি। সবার পরিচয় নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগবে।

ফারজানা মতিন জানান, গত শুক্রবার সকালে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। নাহিদুর রহমান ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। শনিবার সকাল সাতটার পর থেকে নাহিদ ও আফসানার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে দুপুরের দিকে ফেসবুকে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখে তারা বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। ফারজানা বলেন, আমার বোনজামাই তো মোবাইল বন্ধ রাখে না। ও অফিসের কাজে গেলেও ফোন বন্ধ রাখার ছেলে নয়। সকাল সাতটা থেকে দুজনের ফোন বন্ধ। তখন থেকেই আমার মনে হচ্ছিল, ওরা কোনো বিপদে পড়েছে।

রিসোর্টটির নথিপত্র থেকে নাহিদুর রহমানের নাম ও মুঠোফোন নম্বর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারের দিকে রওনা হয়েছেন। নাহিদের ভাই ও বন্ধুরাও সেখানে যাচ্ছেন। আফসানা তাঁর মায়ের কাছে রিসোর্টটির বর্ণনাও দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, দোতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটির এক বারান্দা থেকে সমুদ্র দেখা যায়, অন্যটি থেকে পাহাড়। সকালের নাশতায় বুফের ব্যবস্থাও আছে। অথচ সেই ভ্রমণের পর এখন আর তাঁর বা পরিবারের অন্য তিন সদস্যের কোনো খোঁজ নেই।

ফারজানা মতিন দুই ভাগনিকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ওরা খুব সুখী ছিল। একদম ফুলের মতো। ওদের দিকে তাকালে তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছা করবে শুধু। দুই শিশুকে ঘিরেই দুই পরিবারের আনন্দ ছিল। ফারজানা বলেন, ওরা সকাল-সন্ধ্যা ভিডিও কলে কথা বলত। আমরা তো ওদের নিয়েই বাঁচতাম। ওরা কোথায় হারিয়ে গেল। ওদের কি আর ফিরে পাব না?

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এতে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে আটজনের পরিচয় অনুমান করা গেছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। তবে ওই আটজনের মধ্যে আফসানা, নাহিদ ও তাঁদের দুই মেয়ের নাম নেই।