লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে পারিবারিক কলহে পৃথক ঘটনায় আপন দুই ভাই নিহত

ঝিনাইদহের শৈলকূপা ও সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে পৃথক দুটি ঘটনায় আপন দুই ভাই প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় এক জায়গায় ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই এবং অন্য জায়গায় বড় ভাইয়ের কোদালের কোপে ছোট ভাই নিহত হন। ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ ও গ্রামবাসী।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে শৈলকূপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বাড়ির উঠানের গাছ থেকে সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে বড় ভাই মজিবুল ইসলামের (৪৮) সঙ্গে ছোট ভাই রবিউল ইসলামের বিবাদের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে শনিবার বিকেলে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। মারামারির একপর্যায়ে রবিউল লাঠি দিয়ে বড় ভাই মজিবুলের মাথা ও শরীরে সজোরে আঘাত করেন। এ সময় মজিবুলকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেও রক্তাক্ত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মজিবুলকে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত রবিউল পালিয়ে গেলেও গ্রামবাসী তাঁর স্ত্রী মিলি খাতুনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

অপরদিকে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বকশিপুর-চাঁদপুর গ্রামে ঘটে অন্য ঘটনাটি। সেখানে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাই সুমন মন্ডলের কোদালের আঘাতে ছোট ভাই সোহান মন্ডল (২৮) নিহত হয়েছেন। নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেলে সোহানের স্ত্রীর সঙ্গে বড় ভাই সুমনের ঝগড়া হয়। পরে সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে পাশে থাকা কোদাল দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান।

গুরুতর আহত সোহানকে দ্রুত উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হুমায়রা হুমা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, তুচ্ছ পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ পর্যটকের মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি গঠন

ঝিনাইদহে পারিবারিক কলহে পৃথক ঘটনায় আপন দুই ভাই নিহত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ঝিনাইদহের শৈলকূপা ও সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে পৃথক দুটি ঘটনায় আপন দুই ভাই প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় এক জায়গায় ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই এবং অন্য জায়গায় বড় ভাইয়ের কোদালের কোপে ছোট ভাই নিহত হন। ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ ও গ্রামবাসী।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে শৈলকূপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বাড়ির উঠানের গাছ থেকে সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে বড় ভাই মজিবুল ইসলামের (৪৮) সঙ্গে ছোট ভাই রবিউল ইসলামের বিবাদের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে শনিবার বিকেলে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। মারামারির একপর্যায়ে রবিউল লাঠি দিয়ে বড় ভাই মজিবুলের মাথা ও শরীরে সজোরে আঘাত করেন। এ সময় মজিবুলকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেও রক্তাক্ত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মজিবুলকে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত রবিউল পালিয়ে গেলেও গ্রামবাসী তাঁর স্ত্রী মিলি খাতুনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

অপরদিকে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বকশিপুর-চাঁদপুর গ্রামে ঘটে অন্য ঘটনাটি। সেখানে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাই সুমন মন্ডলের কোদালের আঘাতে ছোট ভাই সোহান মন্ডল (২৮) নিহত হয়েছেন। নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেলে সোহানের স্ত্রীর সঙ্গে বড় ভাই সুমনের ঝগড়া হয়। পরে সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে পাশে থাকা কোদাল দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান।

গুরুতর আহত সোহানকে দ্রুত উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হুমায়রা হুমা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, তুচ্ছ পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।