লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনায় রিসোর্ট মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে শনিবার দিবাগত রাতে মামলাটি করেন। রবিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার।

দায়ের করা মামলায় রিসোর্টের মালিক মো. তানভীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা ছাড়াও ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এজাহারে উল্লিখিত অন্য নামীয় আসামি হলেন নেওয়াজ মোর্শেদ। এছাড়া শনিবার বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আটক করা রিসোর্ট ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এদিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রবিবার সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। সঠিক কারণ জানতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রিসোর্টটির অনুমোদন, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নির্মাণসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাঠের তৈরি ওই রিসোর্টটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে খবর পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের দল সকাল আটটায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সমুদ্রের তীব্র বাতাসের কারণে পুরো স্থাপনায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে নির্মিত ওই রিসোর্টটির ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। এমনকি সেখানে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার অ্যালার্ম বা অগ্নিসংকেত, হোসপাইপ কিংবা কোনো অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা কিছুই রাখা হয়নি। যে জমির ওপর রিসোর্টটি করা হয়েছিল, সেটি নিয়েও বিতর্ক ও দ্বন্দ ছিল।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় সর্বমোট ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস জানায়, নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রিসোর্টের তৃতীয় তলার দুটি শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণের বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, ১০ জনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ছয়জনের পরিচয় জানা গেলেও কোন মরদেহটি কার তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া ছয়জন হলেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি; তাঁদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২ লাখ ১৩ হাজার

উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনায় রিসোর্ট মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে শনিবার দিবাগত রাতে মামলাটি করেন। রবিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার।

দায়ের করা মামলায় রিসোর্টের মালিক মো. তানভীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা ছাড়াও ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এজাহারে উল্লিখিত অন্য নামীয় আসামি হলেন নেওয়াজ মোর্শেদ। এছাড়া শনিবার বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আটক করা রিসোর্ট ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এদিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রবিবার সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। সঠিক কারণ জানতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রিসোর্টটির অনুমোদন, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নির্মাণসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাঠের তৈরি ওই রিসোর্টটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে খবর পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের দল সকাল আটটায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সমুদ্রের তীব্র বাতাসের কারণে পুরো স্থাপনায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে নির্মিত ওই রিসোর্টটির ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। এমনকি সেখানে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার অ্যালার্ম বা অগ্নিসংকেত, হোসপাইপ কিংবা কোনো অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা কিছুই রাখা হয়নি। যে জমির ওপর রিসোর্টটি করা হয়েছিল, সেটি নিয়েও বিতর্ক ও দ্বন্দ ছিল।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় সর্বমোট ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস জানায়, নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রিসোর্টের তৃতীয় তলার দুটি শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণের বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, ১০ জনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ছয়জনের পরিচয় জানা গেলেও কোন মরদেহটি কার তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া ছয়জন হলেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি; তাঁদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।