লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লাভজনক হওয়ায় পাট বীজ উৎপাদনে ঝুঁকছেন কৃষকেরা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে পাট বীজ উৎপাদনে বহু কৃষকের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘পাটের বিছন’ নামে বেশি পরিচিত। পাট চাষে দিন দিন মুনাফা বাড়ায় বীজ সংরক্ষণ ও উৎপাদনের এই প্রবণতা প্রশংসনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলাজুড়ে প্রতি বছরই পাট চাষির সংখ্যা বাড়ছে। কৃষকেরা সরকারি দপ্তর থেকে বিনামূল্যে সরবরাহকৃত বীজ ছাড়াও স্থানীয় হাট ও অন্যান্য গৃহস্থের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে জমিতে আবাদ করেছেন। অধিকাংশ জমিতেই মূলত দেশীয় জাতের পাট বোনা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ফুল ও বীজ গুটি আসতে শুরু করেছে।

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় বিভিন্ন জাতের পাটের আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দেশীয় সাদা, মেছতা, তোষা এবং কেনাফ (আসমান তারা)। তবে চাষাবাদকৃত পাটের সিংহভাগই দেশীয় জাতের সাদা পাট। উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা, ছোট বাখুয়া, পংরৌহা, ভদ্রকোল এবং পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের পুকুরপাড়, বেতুয়া, ছয়বারিয়া ও পুঠিয়া মাঠ এলাকার অনেক কৃষকই পাট না কেটে বীজ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে রেখে দিয়েছেন। এছাড়া কয়ড়া ও বড়হর ইউনিয়নের মাঠগুলোতেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। আর দুর্গানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ইতোমধ্যে কৃষকদের পাট গাছের উপরিভাগের বীজ অংশ কেটে বাড়ির উঠানে রোদে শুকাতে দেখা গেছে।

উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা মাঠে বিএডিসি অফিস থেকে বিনামূল্যে সরকারি বীজ পেয়ে দেশীয় জাতের সাদা পাট ‘সিভিএল-১’ (প্রত্যায়িত শ্রেণি) আবাদ করেছেন আজিম উদ্দিন, মেহের প্রামাণিক, সাইদুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন ও আশরাফ আলী। এদের মধ্যে কৃষক মেহের আলী প্রামাণিক জানান, সরকারি বীজে তিনি প্রায় দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে তা বীজ হিসেবে রেখে দিয়েছেন। সরকারি সহায়তায় উৎপাদিত এই বীজ পরবর্তীতে আবার বিএডিসি অফিসেই বিক্রি করা যাবে বলে তাদের জানানো হয়েছে।

একই মাঠে অন্যান্য গৃহস্থ বা হাট থেকে বীজ কিনে আবাদ করেছেন জাফর আলী, মোকাই হোসেন, আবদুল করিম, জাহিদুল ইসলামসহ আরও ১০-১২ জন কৃষক। চাষি জাফর আলী জানান, তিনি অন্য গৃহস্থের কাছ থেকে নেওয়া বীজ জমিতে বুনেছিলেন এবং তা এখন বীজ উৎপাদনের জন্যই জমিতে রেখে দিয়েছেন। কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ক্ষেতের ফুলে প্রচুর পরিমাণে বীজ গুটি তৈরি হচ্ছে। বাজারে পাটের ভালো দামের পাশাপাশি বীজ উৎপাদন ও পাটখড়ি (সোলা) বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ আয়ের সুযোগ থাকায় এই আবাদে বহুমুখী লাভ মিলছে।

উপজেলায় পাট বীজ উৎপাদনের বিষয়ে উল্লাপাড়া বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক (পাট বীজ) মোছা. মরিয়ম বেগম জানান, চলতি মৌসুমে পাট বীজ উৎপাদনে আগ্রহী এমন ৭০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সরকারি পাট বীজ বিতরণ করা হয়েছে। তারা সবাই সফলভাবে আবাদ শেষ করে বীজ সংরক্ষণ করছেন। সরকারি চুক্তি অনুযায়ী, কৃষকদের উৎপাদিত এই বীজ পরবর্তীতে বিএডিসি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে কিনে নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কলম্বিয়ায় অবৈধ সোনার খনি ধসে ১৪ শ্রমিকের মৃত্যু, নিখোঁজ অন্তত ১২

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লাভজনক হওয়ায় পাট বীজ উৎপাদনে ঝুঁকছেন কৃষকেরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৪০:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে পাট বীজ উৎপাদনে বহু কৃষকের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘পাটের বিছন’ নামে বেশি পরিচিত। পাট চাষে দিন দিন মুনাফা বাড়ায় বীজ সংরক্ষণ ও উৎপাদনের এই প্রবণতা প্রশংসনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলাজুড়ে প্রতি বছরই পাট চাষির সংখ্যা বাড়ছে। কৃষকেরা সরকারি দপ্তর থেকে বিনামূল্যে সরবরাহকৃত বীজ ছাড়াও স্থানীয় হাট ও অন্যান্য গৃহস্থের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে জমিতে আবাদ করেছেন। অধিকাংশ জমিতেই মূলত দেশীয় জাতের পাট বোনা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ফুল ও বীজ গুটি আসতে শুরু করেছে।

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় বিভিন্ন জাতের পাটের আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দেশীয় সাদা, মেছতা, তোষা এবং কেনাফ (আসমান তারা)। তবে চাষাবাদকৃত পাটের সিংহভাগই দেশীয় জাতের সাদা পাট। উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা, ছোট বাখুয়া, পংরৌহা, ভদ্রকোল এবং পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের পুকুরপাড়, বেতুয়া, ছয়বারিয়া ও পুঠিয়া মাঠ এলাকার অনেক কৃষকই পাট না কেটে বীজ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে রেখে দিয়েছেন। এছাড়া কয়ড়া ও বড়হর ইউনিয়নের মাঠগুলোতেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। আর দুর্গানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ইতোমধ্যে কৃষকদের পাট গাছের উপরিভাগের বীজ অংশ কেটে বাড়ির উঠানে রোদে শুকাতে দেখা গেছে।

উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা মাঠে বিএডিসি অফিস থেকে বিনামূল্যে সরকারি বীজ পেয়ে দেশীয় জাতের সাদা পাট ‘সিভিএল-১’ (প্রত্যায়িত শ্রেণি) আবাদ করেছেন আজিম উদ্দিন, মেহের প্রামাণিক, সাইদুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন ও আশরাফ আলী। এদের মধ্যে কৃষক মেহের আলী প্রামাণিক জানান, সরকারি বীজে তিনি প্রায় দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে তা বীজ হিসেবে রেখে দিয়েছেন। সরকারি সহায়তায় উৎপাদিত এই বীজ পরবর্তীতে আবার বিএডিসি অফিসেই বিক্রি করা যাবে বলে তাদের জানানো হয়েছে।

একই মাঠে অন্যান্য গৃহস্থ বা হাট থেকে বীজ কিনে আবাদ করেছেন জাফর আলী, মোকাই হোসেন, আবদুল করিম, জাহিদুল ইসলামসহ আরও ১০-১২ জন কৃষক। চাষি জাফর আলী জানান, তিনি অন্য গৃহস্থের কাছ থেকে নেওয়া বীজ জমিতে বুনেছিলেন এবং তা এখন বীজ উৎপাদনের জন্যই জমিতে রেখে দিয়েছেন। কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ক্ষেতের ফুলে প্রচুর পরিমাণে বীজ গুটি তৈরি হচ্ছে। বাজারে পাটের ভালো দামের পাশাপাশি বীজ উৎপাদন ও পাটখড়ি (সোলা) বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ আয়ের সুযোগ থাকায় এই আবাদে বহুমুখী লাভ মিলছে।

উপজেলায় পাট বীজ উৎপাদনের বিষয়ে উল্লাপাড়া বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক (পাট বীজ) মোছা. মরিয়ম বেগম জানান, চলতি মৌসুমে পাট বীজ উৎপাদনে আগ্রহী এমন ৭০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সরকারি পাট বীজ বিতরণ করা হয়েছে। তারা সবাই সফলভাবে আবাদ শেষ করে বীজ সংরক্ষণ করছেন। সরকারি চুক্তি অনুযায়ী, কৃষকদের উৎপাদিত এই বীজ পরবর্তীতে বিএডিসি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে কিনে নেওয়া হবে।