লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাজেকের পর্যটন এলাকায় ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ ও অবরোধ, জানাল আইএসপিআর

রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে উদ্ভূত সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্য পাহাড়িদের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এ বিষয়ে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইএসপিআর জানায়, সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় জনগণকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ করে। এর ফলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় সকাল ১০টার দিকে অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পর্যটকবাহী যানবাহন আটকে দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আলোচনা শুরু করলে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সকাল ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ৩০-৪০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। সেনাবাহিনীর সহায়তায় পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আইএসপিআর এই ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে বাধ্য করা এবং সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পর্যটন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও পর্যটনশিল্পের জন্য ক্ষতিকর বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাজেকের পর্যটন এলাকায় ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ ও অবরোধ, জানাল আইএসপিআর

সাজেকের পর্যটন এলাকায় ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ ও অবরোধ, জানাল আইএসপিআর

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে উদ্ভূত সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্য পাহাড়িদের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এ বিষয়ে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইএসপিআর জানায়, সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় জনগণকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ করে। এর ফলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় সকাল ১০টার দিকে অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পর্যটকবাহী যানবাহন আটকে দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আলোচনা শুরু করলে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সকাল ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ৩০-৪০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। সেনাবাহিনীর সহায়তায় পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আইএসপিআর এই ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে বাধ্য করা এবং সাধারণ মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পর্যটন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও পর্যটনশিল্পের জন্য ক্ষতিকর বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।