লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যৌথ হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয় দেশেই আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে তীব্র সামরিক হামলা চালানোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বর্তমানে দেশ দুটির সামরিক বাহিনী এই স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহারসহ বিভিন্ন কৌশলগত মহড়া জোরদার করেছে।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে এই সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এই ধরনের বড় আকারের হামলা ইরানের অর্থনীতিকে ধসের মুখে ফেলে দেশটিকে আট মাসের সংঘাতের পর কূটনৈতিক আপস করতে বাধ্য করবে।

তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও বড় ধরনের সংঘাতের পরিকল্পনা আটকে দিয়েছেন, এমনকি চলতি মাসের শুরুতে চূড়ান্ত প্রস্তুতির পরও শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিল করেছেন। ফলে এবারের পরিকল্পনাটি তিনি শেষ পর্যন্ত অনুমোদন করবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এদিকে তেহরান নতুন হামলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ৭২ ঘণ্টার অভিযানের ধারণা একটি কল্পনাপ্রসূত চিন্তা। তেহরানের বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে ইরান সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে আঘাত হানার মাধ্যমে তেলের দাম বাড়িয়ে দেবে, যা মার্কিন জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এছাড়া তারা ডেটা সেন্টার ও সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণের হুমকি দিয়েছে।

আগামী নভেম্বরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তির পূর্ণ সমাবেশ ঘটবে, যেখানে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও হাজার হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন থাকবে। তবে ২৭শে অক্টোবর ইসরাইলি নির্বাচন এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। নির্বাচন ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি এড়িয়ে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত কোনো বড় পদক্ষেপে যাননি। তবে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের বিকল্প এখনো তাদের হাতে উন্মুক্ত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যৌথ হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যৌথ হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয় দেশেই আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে তীব্র সামরিক হামলা চালানোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বর্তমানে দেশ দুটির সামরিক বাহিনী এই স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহারসহ বিভিন্ন কৌশলগত মহড়া জোরদার করেছে।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে এই সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এই ধরনের বড় আকারের হামলা ইরানের অর্থনীতিকে ধসের মুখে ফেলে দেশটিকে আট মাসের সংঘাতের পর কূটনৈতিক আপস করতে বাধ্য করবে।

তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও বড় ধরনের সংঘাতের পরিকল্পনা আটকে দিয়েছেন, এমনকি চলতি মাসের শুরুতে চূড়ান্ত প্রস্তুতির পরও শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিল করেছেন। ফলে এবারের পরিকল্পনাটি তিনি শেষ পর্যন্ত অনুমোদন করবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এদিকে তেহরান নতুন হামলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ৭২ ঘণ্টার অভিযানের ধারণা একটি কল্পনাপ্রসূত চিন্তা। তেহরানের বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে ইরান সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে আঘাত হানার মাধ্যমে তেলের দাম বাড়িয়ে দেবে, যা মার্কিন জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এছাড়া তারা ডেটা সেন্টার ও সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণের হুমকি দিয়েছে।

আগামী নভেম্বরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তির পূর্ণ সমাবেশ ঘটবে, যেখানে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও হাজার হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন থাকবে। তবে ২৭শে অক্টোবর ইসরাইলি নির্বাচন এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। নির্বাচন ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি এড়িয়ে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত কোনো বড় পদক্ষেপে যাননি। তবে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের বিকল্প এখনো তাদের হাতে উন্মুক্ত রয়েছে।