লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনে প্রটোকল লঙ্ঘন: বিভাগীয় কমিশনার প্রত্যাহার

রাজশাহী সফর শেষে গত মঙ্গলবার শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে বিদায়ের সময় প্রধানমন্ত্রী প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করছিলেন। সেই পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী প্রধানমন্ত্রীর দিকে হাত বাড়িয়ে করমর্দন করার সময় এক ধাপ এগিয়ে যান এবং অন্য হাত দিয়ে পেছন থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। এই অস্বাভাবিক আচরণের সময় প্রধানমন্ত্রী কিছুটা পিছিয়ে যান এবং তাঁকে লাইনে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সরকারি প্রটোকল ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই ইউসুফ আলীকে বিভাগীয় কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে এমন বিতর্কিত ঘটনা এটিই প্রথম নয়। সম্প্রতি বাগেরহাটে একটি অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন বেজে ওঠা ও কথা বলার কারণে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জেলার সিভিল সার্জনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এসব ঘটনা সরকারি কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রাচার ও পেশাগত আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন, সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্যে রাষ্ট্রাচার, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের মান বর্তমানে তলানিতে নেমেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৩ সালে বনিয়াদি প্রশিক্ষণে শেখানো হয়েছিল যে, হ্যান্ডশেকের ক্ষেত্রে জুনিয়র আগে হাত বাড়াবেন না, বরং সিনিয়র হাত বাড়ালে তবেই করমর্দন করতে হয়।

রাষ্ট্রাচার হলো রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত রীতি, যার আওতায় অভ্যর্থনা, আসনবিন্যাস এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান পরিচালনার নিয়মাবলি পড়ে। অন্যদিকে, শিষ্টাচার হলো ব্যক্তির ভদ্রতা, সৌজন্য ও অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আচরণ। বিপিএটিসিতে বিসিএস কর্মকর্তাদের বনিয়াদি প্রশিক্ষণে এসব বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের ঘাটতি ও নিয়মিত চর্চার অভাব কর্মকর্তাদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

আবদুল আউয়াল মজুমদার জানান, প্রশিক্ষণের নিম্নমান, রাজনৈতিক সংযোগ এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন না হওয়া কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের অবনমনের কারণ হতে পারে। তিনি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যা অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সীমা লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শিষ্টাচার মানার অর্থ অযৌক্তিক আনুগত্য নয়; বরং সরকারি কর্মকর্তারা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করেন বলে তাদের আচরণে দায়িত্ববোধ, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি থাকা অপরিহার্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশি আহত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনে প্রটোকল লঙ্ঘন: বিভাগীয় কমিশনার প্রত্যাহার

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী সফর শেষে গত মঙ্গলবার শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে বিদায়ের সময় প্রধানমন্ত্রী প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করছিলেন। সেই পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী প্রধানমন্ত্রীর দিকে হাত বাড়িয়ে করমর্দন করার সময় এক ধাপ এগিয়ে যান এবং অন্য হাত দিয়ে পেছন থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। এই অস্বাভাবিক আচরণের সময় প্রধানমন্ত্রী কিছুটা পিছিয়ে যান এবং তাঁকে লাইনে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সরকারি প্রটোকল ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই ইউসুফ আলীকে বিভাগীয় কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে এমন বিতর্কিত ঘটনা এটিই প্রথম নয়। সম্প্রতি বাগেরহাটে একটি অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন বেজে ওঠা ও কথা বলার কারণে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জেলার সিভিল সার্জনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এসব ঘটনা সরকারি কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রাচার ও পেশাগত আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন, সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্যে রাষ্ট্রাচার, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের মান বর্তমানে তলানিতে নেমেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৩ সালে বনিয়াদি প্রশিক্ষণে শেখানো হয়েছিল যে, হ্যান্ডশেকের ক্ষেত্রে জুনিয়র আগে হাত বাড়াবেন না, বরং সিনিয়র হাত বাড়ালে তবেই করমর্দন করতে হয়।

রাষ্ট্রাচার হলো রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত রীতি, যার আওতায় অভ্যর্থনা, আসনবিন্যাস এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান পরিচালনার নিয়মাবলি পড়ে। অন্যদিকে, শিষ্টাচার হলো ব্যক্তির ভদ্রতা, সৌজন্য ও অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আচরণ। বিপিএটিসিতে বিসিএস কর্মকর্তাদের বনিয়াদি প্রশিক্ষণে এসব বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের ঘাটতি ও নিয়মিত চর্চার অভাব কর্মকর্তাদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

আবদুল আউয়াল মজুমদার জানান, প্রশিক্ষণের নিম্নমান, রাজনৈতিক সংযোগ এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন না হওয়া কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের অবনমনের কারণ হতে পারে। তিনি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যা অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সীমা লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শিষ্টাচার মানার অর্থ অযৌক্তিক আনুগত্য নয়; বরং সরকারি কর্মকর্তারা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করেন বলে তাদের আচরণে দায়িত্ববোধ, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি থাকা অপরিহার্য।